সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য এআই, জানালেন অ্যাপল কর্তা - 24 Ghanta Bangla News
Home

সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য এআই, জানালেন অ্যাপল কর্তা

Spread the love

ওয়াশিংটন: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি নিয়ে অ্যাপলের পরিকল্পনা অন্য প্রযুক্তি সংস্থাগুলির থেকে কিছুটা আলাদা। সংস্থাটি এমন এআই তৈরি করতে চায়, যা সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন কাজে লাগবে। শুধু সুপারইন্টেলিজেন্স বা অত্যন্ত উন্নত বুদ্ধিমত্তার প্রযুক্তি নিয়ে আগ্রহী বিশেষ ব্যবহারকারীদের লক্ষ্য করে পণ্য তৈরি করতে চায় না অ্যাপল। সম্প্রতি টাইম ম্যাগাজিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সংস্থার বিশ্বব্যাপী বিপণন বিভাগের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট গ্রেগ জোসউইয়াক এই অবস্থানের কথা জানিয়েছেন।

সাক্ষাৎকারে অ্যাপলের সিইও জন টার্নাস এবং গ্রেগ জোসউইয়াক এআই প্রযুক্তি নিয়ে সংস্থার ভাবনা ও এই ক্ষেত্রে বাড়তে থাকা প্রতিযোগিতা নিয়ে আলোচনা করেন। জোসউইয়াকের বক্তব্য, অ্যাপল এমন প্রযুক্তি তৈরি করতে চায়, যা সাধারণ ব্যবহারকারীদের প্রয়োজন মেটাবে এবং দৈনন্দিন অভিজ্ঞতাকে আরও সহজ করে তুলবে।

তাঁর কথায়, অত্যন্ত উন্নত এআই বা সুপারইন্টেলিজেন্স নিয়ে যাঁরা গভীরভাবে আগ্রহী, তাঁদেরও অ্যাপল স্বাগত জানায়। তবে তাঁরা সংস্থার মূল লক্ষ্য নন। বরং সাধারণ মানুষের জন্য প্রযুক্তিকে আরও কার্যকর করে তোলাই অ্যাপলের প্রধান উদ্দেশ্য।

সুপারইন্টেলিজেন্স নয়, দৈনন্দিন ব্যবহারে গুরুত্ব

এআই শিল্পে বর্তমানে এমন প্রযুক্তি তৈরির প্রতিযোগিতা চলছে, যা মানুষের মতো জটিল কাজ করতে পারে এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে বুদ্ধিদীপ্ত সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম। অনেক সংস্থা আরও উন্নত এআই মডেল ও নতুন হার্ডওয়্যার তৈরিতে বিনিয়োগ করছে। কিন্তু অ্যাপলের বক্তব্য অনুযায়ী, তাদের পণ্যের ক্ষেত্রে প্রযুক্তির ক্ষমতার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ব্যবহারিক প্রয়োজনকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

জোসউইয়াকের বক্তব্য, এআই নিয়ে যাঁরা অত্যন্ত উৎসাহী, তাঁরাও অ্যাপলের প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারবেন। কিন্তু তাঁদের আকৃষ্ট করাই সংস্থার প্রধান লক্ষ্য নয়। বরং দৈনন্দিন জীবনে প্রযুক্তি কীভাবে মানুষের কাজে আসতে পারে, সেটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

এই দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যে রয়েছে এমন পরিষেবা তৈরি করার ভাবনা, যা ফোন ব্যবহার, তথ্য খোঁজা, যোগাযোগ এবং অন্যান্য সাধারণ কাজকে সহজ করতে পারে। তবে সাক্ষাৎকারে জোসউইয়াক এই বক্তব্যের সঙ্গে নির্দিষ্ট কোনও নতুন পণ্যের সম্পূর্ণ বৈশিষ্ট্য বা লঞ্চের সময় ঘোষণা করেননি।

ওপেনএআইয়ের হার্ডওয়্যার পরিকল্পনা নিয়ে উদ্বিগ্ন নয় অ্যাপল

সাক্ষাৎকারে অ্যাপলের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান নিয়েও কথা বলেন জোসউইয়াক। ওপেনএআইয়ের মতো সংস্থা যখন নিজস্ব হার্ডওয়্যার পণ্য তৈরির দিকে এগোচ্ছে, তখন অ্যাপল সেই প্রতিযোগিতাকে কীভাবে দেখছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

জোসউইয়াক জানিয়েছেন, ওপেনএআইয়ের হার্ডওয়্যার পরিকল্পনা নিয়ে অ্যাপল উদ্বিগ্ন নয়। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, অ্যাপলের অন্যতম শক্তি হল বিভিন্ন ডিভাইস, অপারেটিং সিস্টেম এবং পরিষেবার মধ্যে সমন্বয়। এই সমন্বয়ের মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের জন্য আরও ধারাবাহিক অভিজ্ঞতা তৈরি করা সম্ভব বলে মনে করে সংস্থাটি।

