Volodymyr Zelenskyy:
রাশিয়ার একটি সামরিক বিমানঘাঁটিতে রাতের হামলায় চারটি সুখোই-৩৪ যুদ্ধবিমান ধ্বংস এবং আরও দু’টি ক্ষতিগ্রস্ত করার দাবি করলেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি (Volodymyr Zelenskyy)। বৃহস্পতিবার সমাজমাধ্যমে…
রাশিয়ার একটি সামরিক বিমানঘাঁটিতে রাতের হামলায় চারটি সুখোই-৩৪ যুদ্ধবিমান ধ্বংস এবং আরও দু’টি ক্ষতিগ্রস্ত করার দাবি করলেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি (Volodymyr Zelenskyy)। বৃহস্পতিবার সমাজমাধ্যমে একটি ছবি প্রকাশ করে তিনি এই দাবি করেন। ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর তরফেও জানানো হয়েছে, হামলায় ছ’টি যুদ্ধবিমানই বিভিন্ন মাত্রায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে রাশিয়ার তরফে এই ঘটনার বিষয়ে কী প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে, তা প্রদত্ত তথ্যে স্পষ্ট নয়।
জেলেনস্কির দাবি অনুযায়ী, রাশিয়ার ভোরোনেজ অঞ্চলের বরিসোগলেবস্ক বিমানঘাঁটিতে রাতের অন্ধকারে এই হামলা চালায় ইউক্রেন। হামলায় নেপচুন ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল বলে জানান তিনি। তাঁর বক্তব্য, ওই যুদ্ধবিমানগুলি ইউক্রেনের বিরুদ্ধে নতুন করে হামলা চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিল এবং সেগুলিতে আকাশ থেকে নিক্ষেপযোগ্য বোমা বোঝাই করা ছিল।
নেপচুন ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলার দাবি
সমাজমাধ্যম এক্সে জেলেনস্কি জানান, রাশিয়ার ওই যুদ্ধবিমানগুলি ইউক্রেনের সাধারণ মানুষের ওপর হামলা চালাতে ব্যবহার করা হতো। তাঁর দাবি, হামলার সময় বিমানগুলি নতুন আক্রমণের জন্য প্রস্তুত ছিল। তিনি ইউক্রেনের নৌবাহিনীর সেনাদের নির্ভুল হামলার জন্য ধন্যবাদও জানান।
জেলেনস্কির বক্তব্য অনুযায়ী, দীর্ঘপাল্লার নেপচুন ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে বিমানঘাঁটিতে আঘাত হানা হয়। তবে হামলার পর যুদ্ধবিমানগুলির কতটা ক্ষতি হয়েছে, তা নিয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য এই প্রতিবেদনের জন্য দেওয়া হয়নি। ফলে চারটি বিমান সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর জেনারেল স্টাফ টেলিগ্রামে জানিয়েছে, রাতের অভিযানে ছ’টি সুখোই-৩৪ যুদ্ধবিমানই বিভিন্ন মাত্রায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই বিবৃতি অনুযায়ী, সব ক’টি বিমানের ক্ষতির কথা জানানো হলেও ক্ষতির পরিমাণ একরকম নয়। জেলেনস্কির চারটি বিমান ধ্বংসের দাবি এবং সামরিক বাহিনীর ছ’টি বিমানে ক্ষতির বিবরণ তাই পৃথকভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
Last night, Ukraine’s Defense Forces struck an airfield in the Voronezh region. Four Su-34 aircraft were destroyed and two more Su-34s were hit. The Russians used them to terrorize our people. These very warplanes were ready to launch new attacks on Ukraine and were loaded with aerial bombs.
Our Long Neptune missile was used to strike the target. I thank the warriors of the Ukrainian Navy for their precision!
Our long-range sanctions also reached a site in the Oryol region used to store and launch attack drones. A target was also hit in the Black Sea.
These are our justified responses to all of Russia’s terror against Ukraine. Russia is dragging out the war, so our long-range operations will continue.
