সস্তায় পুরনো বাইক কিনে বড় ক্ষতি? অভিজ্ঞ চালকরাও করেন এই ভুল - 24 Ghanta Bangla News
Home

সস্তায় পুরনো বাইক কিনে বড় ক্ষতি? অভিজ্ঞ চালকরাও করেন এই ভুল

Spread the love

নয়াদিল্লি: কম দামে পছন্দের মোটরসাইকেল পাওয়ার সুযোগ কে-ই বা হাতছাড়া করতে চান! নতুন বাইকের তুলনায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের দাম অনেকটাই কম হতে পারে। তার উপর আগের মালিকের করা কিছু আপগ্রেডও পাওয়া যায় বিনা অতিরিক্ত খরচে। কিন্তু শুধু কম দাম দেখে পুরনো বাইক কিনলে পরে মেরামতের খরচে বড় ধাক্কা লাগতে পারে। এমনকী, অভিজ্ঞ বাইকচালকরাও অনেক সময় এই ফাঁদে পড়েন।

কারণ, বিক্রেতার চাওয়া দাম বাইকের প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে পুরো ছবি তুলে ধরে না। বাইরে থেকে চকচকে দেখালেও টায়ার, ব্রেক, সাসপেনশন, ইঞ্জিন বা অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশে সমস্যা থাকতে পারে। তাই ব্যবহৃত বাইক কেনার সময় শুধু দরদাম নয়, গাড়িটির রক্ষণাবেক্ষণের ইতিহাস এবং ভবিষ্যতে সম্ভাব্য খরচও হিসাব করা জরুরি।

কম দাম দেখেই কেন বাইক কেনার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন অনেকে?

পুরনো বাইক কেনার ক্ষেত্রে অনেকেই প্রথমে নিজের বাজেট ঠিক করেন। তারপর অনলাইন বিজ্ঞাপন দেখে সেই দামের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী বা আকর্ষণীয় বাইকটি খুঁজতে থাকেন। একাধিক বাইকের দাম পাশাপাশি তুলনা করা সহজ হওয়ায় কম দামের বিকল্পটি দ্রুত নজর কাড়ে।

কিন্তু সমস্যা হল, এই তুলনায় অনেক সময় বাইকের বর্তমান অবস্থা গুরুত্ব পায় না। একই মডেলের দুটি বাইকের মধ্যে দামের পার্থক্য থাকলে ক্রেতা ধরে নিতে পারেন, সস্তার বাইকটি বেশি লাভজনক। বাস্তবে সেটির রক্ষণাবেক্ষণ ঠিকমতো না হয়ে থাকলে হিসাব সম্পূর্ণ বদলে যেতে পারে।

অভিজ্ঞ চালকদের ক্ষেত্রেও একই সমস্যা দেখা যায়। তাঁরা যন্ত্রাংশের ক্ষয় বা সম্ভাব্য যান্ত্রিক ত্রুটি সম্পর্কে জানেন বলে অনেক সময় ভাবেন, পরে নিজেরাই সমস্যাগুলি মেরামত করে নেবেন। কিন্তু একাধিক সমস্যা একসঙ্গে সামনে এলে মেরামতের খরচ ও সময় দুটোই বেড়ে যেতে পারে।

১ হাজার ডলার বাঁচাতে গিয়ে খরচ বাড়তে পারে আরও বেশি

ধরা যাক, একই মডেলের দুটি ব্যবহৃত মোটরসাইকেল বিক্রি হচ্ছে। একটির দাম ৪,০০০ ডলার, অন্যটির ৫,০০০ ডলার। প্রথম বাইকটি কিনলে শুরুতেই ১,০০০ ডলার সাশ্রয় হবে বলে মনে হতে পারে।

কিন্তু পরে যদি দেখা যায়, সস্তার বাইকটিতে নতুন টায়ার লাগাতে হবে, চেন ও স্প্রকেট বদলাতে হবে, সাসপেনশন সার্ভিসিং করতে হবে এবং ইঞ্জিনের নির্ধারিত রক্ষণাবেক্ষণও বাকি রয়েছে, তাহলে সেই সাশ্রয় দ্রুত শেষ হয়ে যাবে। অতিরিক্ত মেরামতের খরচ ১,০০০ ডলার ছাড়িয়ে গেলে বাইকটিকে নির্ভরযোগ্য অবস্থায় আনতে অন্যটির তুলনায় আরও বেশি অর্থ ব্যয় হতে পারে।