অ্যাপলের আইফোন, ম্যাক, আইপ্যাড এবং অন্যান্য ডিভাইসের মধ্যে সংযোগের সুবিধা রয়েছে। একই সঙ্গে সফটওয়্যার ও পরিষেবাগুলির সঙ্গে হার্ডওয়্যারের সমন্বয়ও সংস্থার পণ্য কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। জোসউইয়াকের বক্তব্য, এই সমন্বয়ই অ্যাপলকে প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় আলাদা ব্যবহারিক অভিজ্ঞতা দেওয়ার সুযোগ করে দেয়।

তবে এটি অ্যাপলের নিজস্ব অবস্থান। ভবিষ্যতে ওপেনএআইয়ের হার্ডওয়্যার পণ্য বাজারে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

ব্যক্তিগত গোপনীয়তার উপর জোর

টাইমের প্রতিবেদনে অ্যাপলের এআই পরিকল্পনাকে ব্যক্তিগতকরণ এবং গোপনীয়তার সঙ্গে যুক্ত করে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এআই নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে সংশয় বাড়ার সময় অ্যাপল এমন প্রযুক্তির উপর জোর দিচ্ছে, যা ব্যক্তিগত প্রয়োজন অনুযায়ী কাজ করবে এবং ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা রক্ষাকে গুরুত্ব দেবে।

অর্থাৎ, শুধু প্রযুক্তির চমক দেখানো নয়, বরং ব্যবহারকারীর বাস্তব সমস্যার সমাধান করা এবং ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা বজায় রাখার বিষয়টিকেও গুরুত্বপূর্ণ বলে তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদনে জোসউইয়াক এআই নিয়ে অতিরিক্ত উৎসাহী একটি গোষ্ঠীকে বোঝাতে ‘লুনাটিক ফ্রিঞ্জ’ শব্দবন্ধ ব্যবহার করেছেন। তবে এই শব্দবন্ধ দিয়ে তিনি ঠিক কাদের বোঝাতে চেয়েছেন, তা বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করেননি। তাই তাঁর বক্তব্যের মূল বিষয় হিসেবে সাধারণ ব্যবহারকারীদের প্রয়োজনের উপর জোর দেওয়ার দিকটিই সামনে এসেছে।

অ্যাপল ও ওপেনএআইয়ের মধ্যে আইনি বিরোধও চলছে

এআই নিয়ে প্রতিযোগিতার পাশাপাশি দুই সংস্থার মধ্যে বাণিজ্যিক গোপন তথ্য এবং মেধাস্বত্ব সংক্রান্ত আইনি বিরোধও রয়েছে। চলতি বছরের গোড়ায় অ্যাপল ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে মামলা করে। অভিযোগ ছিল, চ্যাটজিপিটি নির্মাতা সংস্থাটি তাদের হার্ডওয়্যার উদ্যোগ দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য অ্যাপলের গোপন তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার ষড়যন্ত্র করেছে। ওপেনএআই সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

অন্যদিকে, ওপেনএআইও আদালতে পাল্টা অভিযোগ জানিয়েছে। সংস্থাটির দাবি, অ্যাপল তাদের অপ্রকাশিত হার্ডওয়্যার পণ্য সম্পর্কে ১০০টিরও বেশি গোপন ফাইল সংগ্রহ করেছে। এই অভিযোগও এখনও আইনি প্রক্রিয়ার অংশ এবং এর চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি।

দুই সংস্থার মধ্যে কর্মী নিয়োগ, গোপন তথ্যের সুরক্ষা এবং নতুন হার্ডওয়্যার পণ্য তৈরিকে কেন্দ্র করে বিরোধ প্রযুক্তি শিল্পের প্রতিযোগিতার নতুন দিক তুলে ধরছে। বিশেষ করে অ্যাপল যখন নিজেদের ডিভাইস ও সফটওয়্যারের সঙ্গে এআইয়ের সমন্বয় বাড়াতে চাইছে, তখন ওপেনএআইও গ্রাহকদের জন্য নতুন ধরনের পণ্য তৈরির দিকে এগোচ্ছে।

এআই বাজারে অ্যাপলের কৌশল কতটা কার্যকর হবে?

গ্রেগ জোসউইয়াকের বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, অ্যাপল এআই প্রতিযোগিতায় শুধু প্রযুক্তির ক্ষমতা বা নতুনত্বের উপর নির্ভর করতে চাইছে না। সংস্থাটি ডিভাইস, সফটওয়্যার, পরিষেবা এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তার সমন্বয়ের মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের কাছে এআইকে আরও সহজে পৌঁছে দেওয়ার উপর জোর দিচ্ছে।

তবে এই কৌশল কতটা সফল হবে, তা নির্ভর করবে বাস্তবে অ্যাপলের এআই পরিষেবাগুলি কতটা কার্যকর হচ্ছে, ব্যবহারকারীরা সেগুলি কতটা গ্রহণ করছেন এবং প্রতিদ্বন্দ্বী সংস্থাগুলি কী ধরনের নতুন পণ্য বাজারে আনছে তার উপর। আপাতত অ্যাপলের বার্তা হল, এআইয়ের ভবিষ্যৎ শুধু অত্যন্ত উন্নত প্রযুক্তি তৈরির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনেও এই প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করাই তাদের লক্ষ্য।

Get your daily dose of tech news and insight.  Follow us on X, Facebook, WhatsApp and Google News for instant updates. Catch all the action on our YouTube channel.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *