৪০০ কিমির বেশি রেঞ্জ! ২০২৭-এ আসছে হুন্ডাইয়ের সস্তার ইলেকট্রিক এসইউভি - 24 Ghanta Bangla News
Home

৪০০ কিমির বেশি রেঞ্জ! ২০২৭-এ আসছে হুন্ডাইয়ের সস্তার ইলেকট্রিক এসইউভি

Spread the love

গুরুগাঁও: টাটা নেক্সন ইভি, পাঞ্চ ইভি এবং মাহিন্দ্রা এক্সইউভি ৩এক্সও ইভির সঙ্গে পাল্লা দিতে নতুন কমপ্যাক্ট ইলেকট্রিক এসইউভি আনতে চলেছে হুন্ডাই। সংস্থার নতুন মডেলটির অভ্যন্তরীণ কোডনাম এইচই১আই। সব পরিকল্পনা ঠিক থাকলে ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে ভারতে গাড়িটির আত্মপ্রকাশ হতে পারে। মূল লক্ষ্য, তুলনামূলক সাশ্রয়ী দামে বেশি সংখ্যক ক্রেতার কাছে পৌঁছনো। সম্ভাব্য ব্যাটারি, আধুনিক প্রযুক্তি এবং ৪০০ কিলোমিটারের বেশি রেঞ্জের প্রত্যাশা ঘিরে ইতিমধ্যেই গাড়িটি নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

নতুন এসইউভিটির ডিজাইন হুন্ডাইয়ের বর্তমানে বিক্রি হওয়া অন্যান্য মূলধারার এসইউভির তুলনায় আলাদা হতে পারে। ভারতীয় বাজারের কথা মাথায় রেখেই এটি তৈরি করা হচ্ছে। তবে গাড়িটির চূড়ান্ত নাম, দাম, ব্যাটারির ক্ষমতা এবং প্রকৃত রেঞ্জ সম্পর্কে এখনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি।

কিয়া সিরোস ইভির ব্যাটারি পেতে পারে নতুন হুন্ডাই

নতুন হুন্ডাই ইলেকট্রিক এসইউভির স্ট্যান্ডার্ড রেঞ্জ সংস্করণে কিয়া সিরোস ইভির ৪২ কিলোওয়াট-আওয়ারের ব্যাটারি ব্যবহার করা হতে পারে বলে প্রতিবেদনে অনুমান করা হয়েছে। কিয়া সিরোস ইভির এই সংস্করণে সামনের দিকে বসানো বৈদ্যুতিক মোটর সর্বোচ্চ ১৩৫ এইচপি শক্তি এবং ২৫৫ এনএম টর্ক উৎপন্ন করে। সংস্থার দাবি অনুযায়ী, একবার সম্পূর্ণ চার্জে এর রেঞ্জ ৪৪৩ কিলোমিটার।

এই ব্যাটারি ও মোটর ব্যবহার করা হলে হুন্ডাইয়ের নতুন এসইউভিও একবার চার্জে ৪০০ কিলোমিটারের বেশি চলার ক্ষমতা পেতে পারে। তবে এটি এখনও সম্ভাবনা, নিশ্চিত স্পেসিফিকেশন নয়। গাড়ির ওজন, ব্যাটারি ব্যবস্থাপনা, মোটরের দক্ষতা এবং পরীক্ষার পদ্ধতির উপর প্রকৃত রেঞ্জ নির্ভর করবে।

কিয়া সিরোস ইভির ৫১.৪ কিলোওয়াট-আওয়ারের বড় ব্যাটারি সংস্করণও রয়েছে। এই সংস্করণে মোটরের শক্তি ১৭১ এইচপি এবং টর্ক ২৫৫ এনএম। হুন্ডাইয়ের নতুন মডেলে বড় ব্যাটারি দেওয়া হবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

স্ট্যান্ডার্ড ও লং রেঞ্জ, দুই সংস্করণের সম্ভাবনা

এইচই১আই মডেলটি স্ট্যান্ডার্ড রেঞ্জ এবং লং রেঞ্জ, এই দুই সংস্করণে আসতে পারে। আন্তর্জাতিক বাজারে বিক্রি হওয়া হুন্ডাই ইনস্টার ইভির ব্যাটারির বিকল্পগুলি থেকে সম্ভাব্য প্রযুক্তি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।

হুন্ডাই ইনস্টারের স্ট্যান্ডার্ড রেঞ্জ সংস্করণে রয়েছে ৪২ কিলোওয়াট-আওয়ারের ব্যাটারি। এর মোটর ৯৭ এইচপি শক্তি এবং ১৪৭ এনএম টর্ক উৎপন্ন করে। বড় ৪৯ কিলোওয়াট-আওয়ারের ব্যাটারিযুক্ত লং রেঞ্জ সংস্করণে মোটরের শক্তি বেড়ে ১১৫ এইচপি হয়, যদিও টর্ক একই থাকে। আন্তর্জাতিক পরীক্ষাপদ্ধতি ডব্লিউএলটিপি অনুযায়ী, এই দুই সংস্করণের ঘোষিত রেঞ্জ যথাক্রমে ৩০০ ও ৩৫৫ কিলোমিটার।

তবে ইনস্টার এবং ভারতের জন্য তৈরি হতে চলা এইচই১আই একই গাড়ি নয়। তাই ইনস্টারের ব্যাটারি, মোটর বা রেঞ্জের তথ্যকে নতুন ভারতীয় মডেলের নিশ্চিত স্পেসিফিকেশন হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।

