‘নগরপালের পদত্যাগ চাই!’ চোর বাগান দুর্ঘটনায় দাবি কুনালের
কলকাতা: দেবীপক্ষের উৎসবের মধ্যেই উত্তর কলকাতার চোরবাগানে (Kunal Ghosh)মর্মান্তিক দুর্ঘটনাকে ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। সপ্তমীর সন্ধ্যায় চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপুজো মণ্ডপের বেরনোর গেটে ভিড়ের চাপে পদপিষ্টের…
কলকাতা: দেবীপক্ষের উৎসবের মধ্যেই উত্তর কলকাতার চোরবাগানে (Kunal Ghosh)মর্মান্তিক দুর্ঘটনাকে ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। সপ্তমীর সন্ধ্যায় চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপুজো মণ্ডপের বেরনোর গেটে ভিড়ের চাপে পদপিষ্টের পরিস্থিতি তৈরি হয় বলে জানা গিয়েছে। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১৮ জনের মৃত্যুর খবর সামনে এসেছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
বহু মানুষ আহত হয়েছেন। (Kunal Ghosh)দুর্ঘটনার পরেই পুজো মণ্ডপ সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এবার এই ঘটনা নিয়ে কলকাতা পুলিশের ভূমিকা এবং পুজো কমিটির দায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুললেন তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ। ঘটনার দায় কার, কেন পুজো কমিটির কর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি এবং এত বড় বিপর্যয়ের পর কলকাতার নগরপাল কেন পদত্যাগ করবেন না এমন একাধিক প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
আরও দেখুনঃ দেবীপক্ষে অঘটন তিলোত্তমায়! চোর বাগানে পদপিষ্ট হয়ে এখনও পর্যন্ত মৃত ১৮
কুণাল ঘোষের বক্তব্য, চোরবাগানের এই দুর্ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হলে পুজো কমিটির কর্তাদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা জরুরি। তাঁর প্রশ্ন, এত বড় ঘটনা ঘটে যাওয়ার পর পুজো কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা কোথায়? তাঁদের বিরুদ্ধে কেন এখনও গ্রেফতারের মত পদক্ষেপ করা হয়নি? কুণালের দাবি, পুজোর সময় বৃষ্টি নতুন কোনও ঘটনা নয়।
প্রতি বছরই বর্ষার পরিস্থিতি বা বৃষ্টির আশঙ্কা মাথায় রেখে দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। তা হলে এবার অতিরিক্ত ভিড় সামলানোর ক্ষেত্রে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল, সেই প্রশ্নের উত্তরও সামনে আসা দরকার বলে মনে করছেন তিনি। তৃণমূল নেতার বক্তব্য, পুজো কমিটির কর্তাদের ভূমিকা তদন্তের বাইরে রেখে এত বড় ঘটনার নিরপেক্ষ অনুসন্ধান সম্ভব নয়। তিনি তাঁদের নাম ও পরিচয় প্রকাশ্যে আনারও দাবি জানিয়েছেন।
তাঁর মতে, দুর্ঘটনার পিছনে কী ধরনের অব্যবস্থা ছিল, ভিড় নিয়ন্ত্রণে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কি না এবং মণ্ডপের প্রবেশ ও বেরনোর পথে নিরাপত্তার ঘাটতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা দরকার। তবে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং কোনও ব্যক্তি বা সংস্থার দায় রয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমেই নিশ্চিত হওয়া সম্ভব। কলকাতা পুলিশের ভূমিকা নিয়েও সরব হয়েছেন কুণাল ঘোষ। নগরপাল কী করছিলেন, এত বড় জনসমাগমের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও ভিড় নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা কতটা কার্যকর ছিল, সেই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
বিরোধীদের বিরুদ্ধে পুলিশি পদক্ষেপের প্রসঙ্গ টেনে কুণালের (Kunal Ghosh)অভিযোগ, প্রশাসনের দায়িত্ব শুধু রাজনৈতিক কর্মসূচি সামলানো নয়, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও পুলিশের অন্যতম প্রধান কাজ। চোরবাগানের মতো জনবহুল এলাকায় দুর্গাপুজোর সময় বিপুল দর্শনার্থীর সমাগম হবে, তা আগে থেকেই অনুমান করা সম্ভব ছিল। সেই পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় সতর্কতা নেওয়া হয়েছিল কি না, তা নিয়ে জবাবদিহি দাবি করেছেন তিনি।
কুণাল ঘোষের দাবি, (Kunal Ghosh)এত বড় ব্যর্থতার পর কলকাতার নগরপালের পদে থাকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে। তাঁর বক্তব্য, নগরপাল নিজে পদত্যাগ না করলে তাঁকে বরখাস্ত করার বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত। যদিও এই ঘটনায় পুলিশের তরফে কী ধরনের নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল এবং কোথায় ঘাটতি ছিল, সে বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের ফল এখনও সামনে আসেনি। ফলে কুণালের এই বক্তব্যকে তাঁর রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিট নাগাদ গিরিশ পার্ক থানা এলাকার চোরবাগানে দুর্ঘটনাটি ঘটে বলে পুলিশের প্রাথমিক বক্তব্যে জানানো হয়েছে। বৃষ্টির মধ্যে প্রতিমা দর্শনের জন্য বিপুল মানুষের সমাগম হয়েছিল। সেই ভিড়ের চাপেই মণ্ডপের বেরনোর গেটে হুড়োহুড়ি এবং পদপিষ্টের পরিস্থিতি তৈরি হয় বলে প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে।
আহতদের উদ্ধার করে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতাল সূত্রে অন্তত ৪০ জনকে নিয়ে আসার খবর পাওয়া গিয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক হিসাবে সংখ্যাটি ছিল প্রায় ৩৫। তবে আহতের সংখ্যা নিয়ে এই পার্থক্যের কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। দুর্ঘটনার পর আহতদের চিকিৎসার জন্য কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের বিভিন্ন বিভাগের চিকিৎসকদের জরুরি ভিত্তিতে ডেকে পাঠানো হয়।
কিছু আহতকে নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের ব্যবস্থাও করা হয়েছে বলে খবর। উদ্ধারকাজে কলকাতা পুলিশ, দমকল, ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট গ্রুপ এবং স্বাস্থ্যকর্মীরা অংশ নেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আপাতত সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য পুজো মণ্ডপ বন্ধ রাখা হয়েছে।