'আমেরিকাতেও প্রতিবাদ হয়!' ভারত সফরে আরশোলাদের প্রতিবাদ প্রসঙ্গ এড়িয়ে গেলেন রুবিও - 24 Ghanta Bangla News
Home

‘আমেরিকাতেও প্রতিবাদ হয়!’ ভারত সফরে আরশোলাদের প্রতিবাদ প্রসঙ্গ এড়িয়ে গেলেন রুবিও

Spread the love

মুম্বই: মার্কিন বিদেশ মন্ত্রী মার্কো রুবিও ৩ দিনের ভারত সফরে। (Marco Rubio)তবে দেশের অভ্যন্তরীণ প্রতিবাদ নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাইলেন না রুবিও। তিনি স্পষ্ট করে…

মুম্বই: মার্কিন বিদেশ মন্ত্রী মার্কো রুবিও ৩ দিনের ভারত সফরে। (Marco Rubio)তবে দেশের অভ্যন্তরীণ প্রতিবাদ নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাইলেন না রুবিও। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, এটি একটি গার্হস্থ্য রাজনৈতিক বিষয়। ভারত একটি গণতন্ত্র, এখানে নির্বাচন হয় এবং তিনি সেই অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিষয়ে মতামত দেবেন না। আমেরিকাতেও প্রতিদিন প্রতিবাদ হয়। রুবিওর এই অবস্থানকে ভারতের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রতি সম্মান হিসেবে দেখছেন কূটনীতিকরা।

ফক্স নিউজসহ বিভিন্ন মাধ্যমে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রুবিও বলেন, ‘ডমেস্টিক পলিটিক্যাল ম্যাটার, দিস ইজ এ ডেমোক্রেসি, দে হ্যাভ ইলেকশন হিয়ার, উই ওয়ান্ট ওপাইন অন দেয়ার ডমেস্টিক পলিটিক্যাল ম্যাটার। উই হ্যাভ প্রোটেস্টস ইন ইউএস এভরি ডে।’ তিনি জোর দিয়ে বলেন, প্রতিবাদ হওয়াটাই গণতান্ত্রিক দেশের বৈশিষ্ট্য।

আরও দেখুনঃ ‘পরমাণু অস্ত্র আছে, পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন নয়!’ ভারত সফরে স্পষ্ট করলেন রুবিও

কিন্তু ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে আমেরিকা কোনো মন্তব্য করবে না। (Marco Rubio)রাষ্ট্র সংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা ভারতে প্রতিবাদকারীদের ওপর পুলিশি পদক্ষেপ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। সেই প্রসঙ্গে রুবিও ব্যঙ্গ করে বলেন, ‘ইউএন এক্সপার্টস’ শব্দটিই এক ধরনের অক্সিমরন।

বিরোধী দল ও ছাত্রদের কিছু বিক্ষোভের বিষয়ে রাষ্ট্র সংঘের বিশেষজ্ঞরা সমালোচনা করেছিলেন। ভারত সরকার সেই সমালোচনাকে অস্বীকৃত তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। রুবিও স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে তিনি ভারতের রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করবেন না। তিনি শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকে গণতন্ত্রের অংশ বলে মনে করেন এবং দাঙ্গা বা ভাঙচুরের সঙ্গে তার পার্থক্য টানেন।

এই অবস্থানকে অনেকেই পশ্চিমা দেশগুলোর নীতির ইতিবাচক পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন। কিছুদিন আগে ব্রিটেনের বাণিজ্যমন্ত্রীও ভারতের প্রতিবাদ নিয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে ভারতীয় গণতন্ত্রের প্রশংসা করেছিলেন। রাষ্ট্র সংঘের মানবাধিকার অফিসের কিছু বিতর্কিত মন্তব্যের প্রেক্ষাপটে এই ধরনের সংযত অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। রুবিও কিউবার উদাহরণ দিয়ে বলেছেন, যেখানে বিরোধী কণ্ঠস্বর দমন করা হয়, সেখানকার পরিস্থিতির সঙ্গে ভারতের কোনো তুলনা চলে না।

মার্কো রুবিও বর্তমানে ভারতে সরকারি সফরে আছেন। মুম্বইতে তিনি বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকরের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। (Marco Rubio)বাণিজ্য, জ্বালানি, প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সফরের মধ্যেই এই মন্তব্য ভারত-মার্কিন সম্পর্কের গভীরতা এবং পারস্পরিক সম্মানের ইঙ্গিত দিচ্ছে। আমেরিকা ভারতকে একটি পরিণত গণতন্ত্র হিসেবে দেখছে এবং অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতি নিয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ধরনের অবস্থান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও মজবুত করবে। আগে পশ্চিমা দেশগুলো অনেক সময় ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে মন্তব্য করত। এখন সেই প্রবণতায় পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। রুবিও স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে ভারতের জনগণই তাদের রাজনৈতিক বিষয় নির্ধারণ করবে। গণতন্ত্রে প্রতিবাদ স্বাভাবিক এবং আমেরিকাতেও তা ঘটে। তাই ভারতের বিষয়ে কোনো মতামত না দেওয়াই সঠিক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *