বেতন কমিশনে DA মার্জার থেকে বেতনবৃদ্ধি, কর্মচারীদের ৫ বড় দাবি - 24 Ghanta Bangla News
Home

বেতন কমিশনে DA মার্জার থেকে বেতনবৃদ্ধি, কর্মচারীদের ৫ বড় দাবি

Spread the love

নয়াদিল্লি: অষ্টম কেন্দ্রীয় বেতন কমিশনকে (8th Pay Commission) ঘিরে বেতনবৃদ্ধি, মহার্ঘ ভাতা বা DA মার্জার এবং ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের বিভিন্ন সংগঠন কমিশনের কাছে একাধিক দাবি পেশ করেছে। ন্যূনতম মূল বেতন বৃদ্ধি থেকে শুরু করে মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বেতন নির্ধারণ, DA গণনার পদ্ধতি বদল এবং ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর বাড়ানোর মতো বিষয় রয়েছে সেই তালিকায়।

বর্তমানে কমিশন বিভিন্ন কর্মচারী সংগঠন, ইউনিয়ন, পেনশনভোগীদের প্রতিনিধি এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট পক্ষের মতামত সংগ্রহ করছে। ২২ ও ২৩ অক্টোবর মুম্বইয়ে বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে আলোচনার কর্মসূচি রয়েছে। কমিশনের সুপারিশের প্রভাব পড়তে পারে এক কোটিরও বেশি কর্মচারী ও পেনশনভোগীর উপর। এর মধ্যে রয়েছেন প্রায় ৫০ লক্ষ কর্মরত কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী এবং প্রায় ৬৫ লক্ষ পেনশনভোগী।

তবে সংগঠনগুলির দাবি মানেই সরকার তা গ্রহণ করেছে, এমন নয়। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে কমিশনের সুপারিশ এবং কেন্দ্রীয় সরকারের পর্যালোচনার পর।

১. DA মার্জারের দাবি

অষ্টম বেতন কমিশনের কাছে কর্মচারী সংগঠনগুলির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দাবি হল মহার্ঘ ভাতা বা DA-কে মূল বেতনের সঙ্গে যুক্ত করা। সপ্তম বেতন কমিশনের সুপারিশে DA ৫০ শতাংশ ছাড়ালে তা মূল বেতনের সঙ্গে মার্জারের বিষয়টি বিবেচনার কথা উল্লেখ ছিল বলে দাবি করছে বিভিন্ন সংগঠন।

প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ করা হয়েছে, DA-র হার মূল বেতনের ৬০ শতাংশে পৌঁছেছে। তবে DA ৫০ শতাংশ অতিক্রম করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে তা মূল বেতনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যায় না। এর জন্য সরকারের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত প্রয়োজন।

DA মার্জার হলে মূল বেতনের অঙ্ক বাড়তে পারে। কর্মচারীদের সংগঠনগুলির বক্তব্য, মূল বেতন PF-এর অবদান, পেনশন, গ্র্যাচুইটি এবং বিভিন্ন ভাতার হিসাবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই DA মার্জারের সিদ্ধান্ত হলে সামগ্রিক বেতন কাঠামোতেও প্রভাব পড়তে পারে।

তবে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত DA মার্জারের বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক সরকারি ঘোষণা করা হয়নি বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

২. ন্যূনতম মূল বেতন বাড়ানোর দাবি

অষ্টম বেতন কমিশনের কাছে ন্যূনতম মূল বেতন বাড়ানোর দাবিও জানিয়েছে একাধিক কর্মচারী সংগঠন। তাদের প্রস্তাবের অঙ্ক এক নয়।

কর্মচারী সংগঠন প্রস্তাবিত ন্যূনতম মূল বেতন
ন্যাশনাল কাউন্সিল-জয়েন্ট কনসালটেটিভ মেশিনারি (NC-JCM) ৬৯,০০০ টাকা
মহারাষ্ট্র ওল্ড পেনশন অর্গানাইজেশন ৬৫,০০০ টাকা
অল ইন্ডিয়া ডিফেন্স এমপ্লয়িজ ফেডারেশন (AIDEF) ৬৯,০০০ টাকা
ইন্ডিয়ান রেলওয়েজ টেকনিক্যাল সুপারভাইজার্স অ্যাসোসিয়েশন (IRTSA) ৫২,৬০০ টাকা

IRTSA-র দাবি, বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ন্যূনতম বেতন পুনর্নির্ধারণ করা উচিত। সংগঠনটি বিভিন্ন কর্মীস্তরের জন্য আলাদা ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর ব্যবহারের প্রস্তাবও দিয়েছে।

অন্যদিকে, রেলওয়েজ সিনিয়র সিটিজেনস ওয়েলফেয়ার সোসাইটি (RSCWS) ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারির মূল্যসূচককে ভিত্তি করে ন্যূনতম বেতন নির্ধারণের দাবি জানিয়েছে।

৩. DA বৃদ্ধি ও মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে বেতনের সামঞ্জস্য

মহার্ঘ ভাতা বাড়ানো এবং মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বেতন নির্ধারণের দাবিও তুলেছে কর্মচারী সংগঠনগুলি।

