Chorbagan Pandal Stampede: ‘মুখের ওপর জুতোর ছাপ, হাত বার করে ছিল এভাবে!’ চোখের সামনেই শেষ হয়ে গেলেন স্বামীর সামনে বউ, মায়ের সামনে মেয়ে, ছেলের সামনে মা! | Chorbagan Pandal Stampede: Nadia Man Recounts Losing Wife in Saptami Crowd Crush
চোরবাগানে মৃতদের আত্মীয়Image Credit: TV9 Bangla
কলকাতা: রিলসে ট্রেন্ডিং হয়ে উঠেছিল। আর সেই রিলস দেখেই নদিয়া থেকে ঠাকুর দেখতে কলকাতায় পাড়ি। সপ্তমীয় সন্ধ্যায় চোরবাগান সর্বজনীনে প্যান্ডেলে এসে পৌঁছন নদিয়ার এক বাসিন্দা। তাঁর স্ত্রী ও শ্যালিকার মেয়েকে ঠাকুর দেখাতে নিয়ে এসেছিলেন। লম্বা ভিড়ের মাঝে হঠাৎ শুরু বৃষ্টি! আর তারপর কী হল?
নদিয়ার সেই বাসিন্দা বলেন, “যেই বৃষ্টি শুরু হল, ওরা দড়ি তুলে নিল। সবাইকে হুড়মুড়িয়ে ঢুকিয়ে নিয়েছিল। ঢুকিয়ে দেওয়ার পর আর সামলাতে পারছিল না। বাঁশি বাজাচ্ছিল, বলছে বেরিয়ে যাও। কিন্তু ওতো লোক একবারে বেরোবে কীভাবে! ওই যে ওরা ঠেলল, আর তাতে হুড়মুড়িয়ে যে লোকে পড়ল, আমার বউ আর শ্যালিকার মেয়ে পড়ে যায়। আমার বউয়ের গায়ে ওতো জোর নেই। ও সবার নীচে পড়ে যায়। আমি ছিটকে সরে গিয়েছি অনেক দূর। আমি চেষ্টা করেছিলাম। তুলতে পারলাম না। হাত বার করে ছিল এভাবে! আমি একা হয়ে গেছি।”
সাত বছরের মেয়ে এসেছিল মা অন্যন্যা হাত ধরে ঠাকুর দেখতে। ঘটনার সময়ে মায়ের হাত থেকে ছিটকে যায় সে। আজ, মেডিক্যালে অক্সিজেন দিতে হচ্ছে তাকে। অবস্থা আশঙ্কাজনক। তার দাদু বললেন, “রাস্তা খুব অন্ধকার ছিল। সরু ছিল। কনজেস্টেড জায়গা। হুড়মুড় করে বেরোতে গিয়েই হল। নাতনির অক্সিজেন দিচ্ছে। এক্স রে হচ্ছে।”
মায়ের সঙ্গে মণ্ডপেই ছিলেন ২৫ বছরের সোনু পাল। তাঁর চোখের সামনে পদপিষ্ট হয়ে মারা গিয়েছেন তাঁর মা। এখনও চোখেমুখে আতঙ্ক যুবকের। বললেন, ‘‘আমিও হয়তো বাঁচতাম না।’’
চোরবাগানের সামনের রাস্তা সরু। তাতে হাজার হাজার মানুষের ভিড়। প্রত্যক্ষদর্শীদের একাংশের অভিযোগ, মণ্ডপে প্রবেশ-প্রস্থান এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত ঘোষণা সঠিক ভাবে হয়নি। তার জেরে ঠাকুর দেখতে আসা মানুষজনের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ায়। তার ফলে দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের অভিযোগ, পর্যাপ্ত পুলিশ ছিল না মণ্ডপে। কেবলমাত্র ভিআইপি গেটে পুলিশ ছিল। আহতদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে কোনও প্রশাসনিক সাহায্য মেলেনি বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়েরা।