১৬০ পিএস শক্তি, ২৯ কিমি মাইলেজ! Duster Hybrid-কে টক্কর মারুতি-টয়োটার
নয়াদিল্লি: শক্তিশালী ইঞ্জিন, দুটি বৈদ্যুতিক মোটর এবং প্রতি লিটারে ২৯ কিলোমিটার মাইলেজের দাবি। নতুন রেনো ডাস্টার হাইব্রিড নিয়ে ভারতের কমপ্যাক্ট এসইউভি বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়তে চলেaছে। ১৬.৯৯ লক্ষ টাকা থেকে শুরু হওয়া এই গাড়িটি সরাসরি টক্কর দেবে মারুতি ভিক্টোরিস হাইব্রিড, মারুতি গ্র্যান্ড ভিটারা হাইব্রিড এবং টয়োটা হাইরাইডার হাইব্রিডের সঙ্গে। এত দিন এই বিভাগে জাপানি সংস্থাগুলির দাপট থাকলেও, রেনোর নতুন হাইব্রিড পাওয়ারট্রেন প্রতিযোগিতায় নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। শক্তি, টর্ক এবং দাবি করা জ্বালানি দক্ষতার পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে ডাস্টার হাইব্রিড এগিয়ে থাকলেও, দাম ও বাস্তব ব্যবহারের খরচের হিসাবও ক্রেতাদের সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।
চারটি হাইব্রিড এসইউভির দাম কত?
চারটি গাড়ির এক্স-শোরুম দামের তুলনা করলে দেখা যাচ্ছে, ডাস্টার হাইব্রিডের প্রাথমিক দাম প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। তবে এর শীর্ষ ভ্যারিয়েন্টের দাম অন্য তিনটি গাড়ির শীর্ষ সংস্করণের তুলনায় কম।
| গাড়ির মডেল | এক্স-শোরুম দাম |
| রেনো ডাস্টার হাইব্রিড | ১৬.৯৯ থেকে ১৯.৪৯ লক্ষ টাকা |
| মারুতি ভিক্টোরিস হাইব্রিড | ১৬.৪৩ থেকে ১৯.৯৯ লক্ষ টাকা |
| মারুতি গ্র্যান্ড ভিটারা হাইব্রিড | ১৬.৬৮ থেকে ১৯.৬২ লক্ষ টাকা |
| টয়োটা হাইরাইডার হাইব্রিড | ১৭.১৮ থেকে ২০.৩১ লক্ষ টাকা |
এই তালিকায় সবচেয়ে কম দামের স্ট্রং-হাইব্রিড এসইউভি হল মারুতি ভিক্টোরিস। এর ভিএক্সআই ভ্যারিয়েন্টের দাম ১৬.৪৩ লক্ষ টাকা। অন্যদিকে, ডাস্টার হাইব্রিডের দাম শুরু ১৬.৯৯ লক্ষ টাকা থেকে। তবে শীর্ষ ভ্যারিয়েন্টের ক্ষেত্রে ডাস্টারের দাম প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় ১৩ হাজার থেকে ৮২ হাজার টাকা পর্যন্ত কম। অর্থাৎ, বেশি ফিচার-সহ শীর্ষ সংস্করণ কেনার পরিকল্পনা থাকলে ডাস্টার হাইব্রিডের দাম আকর্ষণীয় হতে পারে।
ইঞ্জিন ও শক্তিতে কতটা এগিয়ে ডাস্টার?