NC-JCM মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কযুক্ত বেতন নির্ধারণের মডেলের পক্ষে সওয়াল করেছে। মহারাষ্ট্র ওল্ড পেনশন অর্গানাইজেশন ন্যূনতম ৪ শতাংশ DA বৃদ্ধি এবং DA ৫০ শতাংশে পৌঁছলে তা মূল বেতনের সঙ্গে যুক্ত করার দাবি জানিয়েছে। AIDEF-এর দাবি, কর্মচারীদের পারিশ্রমিক নির্ধারণে মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব আরও কার্যকরভাবে বিবেচনা করা হোক।

এই দাবিগুলির মূল উদ্দেশ্য হল নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও পরিষেবার দাম বাড়লেও কর্মচারীদের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা যাতে অতিরিক্ত কমে না যায়, তা নিশ্চিত করা। তবে DA বৃদ্ধির হার কত হবে, তা কমিশনের সুপারিশ এবং সরকারের সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করবে।

৪. ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর বাড়ানোর দাবি

নতুন বেতন কাঠামো নির্ধারণের ক্ষেত্রে ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই ফ্যাক্টরের সাহায্যে বর্তমান বেতন থেকে সংশোধিত মূল বেতন নির্ধারণের হিসাব করা হয়।

IRTSA রেল মন্ত্রকের ষষ্ঠ পে-লেভেলের নিরাপত্তা-সংক্রান্ত পদগুলির জন্য ফিটমেন্ট ফ্যাক্টরের উচ্চতর সূচক ব্যবহারের দাবি জানিয়েছে। সংগঠনটির প্রস্তাবিত ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর হল ২.৯২, ৩.৫০ এবং ৩.৮০।

তবে এগুলি সংগঠনের প্রস্তাব, কমিশনের চূড়ান্ত সুপারিশ নয়। অষ্টম বেতন কমিশন শেষ পর্যন্ত কোন ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর গ্রহণ করবে, তা এখনও জানা যায়নি।

৫. DA গণনার সূত্র বদলানোর দাবি

DA গণনার বর্তমান পদ্ধতি নিয়েও আপত্তি জানিয়েছে AIDEF। অষ্টম বেতন কমিশনের কাছে জমা দেওয়া দ্বিতীয় স্মারকলিপিতে সংগঠনটি দাবি করেছে, বর্তমান সূত্রে তুলনামূলক স্থিতিশীল ব্যয়ের খাতগুলিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়।

AIDEF-এর বক্তব্য, কম বেতনের কর্মচারীরা তাঁদের আয়ের বড় অংশ খাবার, শিক্ষা, চিকিৎসা, বাড়িভাড়া, ওষুধ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় খাতে ব্যয় করেন। তাই DA গণনার সময় এই খরচগুলির প্রকৃত প্রভাব আরও ভালোভাবে বিবেচনা করা উচিত।

সংগঠনটির মতে, মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে কর্মচারীদের প্রকৃত জীবনযাত্রার ব্যয়ের সামঞ্জস্য বজায় রাখতে DA নির্ধারণের পদ্ধতিতে পরিবর্তন প্রয়োজন। তবে এই প্রস্তাব কমিশন গ্রহণ করবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

অষ্টম বেতন কমিশনের রিপোর্ট কবে?

অষ্টম বেতন কমিশন ২০২৫ সালের ৩ নভেম্বর গঠিত হয়েছিল। কমিশনের টার্মস অফ রেফারেন্স অনুযায়ী, গঠনের তারিখ থেকে ১৮ মাসের মধ্যে সুপারিশ জমা দেওয়ার কথা। সেই হিসাবে রিপোর্ট জমা দেওয়ার সময়সীমা ২০২৭ সালের মে মাস।

রিপোর্ট জমা পড়লেই নতুন বেতন কাঠামো সঙ্গে সঙ্গে কার্যকর হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। সুপারিশগুলি পর্যালোচনা করে কেন্দ্রীয় সরকারকে বাস্তবায়নের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কিছু অনুমান অনুযায়ী, সুপারিশ জমা পড়ার পর সম্পূর্ণ বাস্তবায়নে আরও দুই থেকে তিন বছর সময় লাগতে পারে। সেই হিসাবে ২০২৭ সালে সুপারিশ এলেও সমস্ত পরিবর্তন কার্যকর হতে ২০২৯ বা ২০৩০ সাল পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। তবে এটি কোনও সরকারি নির্ধারিত সময়সূচি নয়।

এখন কর্মচারীদের নজর মূলত পাঁচটি বিষয়ে: DA মার্জার, ন্যূনতম মূল বেতন, DA বৃদ্ধির হার, ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর এবং DA গণনার সূত্র। সংগঠনগুলির দাবির ভিত্তিতে কমিশন কী সুপারিশ করে এবং সরকার তার মধ্যে কোনগুলি অনুমোদন করে, তার উপরই শেষ পর্যন্ত বেতন ও পেনশনের পরিবর্তন নির্ভর করবে।

Essential Business Intelligence, Sharp Market Insights, Practical Personal Finance Advice, Daily Fuel, Gold and Silver Prices and Latest Stories – On Kolkata24x7 Business

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *