মহাষষ্ঠীতে দেবীর বোধন, কেন এই প্রথার নাম অকাল বোধন?
রামের দুর্গা আরাধনা
রাবণ বধ করে সীতাকে উদ্ধার করতে যাওয়ার আগে দেবী দুর্গার আশীর্বাদ লাভ করতে এই অসময়েই তাঁর পুজো করেছিলেন রামচন্দ্র। তাই শরত্কালের দুর্গাপুজোকে দেবীর অকাল বোধন বলা হয়। কালিকাপুরাণ অনুসারে, রাবণ বধ করার জন্য রামচন্দ্রকে সাহায্য করতে রাত্রিকালে দেবীর বোধন করেছিলেন ব্রহ্মা। নিদ্রিত দেবীর ঘুম ভাঙানোর জন্য স্বয়ং ব্রহ্মাকে দেবীস্তুতি করতে হয়৷ ‘হে দেবী রাবণবধের জন্য রামকে অনুগ্রহ করুন ও জাগ্রতা হোন৷’ ব্রহ্মার এই আবেদনে দেবী বেল গাছের একটি পাতায় কুমারী কন্যার রূপে আবির্ভূতা হন৷ দেবীর সেই আবির্ভাবকে স্মরণ করে আজও তাঁর পুজোর প্রাক্কালে তাঁকে জাগ্রত করতে বেল গাছে তাঁকে উদবোধিত করার যে অনুষ্ঠান তাই বোধন৷ ষষ্ঠীতে প্রথমে দেবীর বোধন, পরে অধিবাস ও আমন্ত্রণ করা হয়৷
প্রশ্ন: দুর্গাপুজোয় দেবীর বোধন কেন করা হয়?
উত্তর: শাস্ত্রীয় বিশ্বাস অনুসারে, শরৎকালে সূর্যের দক্ষিণায়ন চলে, যা দেবতাদের রাত হিসেবে পরিচিত। তাই দুর্গাপুজোর আগে দেবীকে জাগ্রত করার জন্য বোধন করা হয়।
প্রশ্ন: বোধন শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: বোধন শব্দের অর্থ ঘুম ভাঙানো বা জাগ্রত করা। দুর্গাপুজোয় দেবী দুর্গার নিদ্রা ভাঙানোর আচারকেই বোধন বলা হয়।
প্রশ্ন: দুর্গাপুজোকে অকাল বোধন বলা হয় কেন?
উত্তর: প্রচলিত পৌরাণিক বিশ্বাস অনুসারে, শরৎকাল দেবতাদের নিদ্রার সময়। এই সময়ে দেবীর আরাধনার জন্য তাঁকে জাগ্রত করা হয় বলে দুর্গাপুজোকে অকাল বোধন বলা হয়।
প্রশ্ন: রামচন্দ্র কেন দেবী দুর্গার অকাল বোধন করেছিলেন?
উত্তর: রাবণ বধ করে সীতাকে উদ্ধার করার আগে দেবী দুর্গার আশীর্বাদ লাভের জন্য রামচন্দ্র শরৎকালে তাঁর আরাধনা করেছিলেন বলে প্রচলিত কাহিনিতে উল্লেখ রয়েছে।
প্রশ্ন: দুর্গাপুজোয় বোধন কখন করা হয়?
উত্তর: দুর্গাপুজোর মহাষষ্ঠীতে দেবীর বোধন করা হয়। এরপর অধিবাস ও আমন্ত্রণের মতো ধর্মীয় আচার পালন করা হয়।