নির্বাচনী গণতন্ত্র ধ্বংসের অভিযোগ, সরকার বদলের ডাক প্রশান্ত ভূষণের
নয়াদিল্লি: নির্বাচনী গণতন্ত্রকে দুর্বল করার চেষ্টা চলতে থাকলে সরকার পরিবর্তনের দাবি তোলা গণতান্ত্রিক অধিকার, এমনই মন্তব্য করলেন প্রবীণ আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ (Prashant Bhushan)। বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লিতে এক…
নয়াদিল্লি: নির্বাচনী গণতন্ত্রকে দুর্বল করার চেষ্টা চলতে থাকলে সরকার পরিবর্তনের দাবি তোলা গণতান্ত্রিক অধিকার, এমনই মন্তব্য করলেন প্রবীণ আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ (Prashant Bhushan)। বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লিতে এক সাংবাদিক বৈঠকে তিনি অভিযোগ করেন, কেন্দ্রীয় সরকার দেশের নির্বাচনী গণতন্ত্র এবং নাগরিকদের মৌলিক অধিকারকে দুর্বল করছে। তাঁর বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। অন্যদিকে, ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) অভিযোগ করেছে, রাহুল গান্ধীর রাজনৈতিক শিবির বিরোধিতার নামে অরাজকতাকে উৎসাহ দিচ্ছে।
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে চলা প্রতিবাদ এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (এসআইআর) নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই প্রশান্ত ভূষণের এই মন্তব্য সামনে এল। সাংবাদিক বৈঠকে তাঁর পাশে ছিলেন অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (আইসা) সভাপতি নেহা বোরা এবং ককক্রোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে।
ALSO READ |
‘সরকার পরিবর্তন চাওয়া নাগরিকদের গণতান্ত্রিক অধিকার’
সাংবাদিক বৈঠকে প্রশান্ত ভূষণ বিরোধীদের আন্দোলনকে সরকার পরিবর্তনের উদ্দেশ্যে পরিচালিত অভিযান হিসেবে দেখানোর অভিযোগ খারিজ করেন। তিনি বলেন, সরকার বারবার এই আন্দোলনকে বিরোধীদের সরকার বদলের প্রচেষ্টা হিসেবে তুলে ধরছে। কিন্তু তাঁদের বক্তব্য, দেশের নির্বাচনী গণতন্ত্রকে রক্ষা করা জরুরি।
ভূষণের কথায়, এ ধরনের পরিস্থিতি চলতে থাকলে সরকার পরিবর্তনের দাবি উঠতে পারে। তাঁর বক্তব্য, সরকার পরিবর্তন চাওয়া প্রত্যেক নাগরিকের গণতান্ত্রিক অধিকার। সরকারের বিরুদ্ধে মানুষের অসন্তোষ তৈরি করাও অপরাধ নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
প্রবীণ এই আইনজীবী আরও অভিযোগ করেন, নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন সরকার নির্বাচনী গণতন্ত্রকে দুর্বল করছে এবং নাগরিকদের মৌলিক অধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে। তাঁর মতে, যে সরকার দেশের নির্বাচনী গণতন্ত্রকে দুর্বল করার চেষ্টা চালিয়ে যায়, সেই সরকারের ক্ষমতায় থাকা উচিত নয়।
তবে সরকার পরিবর্তনের দাবি এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক পক্ষের বক্তব্য আলাদা। ভূষণের মন্তব্য তাঁর রাজনৈতিক ও আইনি অবস্থানকে তুলে ধরে। তাঁর অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণের জন্য সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলির স্বাধীন যাচাই প্রয়োজন।
ALSO READ |
এসআইআর ও মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে ঘিরে প্রতিবাদ
ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে সিজেপি এবং বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাচ্ছে। এই প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া এবং ভোটারদের তথ্য যাচাইয়ের পদ্ধতি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে প্রশান্ত ভূষণ আন্দোলনের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন, তাঁদের দাবি নির্বাচনী গণতন্ত্র রক্ষা করা। অন্যদিকে, বিজেপি বিরোধীদের এই প্রচারকে গণতান্ত্রিক প্রতিবাদের পরিবর্তে অরাজকতাকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করেছে।
এসআইআর নিয়ে ওঠা অভিযোগ এবং নির্বাচন কমিশনের পদক্ষেপকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যে নাগরিকদের ভোটাধিকার, ভোটার তালিকার নির্ভুলতা এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। তবে নির্দিষ্ট অভিযোগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট নথি, সরকারি ব্যাখ্যা এবং স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি।
সাংবাদিকদের সঙ্গে আচরণ নিয়ে প্রশ্ন নেহা বোরার
একই সাংবাদিক বৈঠকে আইসার সভাপতি নেহা বোরা সাংবাদিকদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, প্রতিবাদ কর্মসূচির খবর সংগ্রহ করার সময় সাংবাদিকদের কাজে বাধা দেওয়া হয়েছে এবং সংবাদমাধ্যমের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
বোরার দাবি, কয়েকজন সাংবাদিকের কাছ থেকে ক্যামেরা কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। আন্দোলনের খবর সম্প্রচার করলে ক্যামেরা ফেরত দেওয়া হবে না বলেও তাঁদের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি। এক মহিলা সাংবাদিকের সঙ্গে কর্তৃপক্ষের আচরণ নিয়েও তিনি সমালোচনা করেন।
তবে এই অভিযোগগুলির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিস্তারিত বক্তব্য এই প্রতিবেদনে পাওয়া তথ্যের মধ্যে নেই। ফলে ঘটনাগুলির পূর্ণাঙ্গ চিত্র পেতে পুলিশ ও প্রশাসনের বক্তব্যও গুরুত্বপূর্ণ।
বিজেপির পাল্টা আক্রমণ, রাহুল গান্ধীর শিবিরকে নিশানা
প্রশান্ত ভূষণের মন্তব্যের পর বিজেপির মুখপাত্র প্রদীপ ভান্ডারি বিরোধীদের বিরুদ্ধে পাল্টা আক্রমণ করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ভূষণের বক্তব্যের একটি ভিডিয়ো প্রকাশ করে তিনি অভিযোগ করেন, রাহুল গান্ধীর রাজনৈতিক শিবির অরাজকতাকে উৎসাহ দিচ্ছে।
ভান্ডারির বক্তব্য, ভূষণের মন্তব্যে সরকার পরিবর্তনের দাবি স্পষ্ট হয়েছে এবং বিরোধীরা নিজেদের অবস্থান প্রকাশ্যে স্বীকার করছে। তিনি দাবি করেন, দেশের মানুষ অরাজকতাকে প্রত্যাখ্যান করবে এবং গণতন্ত্র রাহুল গান্ধীর রাজনীতিকে পরাজিত করবে।
অর্থাৎ, একদিকে প্রশান্ত ভূষণ নির্বাচনী গণতন্ত্র ও নাগরিকদের মৌলিক অধিকার রক্ষার যুক্তিতে সরকার পরিবর্তনের দাবিকে গণতান্ত্রিক অধিকার হিসেবে তুলে ধরেছেন। অন্যদিকে, বিজেপি এই প্রচারকে অরাজকতাকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা বলে আক্রমণ করেছে। এসআইআর এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে ঘিরে চলা প্রতিবাদের মধ্যেই দুই পক্ষের এই পাল্টাপাল্টি বক্তব্য রাজনৈতিক বিতর্ককে আরও সামনে নিয়ে এসেছে।