একাধিক সমন উপেক্ষা! বিমানবন্দর থেকে ED র হাতে আটক মুখ্যমন্ত্রীর স্ত্রীর বন্ধু
এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মানের (Amardeep)স্ত্রীর আত্মীয় হিসেবে পরিচিত অমরদীপ সিং গ্রেওয়ালকে দিল্লি বিমানবন্দরে আটক করেছে। তিনি বিদেশ যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। তাঁর…
এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মানের (Amardeep)স্ত্রীর আত্মীয় হিসেবে পরিচিত অমরদীপ সিং গ্রেওয়ালকে দিল্লি বিমানবন্দরে আটক করেছে। তিনি বিদেশ যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে লুক আউট সার্কুলার বা এলওসি জারি করা হয়েছিল। কারণ তিনি ইডির একাধিক সমন উপেক্ষা করেছিলেন।
শনিবার ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অভিবাসন কর্তৃপক্ষ তাঁকে আটক করে ইডির হাতে তুলে দেয়। এরপর তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ইডির সদর দফতরে নিয়ে যাওয়া হয়। অমরদীপ সিং গ্রেওয়াল পাঞ্জাবি চলচ্চিত্র শিল্পের সঙ্গে যুক্ত এবং ইস্ট সানশাইন প্রোডাকশন প্রাইভেট লিমিটেডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। তিনি ‘মৌজাঁ হি মৌজাঁ’ ও ‘স্নোম্যান’সহ কয়েকটি ছবির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
আরও দেখুনঃ
এই আটকের পেছনে রয়েছে একটি অভিযোগ। (Amardeep)অমৃতসর ও মোহালিতে একটি ধর্ষণ মামলার তদন্ত বন্ধ বা এফআইআর বাতিল করার বিনিময়ে পাঁচ কোটি টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগ উঠেছে। প্রাক্তন বিচারপতি রণজিৎ সিংয়ের তদন্তে এই অভিযোগ উঠে আসে এবং এতে মুখ্যমন্ত্রীর স্ত্রী ডা. গুরপ্রীত কৌর মানের নামও উল্লেখ করা হয়। তবে ডা. গুরপ্রীত কৌর এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন এবং প্রাক্তন বিচারপতিকে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন।
ইডি আগে অমরদীপ সিং গ্রেওয়ালকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সমন পাঠিয়েছিল। তিনি একবার মুলতুবি চেয়েছিলেন। এরপরও ৭ অক্টোবর ও ৯ অক্টোবর নির্ধারিত তারিখে হাজির হননি। এর পরিপ্রেক্ষিতেই তাঁর বিরুদ্ধে এলওসি জারি করা হয়, যাতে তিনি দেশত্যাগ করতে না পারেন। সেই এলওসির ভিত্তিতেই বিমানবন্দরে তাঁকে আটক করা হয়।
পাঞ্জাবের রাজনীতিতে এই ঘটনা নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। (Amardeep)মুখ্যমন্ত্রীর পরিবারের সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি করা এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে এমন ব্যবস্থা রাজনৈতিক মহলে প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। তবে ইডি বলছে, তদন্তের স্বার্থেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ চলছে এবং পরবর্তী ব্যবস্থা তদন্তের ওপর নির্ভর করবে।
অমরদীপ সিং গ্রেওয়ালের চলচ্চিত্র ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত থাকার বিষয়টিও তদন্তে উঠে আসতে পারে বলে সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে। তাঁর কোম্পানির বিদেশি সংযোগ থাকার কথাও বলা হচ্ছে। তবে এসব এখনও তদন্তাধীন।
পঞ্জাব সরকার বা মুখ্যমন্ত্রীর পক্ষ থেকে এখনও কোনো বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে আগে থেকেই এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। ইডির এই পদক্ষেপ তদন্তকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। দেশত্যাগের চেষ্টা এবং সমন উপেক্ষার কারণে এলওসি জারির বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।