— Volodymyr Zelenskyy / Володимир Зеленський (@ZelenskyyUa) October 15, 2026
রাশিয়ার সুখোই-৩৪ কেন গুরুত্বপূর্ণ?
সুখোই-৩৪ একটি যুদ্ধবিমান, যা রুশ বাহিনী ইউক্রেনের বিরুদ্ধে অভিযানে ব্যবহার করে। বিশেষ করে যুদ্ধের সম্মুখসারির কাছাকাছি ইউক্রেনীয় শহরগুলিতে গ্লাইড বোমা নিক্ষেপের ক্ষেত্রে এই বিমান ব্যবহারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এই ধরনের বোমা বিমান থেকে নিক্ষেপ করার পর নির্দিষ্ট লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যেতে পারে।
প্রতিটি সুখোই-৩৪ যুদ্ধবিমানের দাম কয়েক কোটি মার্কিন ডলার। ফলে এই ধরনের বিমানের ক্ষতি হলে রাশিয়ার সামরিক সরঞ্জাম এবং যুদ্ধ পরিচালনার সক্ষমতার ওপর প্রভাব পড়তে পারে। তবে ছ’টি বিমানের ক্ষতির দাবি সত্যি হলেও তার ফলে রাশিয়ার সামগ্রিক সামরিক সক্ষমতা কতটা কমবে, তা নির্ধারণের জন্য আরও তথ্য প্রয়োজন।
ওরিয়ল ও কৃষ্ণসাগরেও হামলার দাবি
জেলেনস্কি আরও দাবি করেছেন, ইউক্রেন রাশিয়ার ওরিয়ল অঞ্চলে একটি সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ওই স্থাপনাটি আক্রমণকারী ড্রোন সংরক্ষণ এবং সেগুলি উৎক্ষেপণের কাজে ব্যবহার করা হতো। একই সঙ্গে কৃষ্ণসাগর এলাকায় আরও একটি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
এই হামলাগুলিকে রাশিয়ার আক্রমণের জবাব হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট। তাঁর দাবি, মস্কো যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করছে। তাই রাশিয়ার সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে দূরপাল্লার হামলা চালিয়ে যাবে কিয়েভ।
তবে ওরিয়ল অঞ্চলের স্থাপনা এবং কৃষ্ণসাগরের লক্ষ্যবস্তুতে হামলার ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি। রাশিয়ার পক্ষ থেকেও এই নির্দিষ্ট ঘটনাগুলির কোনও যাচাইযোগ্য প্রতিক্রিয়া প্রদত্ত তথ্যে নেই।
যুদ্ধের মধ্যে দূরপাল্লার হামলা ঘিরে নতুন দাবি
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্যে সামরিক বিমানঘাঁটি, ড্রোন উৎক্ষেপণকেন্দ্র এবং অন্যান্য সামরিক স্থাপনায় হামলার দাবি সংঘাতের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। বরিসোগলেবস্ক বিমানঘাঁটিতে হামলার বিষয়ে জেলেনস্কির বক্তব্য ইউক্রেনের দূরপাল্লার আক্রমণ চালিয়ে যাওয়ার অবস্থানকেই তুলে ধরছে।
তবে এই মুহূর্তে হামলার প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি, চারটি যুদ্ধবিমান সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে কি না এবং অন্য দু’টির অবস্থা কতটা গুরুতর, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা জরুরি। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ও সামরিক বাহিনী যে তথ্য দিয়েছে, তা তাদের পক্ষের দাবি হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। রাশিয়ার আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এবং নিরপেক্ষ সূত্রের যাচাই সামনে এলে হামলার প্রকৃত প্রভাব সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।
Defence News-এর সর্বশেষ আপডেট। ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, সামরিক মহড়া, যুদ্ধবিমান, ক্ষেপণাস্ত্র, অস্ত্র ও প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির খবর পড়ুন।