এই উদাহরণটি বোঝায়, বাইকের কেনার দাম এবং মালিকানার মোট খরচ এক বিষয় নয়। যে বাইকের নিয়মিত সার্ভিসিং হয়েছে, সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ভালো মানের যন্ত্রাংশ বদলানো হয়েছে, তার জন্য কিছুটা বেশি দাম দেওয়া যুক্তিযুক্ত হতে পারে।

কোন কোন খরচ ক্রেতাদের অপ্রস্তুত করে দেয়?

পুরনো বাইক কেনার সময় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ খরচ সহজেই চোখ এড়িয়ে যায়।

  • টায়ার: টায়ারে যথেষ্ট খাঁজ থাকলেও রাবার পুরনো হয়ে যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে দেখতে ভালো লাগলেও নিরাপত্তার কারণে টায়ার বদলানো প্রয়োজন হতে পারে।
  • ব্রেক: ব্রেক প্যাড, ডিস্ক ও অন্যান্য অংশ ক্ষয়ে গেলে মেরামত বা প্রতিস্থাপনের খরচ বাড়ে।
  • চেন ও স্প্রকেট: দীর্ঘদিন ব্যবহার করা হলে এই অংশগুলির সম্পূর্ণ সেট বদলানোর প্রয়োজন হতে পারে।
  • সাসপেনশন: ফর্ক সিল বা সাসপেনশনের অন্যান্য অংশে সমস্যা থাকলে পেশাদার মেরামতের দরকার হতে পারে।
  • ইঞ্জিনের রক্ষণাবেক্ষণ: নির্ধারিত সময়ে ভালভ ক্লিয়ারেন্স পরীক্ষা বা অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সার্ভিসিং না হলে পরবর্তী খরচ বাড়তে পারে।
  • ব্যাটারি ও ইলেকট্রিক্যাল সিস্টেম: পুরনো ব্যাটারি, ক্ষতিগ্রস্ত তার বা অনিয়মিত বৈদ্যুতিক ত্রুটি খুঁজে বের করতে সময় ও অর্থ দুটোই লাগতে পারে।

এর পাশাপাশি আগের মালিকের করা নিম্নমানের পরিবর্তন, ভুলভাবে বসানো যন্ত্রাংশ, ক্ষতিগ্রস্ত বোল্ট বা নাট এবং বন্ধ হয়ে যাওয়া মডেলের যন্ত্রাংশের অপ্রতুলতাও খরচ বাড়াতে পারে। কিছু সমস্যা সাধারণ সার্ভিসিংয়ে ধরা পড়ে না। ফলে বাইক কেনার পরেই অতিরিক্ত ব্যয়ের মুখে পড়তে পারেন ক্রেতা।

বাইক কেনার আগে কী কী পরীক্ষা করবেন?

শুধু বাইকের বাইরের চেহারা বা বিক্রেতার কথায় ভরসা না করে কয়েকটি বিষয় যাচাই করা উচিত।

প্রথমত, সার্ভিসিংয়ের নথি দেখুন। নির্মাতার সুপারিশ অনুযায়ী গুরুত্বপূর্ণ রক্ষণাবেক্ষণ হয়েছে কি না, তা যাচাই করুন। শুধু মৌখিক আশ্বাসের বদলে সার্ভিস রেকর্ড বা বিল দেখতে চান।

দ্বিতীয়ত, টায়ার ও যন্ত্রাংশ পরীক্ষা করুন। টায়ারের ক্ষয় ও বয়স, চেন-স্প্রকেটের অবস্থা, ব্রেক, সাসপেনশন এবং ইঞ্জিনের চারপাশে তেল বা তরল লিকেজ আছে কি না দেখুন।