ব্যাটারি উৎপাদনে বদল, প্রথমে এসভোল্টের সেল

নতুন ইলেকট্রিক এসইউভির প্রাথমিক উৎপাদন পর্যায়ে এসভোল্টের তৈরি ব্যাটারি সেল ব্যবহার করা হতে পারে। পরবর্তী সময়ে ভারতে ব্যাটারি সেল উৎপাদন শুরু হলে এক্সাইডের সঙ্গে অংশীদারির মাধ্যমে স্থানীয়ভাবে সেল সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে হুন্ডাইয়ের।

স্থানীয়ভাবে ব্যাটারি সেল সংগ্রহ করতে পারলে আমদানির উপর নির্ভরতা কমানো এবং সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার সুযোগ তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি উৎপাদন খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখার ক্ষেত্রেও তা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তবে এই ব্যবস্থার ফলে গাড়ির চূড়ান্ত দাম কতটা কমবে, তা এখনও জানা যায়নি।

গাড়িটি হুন্ডাইয়ের ই-জিএমপি (কে) প্ল্যাটফর্মের উপর তৈরি হবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তামিলনাড়ুর শ্রীপেরুম্বুদুর কারখানায় এর উৎপাদন হওয়ার কথা।

ফিচারে থাকবে লেভেল-২ এডিএএস ও বড় টাচস্ক্রিন

নতুন হুন্ডাই ইলেকট্রিক এসইউভিতে আধুনিক প্রযুক্তির উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে। সম্ভাব্য ফিচারের তালিকায় রয়েছে লেভেল-২ এডিএএস, অর্থাৎ উন্নত চালক-সহায়ক প্রযুক্তির একাধিক ব্যবস্থা। পাশাপাশি থাকবে প্লিওস-ভিত্তিক ইনফোটেনমেন্ট সিস্টেম এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-নির্ভর কিছু সুবিধা।

গাড়িতে দুটি ১০.২৫ ইঞ্চির ডিসপ্লে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। একটি থাকবে ইনফোটেনমেন্ট ব্যবস্থার জন্য, অন্যটি চালকের সামনে ডিজিটাল যন্ত্রাংশের ডিসপ্লে হিসেবে কাজ করবে। এ ছাড়াও সম্ভাব্য ফিচারের তালিকায় রয়েছে স্বয়ংক্রিয় জলবায়ু নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, ৩৬০ ডিগ্রি ক্যামেরা, ভেন্টিলেটেড আসন এবং অটো-ডিমিং আইআরভিএম বা স্বয়ংক্রিয়ভাবে আলো নিয়ন্ত্রণকারী ভিতরের রিয়ার-ভিউ মিরর।

তবে এই ফিচারগুলি সব ভ্যারিয়েন্টে থাকবে কি না, তা নিশ্চিত নয়। চূড়ান্ত সরঞ্জাম তালিকা ও ভ্যারিয়েন্টভিত্তিক সুবিধা জানতে সংস্থার আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষা করতে হবে।

টাটা ও মাহিন্দ্রার ইলেকট্রিক এসইউভিকে চ্যালেঞ্জ

ভারতের কমপ্যাক্ট ইলেকট্রিক এসইউভির বাজারে ইতিমধ্যেই টাটা মোটরস এবং মাহিন্দ্রার একাধিক মডেল রয়েছে। কিয়া সিরোস ইভিও এই প্রতিযোগিতায় নতুন বিকল্প হিসেবে এসেছে। এই পরিস্থিতিতে হুন্ডাইয়ের নতুন মডেলের সাফল্য নির্ভর করবে দাম, বাস্তব রেঞ্জ, চার্জিংয়ের সুবিধা, ফিচার এবং বিক্রয়োত্তর পরিষেবার উপর।

নতুন মডেলটি সাশ্রয়ী মূল্যের মধ্যে ভালো রেঞ্জ ও আধুনিক প্রযুক্তি দিতে পারলে বাজারে প্রতিযোগিতা আরও বাড়তে পারে। তবে গাড়িটির দাম, ব্যাটারির চূড়ান্ত ক্ষমতা এবং লঞ্চের নির্দিষ্ট তারিখ এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি।

২৬ অক্টোবর আসছে হুন্ডাই বেয়ন

নতুন ইলেকট্রিক এসইউভির পাশাপাশি হুন্ডাইয়ের ভারতীয় বাজারের জন্য তৈরি বেয়ন মডেলটিও ২৬ অক্টোবর আত্মপ্রকাশ করতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। গাড়িটিতে ১.৫ লিটারের স্বাভাবিকভাবে বায়ু প্রবেশকারী পেট্রল ইঞ্জিন থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। সঙ্গে পাওয়া যেতে পারে ম্যানুয়াল ও আইভিটি গিয়ারবক্সের বিকল্প।

বেয়নকে হুন্ডাই ভেন্যু ও ক্রেটার মাঝামাঝি অবস্থানে রাখা হতে পারে। এর সম্ভাব্য প্রারম্ভিক এক্স-শোরুম দাম ১০ লক্ষ টাকার সামান্য কম হতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। তবে এই দামও এখনও নিশ্চিত নয়।

২০২৭ সালের শুরুতে সম্ভাব্য এইচই১আই ইলেকট্রিক এসইউভি এবং তার আগে বেয়নের আত্মপ্রকাশ হুন্ডাইয়ের ভারতীয় পণ্য পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। এখন নজর সংস্থার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এবং নতুন মডেলগুলির চূড়ান্ত স্পেসিফিকেশনের দিকে।

Essential Business Intelligence, Sharp Market Insights, Practical Personal Finance Advice, Daily Fuel, Gold and Silver Prices and Latest Stories – On Kolkata24x7 Business

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *