চোরবাগান বিপর্যয়: ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং টিম তৈরির ঘোষণা শুভেন্দুর, ক্ষোভ বিরোধীদের
এই সময়: সপ্তমীর সন্ধ্যায় চোরবাগানে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যুর মিছিল বাঙালিকে নাড়িয়ে দিয়েছে। এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করতে ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি গঠনের কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একই সঙ্গে কলকাতার সমস্ত পুজোর ভিড় ম্যানেজমেন্ট খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। যদি কোথাও ভিড় ম্যানেজেমেন্ট ত্রুটি থাকে তা হলে সেই মণ্ডপ দর্শন বন্ধ রেখে ত্রুটি সংশোধন করার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। চোরবাগানের ঘটনা নিয়ে শুভেন্দু বলেন, ‘ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং টিম গঠন করা হচ্ছে। ওখানের সিসিটিভি ফুটেজ দেখা হবে। কারা দায়িত্বে ছিলেন সব খতিয়ে দেখা হবে। পুজো কমিটিগুলো থিমের জন্য ভিতরে অন্ধকার করে রেখে দেয়। ডিজি আর মুখ্যসচিব সবটা দেখছেন।’ চোরবাগান পুজো মণ্ডপের মাইকে কোনও অসঙ্গতিপূর্ণ ঘোষণা এই দুর্ঘটনার সূত্রপাত বলে শুভেন্দু ইঙ্গিত দিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে শনিবার রাতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিবৃতি পিএমও–র এক্স হ্যান্ডলে পোস্ট করে মৃতদের পরিজনদের ২ লক্ষ টাকা এবং আহতদের ৫০ হাজার টাকা সাহায্য দেওয়ার ঘোষণা করা হয়েছে। মোদীর বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘কলকাতার পদপিষ্টের ঘটনা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। মৃতদের পরিজনকে সমবেদনা জানাই। রাজ্য প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্তদের সমস্ত সাহায্য করছেন।’ রাজ্য সরকারের সমস্ত কর্মসূচি বাতিল করেছেন শুভেন্দু। অমিত শাহ–ও এক্স হ্যান্ডলে লিখেছেন, ‘চোরবাগান দুর্গাপুজো মণ্ডপের ঘটনা নিয়ে আমি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে কথা বলেছি। যে পূ্ণ্যার্থীরা মারা গিয়েছেন তাঁদের আত্মার শান্তি কামনা করছি। পরিবারগুলিকে সমবেদনা জানাচ্ছি। আহতদের চিকিৎসার সমস্ত বন্দোবস্ত প্রশাসন নিশ্চিত করছে। পশ্চিমবঙ্গে রবিবার আমার সমস্ত কর্মসূচি স্থগিত থাকছে। আমি হাসপাতালে গিয়ে আহতদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করব।’
তবে, পুজোর ভিড় ম্যানেজমেন্ট নিয়ে বিরোধী শিবিরের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে রাজ্য সরকার। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী, কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে এই দুর্ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন। রাহুল এক্স হ্যান্ডলে লিখেছেন, ‘প্রশাসনে কাছে আর্জি জানাব, আহতরা যেন দ্রুত উপযুক্ত চিকিৎসা পান। ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। কংগ্রেস কর্মীদের অনুরোধ করব সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে।’ প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় সংযত থাকলেও কালীঘাট তৃণমূলের তরফে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্য সরকারকে নিশানা করেছেন। মমতা এক্স হ্যান্ডলে লিখেছেন, ‘চোরবাগান পুজোমণ্ডপে পদপিষ্টের ঘটনায় আমি শোকাহত ও মর্মাহত। জখমদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি।’ অভিষেক এক্স হ্যান্ডলে লেখেন, ‘পুজোয় বেরিয়ে সাধারণ মানুষকে কেন নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে আতঙ্কে থাকতে হবে? মানুষের জীবনের চেয়ে বড় কোনও অগ্রাধিকার হতে পারে না। এই ঘটনার যথাযথ তদন্ত ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।’
পুজোর শুরু থেকেই বাম দলগুলির সঙ্গে বুক স্টল নিয়ে রাজ্য সরকারের সংঘাত চলছে। চোরবাগানের ঘটনা নিয়ে সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী বলেন, ‘শারদোৎসবের সময়ে এমন দুর্ভাগ্য বাঙালির কখনও হয়নি। এই সময়ে পুলিশ–প্রশাসন মণ্ডপের ভিড় নিয়ন্ত্রণ, যানজট, মানুষের পাশে দাঁড়ানোর কাজে অগ্রাধিকার না দিয়ে বামপন্থীদের বুক স্টল ভাঙতে নেমেছিল। এই দায় সরকার ও পুলিশ–প্রশাসনকে নিতে হবে।’ চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গোৎসব সমিতির এ বছর কমিটি বদল হয়েছে বলে দাবি করেছেন মমতা তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। তাঁর অভিযোগ, ‘আগের কমিটিকে জোর করে ইস্তফা দিতে বাধ্য করিয়ে নতুন কমিটি করা হয়েছিল।’ ওই ইস্তফাপত্রের প্রতিলিপি এবং নতুন কমিটির সদস্যদের নাম ফেসবুকে পোস্ট করেছেন কুণাল। যদিও ‘এই সময়’ ইস্তফাপত্রের সত্যতা যাচাই করেনি। নতুন কমিটিতে বিজেপির বিজয় ওঝা, তমোঘ্ন ঘোষরা রয়েছেন বলে কুণালের দাবি। অন্যদিকে, বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, ‘মৃতদের পরিবারের সঙ্গে কথা হয়েছে। পুরো ঘটনাটি তদন্ত করা হবে।’