রেনো ডাস্টার হাইব্রিডে রয়েছে ১.৮ লিটারের চার-সিলিন্ডার পেট্রল ইঞ্জিন, দুটি বৈদ্যুতিক মোটর এবং ১.৪ কিলোওয়াট-ঘণ্টার ব্যাটারি। সম্মিলিত শক্তি ১৬০ পিএস এবং বৈদ্যুতিক মোটরের টর্ক ২০৮ নিউটন-মিটার। এর তুলনায় মারুতি ভিক্টোরিস, গ্র্যান্ড ভিটারা ও টয়োটা হাইরাইডারে রয়েছে ১.৫ লিটারের তিন-সিলিন্ডার পেট্রল ইঞ্জিন, একটি বৈদ্যুতিক মোটর এবং ০.৬০ কিলোওয়াট-ঘণ্টার ব্যাটারি। এই তিনটি মডেলের সম্মিলিত শক্তি ১১৬ পিএস এবং বৈদ্যুতিক মোটরের টর্ক ১৪১ নিউটন-মিটার।
| প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য | রেনো ডাস্টার | মারুতি ভিক্টোরিস | গ্র্যান্ড ভিটারা ও হাইরাইডার |
| পেট্রল ইঞ্জিন | ১.৮ লিটার, ৪ সিলিন্ডার | ১.৫ লিটার, ৩ সিলিন্ডার | ১.৫ লিটার, ৩ সিলিন্ডার |
| ব্যাটারি | ১.৪ কিলোওয়াট-ঘণ্টা | ০.৬০ কিলোওয়াট-ঘণ্টা | ০.৬০ কিলোওয়াট-ঘণ্টা |
| বৈদ্যুতিক মোটর | ২টি | ১টি | ১টি |
| সম্মিলিত শক্তি | ১৬০ পিএস | ১১৬ পিএস | ১১৬ পিএস |
| মোটরের টর্ক | ২০৮ নিউটন-মিটার | ১৪১ নিউটন-মিটার | ১৪১ নিউটন-মিটার |
| গিয়ার ব্যবস্থা | ৮-গতির ডিএইচটি | ইসিভিটি | ইসিভিটি |
| দাবি করা মাইলেজ | ২৯ কিমি/লিটার | ২৮.৬৫ কিমি/লিটার | ২৭.৯৭ কিমি/লিটার |
| ড্রাইভ ব্যবস্থা | সামনের চাকা চালিত | সামনের চাকা চালিত | সামনের চাকা চালিত |
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ডাস্টার হাইব্রিডের সম্মিলিত শক্তি অন্য তিনটি মডেলের তুলনায় ৪৪ পিএস বেশি। বৈদ্যুতিক মোটরের টর্কেও ব্যবধান ৬৭ নিউটন-মিটার। ফলে ত্বরণ ও শক্তি সরবরাহের ক্ষেত্রে ডাস্টারের সুবিধা থাকতে পারে। পাশাপাশি চার-সিলিন্ডার ইঞ্জিন ব্যবহারের কারণে তিন-সিলিন্ডার ইঞ্জিনের প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় কম্পন ও ইঞ্জিনের মসৃণতার ক্ষেত্রেও সুবিধা পাওয়া যেতে পারে। তবে বাস্তবে এই পার্থক্য কতটা অনুভূত হবে, তা চালানোর পরিস্থিতি ও গাড়ির সামগ্রিক টিউনিংয়ের উপর নির্ভর করবে।
বেশি শক্তি, তবু মাইলেজেও এগিয়ে?
ডাস্টার হাইব্রিডের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হল, শক্তিশালী পাওয়ারট্রেন থাকা সত্ত্বেও সংস্থা প্রতি লিটারে ২৯ কিলোমিটার মাইলেজের দাবি করছে। তুলনায় ভিক্টোরিসের দাবি করা মাইলেজ ২৮.৬৫ কিমি/লিটার এবং গ্র্যান্ড ভিটারা ও হাইরাইডারের ক্ষেত্রে তা ২৭.৯৭ কিমি/লিটার। অর্থাৎ, ডাস্টার ও ভিক্টোরিসের মধ্যে ব্যবধান মাত্র ০.৩৫ কিমি/লিটার। ফলে মাইলেজের দিক থেকে ডাস্টার এগিয়ে থাকলেও বাস্তবে জ্বালানি খরচের পার্থক্য খুব বড় নাও হতে পারে।
ডাস্টারের ব্যাটারি প্যাক প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি বড়। এই অতিরিক্ত ব্যাটারি ক্ষমতা হাইব্রিড ব্যবস্থাকে বৈদ্যুতিক শক্তি ব্যবহারে সাহায্য করতে পারে। অন্যদিকে, একই পাওয়ারট্রেন থাকা সত্ত্বেও ভিক্টোরিসের দাবি করা মাইলেজ গ্র্যান্ড ভিটারা ও হাইরাইডারের চেয়ে সামান্য বেশি। গাড়ির বডির আকৃতি, বায়ু প্রতিরোধ এবং সামগ্রিক নকশা এই ব্যবধানের সম্ভাব্য কারণ হতে পারে। তবে এই পার্থক্যের নির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিতভাবে বলা যায় না।
এখানে মনে রাখা জরুরি, মাইলেজের পরিসংখ্যান এআরএআই পরীক্ষাপদ্ধতি অনুযায়ী। বাস্তবে ট্র্যাফিক, গাড়ি চালানোর ধরন, রাস্তার অবস্থা এবং আবহাওয়ার কারণে জ্বালানি দক্ষতা বদলে যেতে পারে।
ফিচার ও নিরাপত্তায় কী থাকছে?