তৃতীয়ত, ঠান্ডা ইঞ্জিন চালু করে দেখুন। ইঞ্জিন গরম হওয়ার পর কিছু সমস্যা আর বোঝা যায় না। তাই সম্ভব হলে বাইকটি আগে থেকে গরম না করেই স্টার্ট করে শব্দ, ধোঁয়া বা অস্বাভাবিক আচরণ লক্ষ্য করুন।

চতুর্থত, নিরাপদ হলে টেস্ট রাইড করুন। অস্বাভাবিক কম্পন, গিয়ার পরিবর্তনে সমস্যা, ব্রেকের অসংগতি বা বাইক সোজা চলতে অসুবিধা হচ্ছে কি না খেয়াল করুন।

পঞ্চমত, কাগজপত্র যাচাই করুন। বাইকের চেসিস ও ইঞ্জিন নম্বর, রেজিস্ট্রেশন এবং মালিকানার নথি মিলিয়ে দেখুন। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও মালিকানা হস্তান্তরের বিষয়টি নিশ্চিত না হয়ে টাকা দেবেন না।

মেকানিক দিয়ে পরীক্ষা করানো কি লাভজনক?

আপনি অভিজ্ঞ বাইকচালক হলেও নির্দিষ্ট মডেলের সব সাধারণ ত্রুটি সম্পর্কে জানা নাও থাকতে পারে। তাই বাইক কেনার আগে দক্ষ মেকানিক দিয়ে পরীক্ষা করানো ভালো সিদ্ধান্ত হতে পারে। বিশেষ করে দামি ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশ, মডেল-নির্দিষ্ট পার্টস বা জটিল ইঞ্জিনের ক্ষেত্রে এই পরীক্ষা ভবিষ্যতের বড় খরচ এড়াতে সাহায্য করতে পারে।

বাইকটিতে কী কী সমস্যা রয়েছে, তা জানা গেলে প্রতিটি মেরামতের আনুমানিক খরচ হিসাব করুন। এরপর সেই খরচকে বিক্রেতার চাওয়া দামের সঙ্গে যোগ করে দেখুন, বাইকটি সত্যিই সাশ্রয়ী কি না। দরদামের সময় এই তথ্য কাজে লাগবে। তবে মেরামতের খরচ বেশি হলে শুধু কম দামের কারণে বাইকটি কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়।

সব সস্তা বাইক খারাপ নয়, তবে উদ্দেশ্য বুঝে কিনুন

কম দামের সব ব্যবহৃত মোটরসাইকেল যে খারাপ, তা নয়। কোনও মালিকের দ্রুত বাইক বিক্রির প্রয়োজন হতে পারে, আবার কেউ নিজের বাইকের প্রকৃত বাজারদর সম্পর্কে কম জানতেও পারেন। অন্যদিকে, বেশি দাম চাইলেই যে বাইকটি ভালোভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়েছে, তারও নিশ্চয়তা নেই।

যাঁরা নিজেরা বাইক মেরামত করতে পারেন, যন্ত্রপাতি রয়েছে এবং পুরনো বাইক নতুন করে তৈরি করার আগ্রহ আছে, তাঁদের জন্য মেরামতের প্রয়োজন এমন বাইকও ভালো প্রকল্প হতে পারে। কিন্তু প্রতিদিন অফিস যাতায়াত, দীর্ঘ সফর বা সপ্তাহান্তে বাইক চালানোর জন্য নির্ভরযোগ্য মোটরসাইকেল চাইলে অজানা সমস্যা থাকা বাইক কেনা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

শেষ পর্যন্ত সেরা ব্যবহৃত বাইক সেটিই, যার দাম, বর্তমান অবস্থা এবং রক্ষণাবেক্ষণের ইতিহাসের মধ্যে সামঞ্জস্য রয়েছে। কেনার দিন কিছু টাকা বাঁচানোর চেয়ে দীর্ঘদিন নিশ্চিন্তে বাইক চালাতে পারা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, সত্যিকারের সাশ্রয় শুধু কম দামে বাইক কেনায় নয়, কেনার পর অপ্রত্যাশিত মেরামত ও অতিরিক্ত খরচ এড়াতেও।

Essential Business Intelligence, Sharp Market Insights, Practical Personal Finance Advice, Daily Fuel, Gold and Silver Prices and Latest Stories – On Kolkata24x7 Business

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *