২০২৮ এই নিজস্ব যোগাযোগ উপগ্রহ পেতে চলেছে ভারতীয় সেনা বাহিনী
নয়াদিল্লি: ভারতীয় সেনাবাহিনী শিগগিরই নিজস্ব যোগাযোগ উপগ্রহ পাচ্ছে।(GSAT-7B) উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আইএসআরও প্রায় ২০২৮ সালের মাঝামাঝি সময়ে সেনাবাহিনীর জন্য নিবেদিত প্রথম যোগাযোগ উপগ্রহ জিএসএটি-৭বি উৎক্ষেপণ…
নয়াদিল্লি: ভারতীয় সেনাবাহিনী শিগগিরই নিজস্ব যোগাযোগ উপগ্রহ পাচ্ছে।(GSAT-7B) উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আইএসআরও প্রায় ২০২৮ সালের মাঝামাঝি সময়ে সেনাবাহিনীর জন্য নিবেদিত প্রথম যোগাযোগ উপগ্রহ জিএসএটি-৭বি উৎক্ষেপণ করবে। এই উপগ্রহটি দূরবর্তী সীমান্ত এলাকা ও কঠিন ভূখণ্ডে সুরক্ষিত, চব্বিশ ঘণ্টা যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করবে। ফলে সেনাবাহিনীর দৈনন্দিন অভিযান এবং যুদ্ধক্ষেত্রে কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে।
এতদিন সেনাবাহিনীর নিজস্ব কোনো নিবেদিত যোগাযোগ উপগ্রহ ছিল না। নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর নিজস্ব উপগ্রহ থাকলেও সেনাবাহিনী বিমানবাহিনীর জিএসএটি-৭এ-এর (GSAT-7B)ওপর নির্ভর করত। এই ঘাটতি পূরণে ২০২৩ সালের মার্চে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আইএসআরওর বাণিজ্যিক শাখা নিউস্পেস ইন্ডিয়া লিমিটেডের সঙ্গে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকার চুক্তি স্বাক্ষর করে। সেই প্রকল্প এখন বাস্তবায়নের পথে।
আরও দেখুনঃ
উপগ্রহটি পাঁচ টন ওজনের জিওস্টেশনারি স্যাটেলাইট হবে, যা এখন পর্যন্ত ভারতের সবচেয়ে ভারী যোগাযোগ উপগ্রহ। এটি মোতায়েনকৃত সেনা, বিভিন্ন ফরমেশন, অস্ত্র ব্যবস্থা এবং মিশন-সম্পর্কিত সম্পদের জন্য দৃষ্টিসীমার বাইরের যোগাযোগ নিশ্চিত করবে। (GSAT-7B)সীমান্তের দুর্গম এলাকায় যেখানে সাধারণ যোগাযোগ ব্যবস্থা দুর্বল বা অনুপস্থিত, সেখানে এই উপগ্রহটি বড় ভূমিকা রাখবে। কর্মকর্তারা বলছেন, এতে সেনাবাহিনীর নেটওয়ার্ক-কেন্দ্রিক যুদ্ধক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।
মূলত প্রযুক্তিগত কারণে উৎক্ষেপণের সময়সূচি কিছুটা পিছিয়েছে। আগে ২০২৭ সালের নভেম্বরে উৎক্ষেপণের কথা ছিল, এখন তা ছয় মাস পিছিয়ে ২০২৮ সালের মাঝামাঝি হয়ে গেছে। তবুও এই বিলম্বকে বড় বাধা হিসেবে দেখা হচ্ছে না। কারণ প্রকল্পটি ইতিমধ্যে অনেকদূর এগিয়েছে এবং সেনাবাহিনীর দীর্ঘদিনের চাহিদা পূরণের পথে রয়েছে।
আধুনিক যুদ্ধে নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য যোগাযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শত্রুপক্ষ যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত করার চেষ্টা করতে পারে। (GSAT-7B )এমন পরিস্থিতিতে নিজস্ব নিবেদিত উপগ্রহ থাকলে সেনাবাহিনী আরও স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবে। সীমান্তের দূরবর্তী চৌকি থেকে শুরু করে মূল সদর দপ্তর পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্ন সংযোগ থাকবে। এতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের গতি বাড়বে এবং সমন্বয় আরও কার্যকর হবে।
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, তিন বাহিনীর নিজস্ব যোগাযোগ উপগ্রহ থাকলে সমন্বিত অভিযান আরও সহজ হবে। নৌবাহিনীর জিএসএটি-৭ এবং জিএসএটি-৭আর, বিমানবাহিনীর জিএসএটি-৭এ এবং আসন্ন জিএসএটি-৭সি এসবের পাশাপাশি সেনাবাহিনীর জিএসএটি-৭বি যুক্ত হলে ভারতের সামরিক যোগাযোগ ব্যবস্থা অনেক বেশি শক্তিশালী ও স্থিতিস্থাপক হয়ে উঠবে।
এই প্রকল্প শুধু প্রযুক্তিগত অগ্রগতি নয়, আত্মনির্ভর ভারতের অঙ্গীকারেরও প্রতিফলন। দেশীয়ভাবে ডিজাইন ও তৈরি উপগ্রহ সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে। এতে বিদেশি ব্যবস্থার ওপর নির্ভরতা কমবে এবং জাতীয় নিরাপত্তা আরও সুরক্ষিত হবে। সীমান্তে মোতায়েনকৃত সেনারা এখন আরও নিশ্চিন্তে কাজ করতে পারবেন, কারণ তাদের যোগাযোগ ব্যবস্থা শক্তিশালী হাতে থাকবে।