ডাস্টার হাইব্রিডের বাইরের পেশিবহুল নকশা বজায় রাখা হয়েছে। হাইব্রিড সংস্করণকে আলাদা করে চিনতে গ্রিলে আলোকিত ‘ডাস্টার’ লেখা এবং সামনের দরজা ও পিছনের অংশে বিশেষ ব্যাজ রয়েছে। কেবিনে রয়েছে ১০.১ ইঞ্চির টাচস্ক্রিন, ১০.২৫ ইঞ্চির ডিজিটাল চালক-ডিসপ্লে, দুই অঞ্চলে আলাদা তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, বৈদ্যুতিক টেলগেট, প্যানোরামিক সানরুফ, সংযুক্ত গাড়ি প্রযুক্তি এবং ওয়্যারলেস অ্যান্ড্রয়েড অটো ও অ্যাপল কারপ্লে। সামনে ছয়ভাবে সামঞ্জস্যযোগ্য ও বায়ু চলাচলের সুবিধাযুক্ত বৈদ্যুতিক আসনও রয়েছে। নতুন ডিউন ব্রাউন লেদারেট আসন-আবরণও এই সংস্করণের একটি বিশেষত্ব।
নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ছয়টি এয়ারব্যাগ, ইলেকট্রনিক স্টেবিলিটি কন্ট্রোল, টায়ারের চাপ পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা, চার চাকায় ডিস্ক ব্রেক, ৩৬০ ডিগ্রি ক্যামেরা, সামনে ও পিছনে পার্কিং সেন্সর এবং হিল হোল্ড কন্ট্রোল রয়েছে। ডাস্টার পাঁচ তারার ভারত এনসিএপি নিরাপত্তা মূল্যায়ন পেয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, লেভেল ২ অ্যাডভান্সড ড্রাইভার অ্যাসিস্ট্যান্স সিস্টেম হাইব্রিড সংস্করণে নয়, টার্বো-পেট্রল সংস্করণগুলির জন্য সংরক্ষিত।
শুধু হাইব্রিড নয়, পেট্রল ইঞ্জিনের বিকল্পও রয়েছে
ডাস্টার হাইব্রিড ছাড়াও রেনো এই এসইউভিতে দুটি টার্বো-পেট্রল ইঞ্জিনের বিকল্প দিচ্ছে। ১.০ লিটারের টার্বো-পেট্রল ইঞ্জিন ১০০ পিএস শক্তি ও ১৬৬ নিউটন-মিটার টর্ক উৎপন্ন করে। এর সঙ্গে রয়েছে ৬-গতির ম্যানুয়াল গিয়ারবক্স এবং দাবি করা মাইলেজ ১৯.৪১ কিমি/লিটার।
অন্যদিকে, ১.৩ লিটারের টার্বো-পেট্রল মাইল্ড-হাইব্রিড ইঞ্জিন ১৬৩ পিএস শক্তি ও ২৮০ নিউটন-মিটার টর্ক দেয়। এই সংস্করণে ৬-গতির ম্যানুয়াল এবং ৬-গতির ডুয়াল-ক্লাচ স্বয়ংক্রিয় গিয়ারবক্সের বিকল্প রয়েছে। দাবি করা মাইলেজ ম্যানুয়াল সংস্করণে ১৭.৭৫ কিমি/লিটার এবং স্বয়ংক্রিয় সংস্করণে ১৮.৪৫ কিমি/লিটার।
কোন গাড়িটি কাদের জন্য?
শক্তিশালী হাইব্রিড পাওয়ারট্রেন, বেশি সম্মিলিত শক্তি এবং উন্নত দাবি করা মাইলেজ চাইলে রেনো ডাস্টার হাইব্রিড নজরে রাখার মতো বিকল্প। তবে কম প্রাথমিক দামকে অগ্রাধিকার দিলে মারুতি ভিক্টোরিস হাইব্রিড এগিয়ে। গ্র্যান্ড ভিটারা ও হাইরাইডারও একই ধরনের হাইব্রিড প্রযুক্তি এবং কাছাকাছি জ্বালানি দক্ষতার বিকল্প দিচ্ছে।
শেষ পর্যন্ত কোন গাড়িটি বেশি সাশ্রয়ী হবে, তা শুধু মাইলেজ বা শক্তির পরিসংখ্যান দিয়ে নির্ধারণ করা যায় না। কেনার দাম, বাস্তব জ্বালানি খরচ, ফিচার, রক্ষণাবেক্ষণ এবং নিজের দৈনন্দিন ব্যবহারের ধরন মিলিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
Essential Business Intelligence, Sharp Market Insights, Practical Personal Finance Advice, Daily Fuel, Gold and Silver Prices and Latest Stories – On Kolkata24x7 Business