বৃন্দাবন মাতৃ মন্দিরে পুজোয় থিমে এ বার জটায়ু
এই সময়: ‘পরশু তো ষষ্ঠী, তার মধ্যে আপনার কাজ শেষ হবে?’—পুজোর মুখে ‘জয় বাবা ফেলুনাথ’ ছবির এই দৃশ্য আর সংলাপ বাঙালির কাছে চিরকালীন নস্টালজিয়া। পর্দায় যে সাবেকি ঠাকুর দালানে দাঁড়িয়ে ফেলুদা, তোপসে আর জটায়ু মৃৎশিল্পীকে এই প্রশ্ন করেছিলেন, ঠিক সেই ঠাকুর দালানই উঠে আসছে উত্তর কলকাতার সুকিয়া স্ট্রিটের বৃন্দাবন মাতৃ মন্দিরে। তবে এর নেপথ্যের কারণ নিছক সিনেমা-প্রীতি নয়, বরং এক কিংবদন্তি শিল্পীর প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি। কারণ, এই সুকিয়া স্ট্রিটের মাত্র ২০০ মিটার দূরেই যে জটায়ু ওরফে অভিনেতা সন্তোষ দত্তের পাড়া, আমহার্স্ট রো। আর রাস্তা পার করলেই সত্যজিৎ রায়ের দেওয়া ঠিকানা, গরপাড়। ১১৭ বছরের এই পুজো এই প্রথম সেজে উঠছে কোনও ব্যক্তির জীবন ঘিরে। সন্তোষ দত্ত—পেশায় আলিপুর কোর্টের দুঁদে ক্রিমিনাল আইনজীবী হলেও, বাঙালির হৃদয়ে তিনি অভিনয়ের এক আশ্চর্য জাদুকর। লালমোহন গাঙ্গুলি ওরফে জটায়ুকে ছাড়া বাঙালি আজও ফেলুদার অস্তিত্ব কল্পনা করতে পারে না। সত্যজিৎ রায়ের কলম আর সন্তোষ দত্তের নিখুঁত কমিক টাইমিং—এই দুইয়ের যুগলবন্দিতে জটায়ু চরিত্রটি অমর রূপ পেয়েছিল।