মহাকাশে পাড়ি দেবেন ভারতীয়রা! গগনযান মিশনের আগে বড় ধরনের পরীক্ষা চালাল ইসরো
ISRO: ভারতের প্রথম মানব মহাকাশ মিশন ‘গগনযান’-এর প্রস্তুতি জোরদার হয়েছে। ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা (ইসরো) গগনযানের ক্রু মডিউলটিকে সার্ভিস মডিউল থেকে আলাদা করার প্রক্রিয়াসংক্রান্ত বেশ…
ISRO: ভারতের প্রথম মানব মহাকাশ মিশন ‘গগনযান’-এর প্রস্তুতি জোরদার হয়েছে। ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা (ইসরো) গগনযানের ক্রু মডিউলটিকে সার্ভিস মডিউল থেকে আলাদা করার প্রক্রিয়াসংক্রান্ত বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন করেছে। মিশনের নিরাপত্তার খাতিরে এই পরীক্ষাগুলো অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ইসরো এখন ২০২৬ সালে গগনযান মিশনের প্রথম মানববিহীন ফ্লাইট উৎক্ষেপণের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
এই পরীক্ষাটি কেন প্রয়োজন?
গগনযান অরবিটাল মডিউলটি দুটি প্রধান অংশ নিয়ে গঠিত। প্রথমটি হলো ক্রু মডিউল (CM), যেখানে নভোচারীরা অবস্থান করবেন। দ্বিতীয়টি হলো সার্ভিস মডিউল (SM), যা পুরো মিশন জুড়ে প্রয়োজনীয় পরিষেবা প্রদান করে। গগনযান উৎক্ষেপণের সময় এই দুটি মডিউল একে অপরের সাথে যুক্ত থাকে এবং মহাকাশে পৌঁছানো পর্যন্ত সম্মিলিতভাবে কাজ করে।
দুটি মডিউলের মধ্যে বিদ্যুৎ ও অন্যান্য পরিষেবার জন্য সংযোগ রয়েছে। ক্রু মডিউলটিকে যখন পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনার প্রয়োজন হয়, তখন এই সংযোগগুলো বিচ্ছিন্ন করতে হয় এবং মডিউলটিকে সার্ভিস মডিউল থেকে আলাদা করতে হয়। পুরো প্রক্রিয়াটি একটি সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি অনুসরণ করে সম্পন্ন করা হয়, যার মধ্যে বিভিন্ন প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা ও পৃথকীকরণ কৌশলের সমন্বিত কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত থাকে। এই প্রক্রিয়ার সময় কোনো ধরনের ত্রুটি দেখা দিলে তা ক্রু মডিউলের প্রত্যাবর্তনের প্রক্রিয়াকে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে। এই কারণেই ইসরো (ISRO) পুরো ব্যবস্থার ওপর বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়েছে।
তিরুবনন্তপুরমে পরীক্ষা সম্পন্ন
ইসরো (ISRO)-র এই পরীক্ষাটি কেরালা রাজ্যের তিরুবনন্তপুরমে অবস্থিত বিক্রম সারাভাই স্পেস সেন্টারে পরিচালিত হয়। একটি প্রকৃত অভিযানের সময় যে প্রক্রিয়াগুলো ঘটবে, তা মূল্যায়ন করার লক্ষ্যে ক্রু মডিউল (crew module) ও সার্ভিস মডিউল (service module)-কে একত্রিত করে একটি কাঠামো তৈরি করা হয়েছিল। এছাড়া, মডিউল দুটির মধ্যে থাকা বিভিন্ন সংযোগ নির্ধারিত মুহূর্তে সঠিকভাবে বিচ্ছিন্ন হয় কি না, তাও এই পরীক্ষায় যাচাই করা হয়। পুরো প্রক্রিয়াটি বিভিন্ন বিশেষায়িত যন্ত্রপাতির সাহায্যে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে।
এই সিস্টেমগুলোও পরীক্ষা করা হয়েছিল। মডিউলগুলো আলাদা হওয়ার সময় যে অভিঘাত (shocks) সৃষ্টি হয়, তা যেন মহাকাশযানের গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জামগুলোর ওপর কোনো প্রভাব না ফেলে। তাই, ইসরো (ISRO) বেশ কিছু বিশেষায়িত সিস্টেমের সক্ষমতা ও দৃঢ়তাও যাচাই করে নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে এভিওনিক্স, একটি ইনার্শিয়াল নেভিগেশন সিস্টেম, একটি হিট শিল্ড এবং একটি ডেপ্লয়াবল আম্বিলিক্যাল শিল্ড। এছাড়া, ক্রু মডিউলটিকে সঠিকভাবে দিকনির্ণয় বা বিন্যস্ত করার জন্য ডিজাইন করা সিস্টেম, পাশাপাশি তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণের সরঞ্জামগুলোও পরীক্ষা করা হয়েছে। এই সিস্টেমগুলোর সঠিক কার্যকারিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ; কারণ পৃথিবীতে ফিরে আসার সময় ক্রু মডিউলটিকে তার সঠিক অবস্থান বজায় রাখতে হয় এবং বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের সময় প্রচণ্ড তাপ সহ্য করতে হয়।
২০২৬ সালে মানববিহীন অভিযানের প্রস্তুতি
গগনযান হলো ভারতের মানববাহী মহাকাশ উড্ডয়ন মিশন। এর লক্ষ্য হলো ভারতীয় নভোচারীদের পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে পাঠানো এবং তাদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনা। একটি প্রাথমিক মানববিহীন অভিযানের মাধ্যমে ইসরো (ISRO) মহাকাশযানের বিভিন্ন সিস্টেম এবং নিরাপত্তা-সংক্রান্ত কার্যপদ্ধতি পরীক্ষা করে দেখবে। ‘জি১’ (G1) নামে অভিহিত এই মিশনটি ২০২৬ সালে উৎক্ষেপণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এই মিশন থেকে প্রাপ্ত ফলাফলের ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তী প্রস্তুতির পদক্ষেপ নেওয়া হবে।