চোরবাগানে পদপিষ্ট হয়ে ১৯ মৃত্যু, হাসপাতালে আহতদের দেখতে অমিত শাহ
কলকাতা: কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপুজোর মণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত আরও জোরদার করল পুলিশ। রবিবার আহতদের দেখতে কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে যান…
কলকাতা: কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপুজোর মণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত আরও জোরদার করল পুলিশ। রবিবার আহতদের দেখতে কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে যান কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তাঁর সঙ্গে ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পরে তাঁরা কালীঘাটের কালীমন্দিরেও যান। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত পুজোর আয়োজক কমিটির সদস্য-সহ সাত জনকে গ্রেফতার করেছে কলকাতা পুলিশ।
শনিবার সপ্তমীর সন্ধ্যায় বৃষ্টির মধ্যে মণ্ডপে দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়তে থাকায় বিপর্যয় ঘটে বলে প্রাথমিক তদন্তে অনুমান পুলিশের। ঘটনায় ২৫ জন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে কয়েক জনের চিকিৎসা চলছে। রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী চিকিৎসক শারদ্বত মুখোপাধ্যায়ও আহতদের দেখতে হাসপাতালে যান।
পুলিশ সূত্রে খবর, শনিবার রাতে মোট ১৪ জনকে আটক করা হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে সাত জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্তের প্রয়োজনে আরও কয়েক জনকে গ্রেফতার করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন এক পদস্থ পুলিশ আধিকারিক। এই ঘটনায় খুনের উদ্দেশ্য ছাড়া অনিচ্ছাকৃতভাবে মৃত্যুর কারণ হওয়ার অভিযোগে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। মৃতদের পরিচয় শনাক্ত করার কাজও চলছে।
প্রাথমিক তদন্তে মণ্ডপের নিরাপত্তা ও ভিড় নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থায় একাধিক ত্রুটি থাকার ইঙ্গিত মিলেছে বলে দাবি পুলিশের। স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান, সিসিটিভি ফুটেজ এবং অন্যান্য তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশের বক্তব্য, বিপুল সংখ্যক দর্শনার্থী সামলানোর জন্য যথাযথ পরিকল্পনা ছিল না। পর্যাপ্ত পুলিশকর্মী ও বেসরকারি নিরাপত্তারক্ষীর অভাবও পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি করে থাকতে পারে।
মণ্ডপে ঢোকা ও বেরোনোর পথ এবং সংলগ্ন রাস্তা তুলনামূলক সরু হওয়ায় হুড়োহুড়ির সময় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে বলে তদন্তকারীদের অনুমান। বৃষ্টির মধ্যে ঘোষণা শুনে দর্শনার্থীদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
মণ্ডপ ভেঙে পড়ার ঘোষণা ঘিরে তদন্ত
মণ্ডপের কাঠামো ভেঙে পড়তে পারে, তাই দর্শনার্থীদের বেরিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল—এমন একটি ঘোষণার রেকর্ডিং পুলিশের হাতে এসেছে বলে জানা গিয়েছে। কে ওই ঘোষণা করেছিলেন এবং কী পরিস্থিতিতে তা করা হয়েছিল, তা জানার চেষ্টা চলছে। ওই ঘোষণার জেরেই আতঙ্ক ছড়িয়েছিল কি না, তদন্তকারীরা সেটিও খতিয়ে দেখছেন।
শনিবার রাতে ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞদের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করেছে। রবিবার আরও একটি দল সেখানে যাওয়ার কথা। কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের আধিকারিকেরাও তদন্তে যুক্ত রয়েছেন। ঘটনার সময় উপস্থিত দর্শনার্থীদের সঙ্গে কথা বলে গোটা ঘটনার ধারাবাহিকতা বোঝার চেষ্টা চলছে।
২০ অক্টোবর পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা
চোরবাগানের পুজোমণ্ডপ সংলগ্ন রাস্তায় রবিবার সকাল থেকে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় কুমার নন্দ। বড়বাজার নয়, বউবাজার থানার আওতাধীন সংশ্লিষ্ট এলাকায় এই নির্দেশ কার্যকর থাকবে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত। ওই এলাকায় জমায়েতের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, মৃতদের প্রত্যেকের পরিবারকে ২৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ এবং পরিবারের এক জনকে গ্রুপ ডি পদে সরকারি চাকরি দেওয়া হবে। ঘটনার তদন্তে বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট গঠনের কথাও ঘোষণা করেছেন তিনি।
দেবীপক্ষে অঘটন তিলোত্তমায়! চোর বাগানে পদপিষ্ট হয়ে এখনও পর্যন্ত মৃত ১৮
জমি নিয়ে বিতর্কেও পুজোর অনুমতি! ঐতিহ্য রক্ষায় হাইকোর্টের বার্তা