Parting stones: মৃত্যুর পর ছোট পাথরে পরিণত হল ১৫ মাসের মেয়ে! – Bengali News | US girl died in 15 months after that she turns into parting stones
মার্কিন দম্পতির সন্তানের মৃত্যুর পর ভষ্ম পরিণত হয়েছে পাথরে
আইডাহো: সুস্থ-সবল জন্মেছিল। কয়েক মাস পর থেকে শিশুটি শ্বাসকষ্ট-সহ বেশ কয়েকটি শারীরিক সমস্যার সম্মুখীন হয়। তারপর মাত্র ১৫ মাস বয়সে ওই কন্যা সন্তানকে হারান মার্কিন দম্পতি কাইলি এবং জেক ম্যাসি। এক বিরল রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় তাঁদের ছোট্ট সন্তান পপির। তবে মেয়েকে হারালেও তার অস্তিত্ব ধরে রাখার বিশেষ উপায় খুঁদে পেয়েছেন সন্তান-হারা এই দম্পতি। মেয়ের মৃত্যুর পর তাকে পাথরে পরিণত করে নিজেদের কাছে ধরে রাখলেন তাঁরা। শুনতে অবিশ্বাস্য লাগছে? বাস্তবে এমনটাই ঘটেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আইডাহোতে।
আইডাহোর বাসিন্দা কাইলি এবং জ্যাক ম্যাসি গত বছরের এপ্রিলে তাঁদের ১৫ মাসের সন্তান পপিকে হারিয়েছেন। তাঁদের মেয়ে TBCD নামক এক বিরল জেনেটিক রোগে আক্রান্ত হয়েছিল। পপির যখন ৯ মাস বয়সে তখন সে এই রোগে আক্রান্ত হয়। যদিও জন্মানোর সময় পপি একেবারে সুস্থ ছিলেন বলে জানিয়েছেন কাইলি।
৪ মাস বয়সে রোগ ধরা পড়ে
এই খবরটিও পড়ুন
পপির যখন ৪ মাস বয়স, তখন মার্কিন দম্পতি লক্ষ্য করেন, তাঁদের সন্তানের দৃষ্টিশক্তি ঠিকমতো বিকশিত হচ্ছে না। তারপর তারা বেশ কয়েকজন ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করেন। কিন্তু কোনও সুরাহা না হওয়ায় চিকিৎসকের পরামর্শেই পপির এমআরআই করান তাঁরা।
টিবিসিডি রোগে আক্রান্ত বিশ্বের ৩৮তম মেয়ে
পপির এমআরআই রিপোর্টে দেখা যায়, তার মস্তিষ্কের মাঝখানের অংশ কর্পাস ক্যালোসাম ঠিকমতো বিকশিত হয়নি। এরপর ৫ মাস বয়সে পপির টিবিসিডি নামক বিরল রোগ ধরা পড়ে। সেই সময়ে পপি ছিল বিশ্বের ৩৮ তম শিশু, যে এই রোগে আক্রান্ত হয়েছে। এই রোগের নানা চিকিৎসার পরেও পপি সুস্থ হয়নি। মৃত্যুর কয়েকদিন আগে পপির শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। পরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালের চিকিৎসকরা পপির ফুসফুসে নিউমোনিয়ার সংক্রমণ ধরা পড়ে।
আইসিইউতে ভর্তির কয়েক ঘণ্টা পর মৃত্যু হয়
হাসপাতালে কয়েকদিন ভর্তি থাকার পর পপির শ্বাসকষ্ট অতিরিক্ত হওয়ায় তাকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। কিন্তু, ক্রমশ তার অবস্থা আরও সংকটজনক হয়ে ওঠে। চিকিৎসকেরা পপির দিন শেষ বলে জবাব দিয়ে দেওয়ার পর মুহূর্ত গোটা পরিবারের জন্য হৃদয়বিদারক ছিল।
গুড বাই পপি
পপিকে এক দাদা ও দিদি ছিল। পপির শেষ লগ্ন আসন্ন হলে মার্কিন দম্পতি তাঁদের আরও দুই সন্তানকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন এবং তারা আইসিইউ-তে ঢুকে ছোট্ট বোনকে গুডবাই জানায়। এর ৫ ঘণ্টা পরই পপির মৃত্যু হয়। মেয়ের মৃত্যু হলেও তাকে ছাড়তে পারছিলেন না কাইলি ও জ্যাক ম্যাসি। তাঁরা পপির শেষকৃত্য করলেও তার ভষ্ম বাড়িতে রাখতে চেয়েছিলেন।
পপির ভষ্ম পাথরে পরিণত
কাইলি জানান, তাঁরা পপির ভষ্ম বাড়িতে রাখতে চেয়েছিলেন। কিন্তু, বাড়িতে তাঁদের আরও দুই ছোট সন্তান রয়েছে। তাই এমন কিছু ঘরে রাখতে চাননি, যেটা তাঁদের সন্তানের মনের উপর প্রভাব ফেলে বা তারা ভয় পায়। সেই সময়ে তাঁরা একটি সংস্থার খোঁজ পান, যেখানে ভষ্ম থেকে সুন্দর পাথর তৈরি করা যায়। ওই সংস্থার ক্যাটলগে লেখা ছিল, ছাই থেকেও সুন্দর পাথর তৈরি করা যেতে পারে, যাকে বিভাজন পাথর বলা হয়। অনিচ্ছা ও কিছুটা সংশয় নিয়েই শেষ পর্যন্ত সেই সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করেন ওই মার্কিন দম্পতি।
বিচ্ছেদ পাথর
পপির মৃত্যুর কয়েক মাস পর ওই মার্কিন দম্পতির বাড়িতে হাতে লেখা একটি নোট এবং একটি “সুন্দর বাক্স” আসে। যা দেখে হতবাক হয়ে যান কাইলি ও জ্যাক। নোটটিতে লেখা ছিল, ‘আপনার মেয়েকে আমাদের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।’ এরপর বাক্সটি খুলতে দেখা যায়, তার ভিতরে ১৩-১৪টি ছোট সাদা রঙের পাথর ছিল, যা দেখতে খুব সুন্দর। এগুলিই পপির ভষ্ম থেকে তৈরি
এই সুন্দর পাথরগুলি সযত্নে পপির দোলনায় রাখেন কাইলি এবং জ্যাক। যেটা দেখে তাঁদের মনে হবে, তাঁদের মেয়ে সব সময়ে বাড়িতে রয়েছে। এমনকি তাঁরা কোথাও বেড়াতে গেলেও ওই পাথরগুলি সঙ্গে নিয়ে যান।