আইপিএলের আগে ধাক্কা হার্দিক পান্ডিয়ার! রাজস্থান রয়্যালসের সঙ্গে ট্রেড আলোচনা থমকে
কলকাতা: আইপিএল ২০২৭-এর আগে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের অধিনায়ক হার্দিক পান্ডিয়ার (Hardik Pandya) ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা ক্রমশ বাড়ছে। গত মরশুমে হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর তাঁর দল ছাড়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এবার রাজস্থান রয়্যালসের সঙ্গে হার্দিককে নিয়ে সম্ভাব্য ট্রেডের আলোচনা থমকে গিয়েছে বলে দাবি একটি প্রতিবেদনে। এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের ওপেনার যশস্বী জয়সওয়ালকে হার্দিকের বিনিময়ে রাজস্থান থেকে মুম্বইয়ে আনার সম্ভাবনা ছিল।
তবে দুই ফ্র্যাঞ্চাইজির মধ্যে আলোচনা কেন এগোয়নি, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনও কারণ প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে হার্দিকের ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো সম্ভব নয়।
হার্দিক পান্ডিয়া ও যশস্বী জয়সওয়ালকে নিয়ে কী পরিকল্পনা ছিল?
ক্রিকবাজের একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, মুম্বই ইন্ডিয়ান্স এবং রাজস্থান রয়্যালসের মধ্যে হার্দিক পান্ডিয়া ও যশস্বী জয়সওয়ালকে নিয়ে সম্ভাব্য ট্রেডের আলোচনা হয়েছিল। পরিকল্পনা অনুযায়ী, হার্দিক মুম্বই ছেড়ে রাজস্থানে যেতে পারতেন এবং জয়সওয়াল যোগ দিতে পারতেন মুম্বই ইন্ডিয়ান্সে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, কয়েক মাস আগে দুই দলের মধ্যে এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হলেও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যায়নি। ফলে সম্ভাব্য এই অদলবদল আপাতত অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
হার্দিককে ২০২৬ সালের আইপিএলের আগে মুম্বই ইন্ডিয়ান্স ১৬.৩৫ কোটি টাকায় ধরে রেখেছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২৫ সালের মরশুমের আগে তিনি গুজরাট টাইটান্স থেকে মুম্বইয়ে ফিরে এসেছিলেন।
অন্যদিকে, রাজস্থান রয়্যালস যশস্বী জয়সওয়ালকে ১৮ কোটি টাকায় ধরে রেখেছিল। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, মুম্বইয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে জয়সওয়াল আগ্রহী ছিলেন। তবে এই সম্ভাব্য ট্রেডের বিষয়ে দুই ফ্র্যাঞ্চাইজির তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি।
রাজস্থান রয়্যালসের পরিকল্পনায় লুয়ান-দ্রে প্রিটোরিয়াস
হার্দিক ও জয়সওয়ালের সম্ভাব্য ট্রেড নিয়ে আলোচনায় রাজস্থানের ওপেনিং কম্বিনেশনও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারত। দক্ষিণ আফ্রিকার ওপেনার লুয়ান-দ্রে প্রিটোরিয়াসকে রাজস্থানের সম্ভাব্য বিকল্প হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মেজর লিগ ক্রিকেটে প্রিটোরিয়াস ৪৬৫ রান করেছিলেন। তাঁর স্ট্রাইক রেট ছিল ১৭৬-এর বেশি। সেই মরশুমে একটি শতরান এবং চারটি অর্ধশতরানও করেছিলেন তিনি।
নামিবিয়ায় অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ত্রিদেশীয় সিরিজে চার ইনিংসে ২২৬ রান করেন প্রিটোরিয়াস। তাঁর স্ট্রাইক রেট ছিল ১৭৯.৩৭। চলতি এসএ২০ প্রতিযোগিতাতেও তাঁর ব্যাটিংয়ের প্রশংসা করা হয়েছে। টাইটানসের হয়ে নাইটসের বিরুদ্ধে মাত্র ৭৯ বলে অপরাজিত ১৮৮ রান করার কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।
এই পরিসংখ্যান রাজস্থানের ওপেনিং বিভাগে বিকল্প নিয়ে আলোচনাকে আরও গুরুত্ব দিয়েছে। তবে প্রিটোরিয়াসকে ঘিরে কোনও নির্দিষ্ট দলীয় সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।
চেন্নাই সুপার কিংসের সঙ্গে ট্রেডের সম্ভাবনাও থমকে?
এর আগে হার্দিক পান্ডিয়াকে মহেন্দ্র সিং ধোনির চেন্নাই সুপার কিংসে পাঠানোর সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তবে চেন্নাইয়ের কোচিং কাঠামোয় জাহির খানের আগমনের পর সেই সম্ভাব্য ট্রেডে বাধা তৈরি হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, মুম্বই ইন্ডিয়ান্সে জাহির খানের কাজ করার সময় থেকেই হার্দিক ও তাঁর সম্পর্ক স্বাভাবিক ছিল না। যদিও এই সম্পর্ক নিয়ে সংশ্লিষ্ট দুই পক্ষের কোনও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
রোহিত শর্মাকে আবার অধিনায়ক করার আলোচনা নেই?
এদিকে, মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের অধিনায়ক হিসেবে রোহিত শর্মাকে ফেরানোর বিষয়ে কোনও আলোচনা চলছে না বলে ফ্র্যাঞ্চাইজির তরফে জানানো হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
দলের কোচিং কাঠামো চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। সেই প্রক্রিয়ায় প্রধান কোচ মাহেলা জয়বর্ধনের পদে পরিবর্তন আসতে পারে বলেও জল্পনা রয়েছে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়নি।
আইপিএল ২০২৭-এর আগে ট্রেডে বাড়তে পারে তৎপরতা
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৫ নভেম্বরের রিটেনশন ডেডলাইনের আগে আগামী কয়েক সপ্তাহে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলির মধ্যে ট্রেড নিয়ে আলোচনা বাড়তে পারে। ফলে হার্দিক পান্ডিয়া, যশস্বী জয়সওয়াল এবং অন্যান্য ক্রিকেটারদের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন খবর সামনে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে, আইপিএলের গভর্নিং কাউন্সিলের ঘোষিত আরেকটি ট্রেডে বাঁহাতি পেসার টি নটরাজন ৫ কোটি টাকায় সানরাইজার্স হায়দরাবাদে ফিরেছেন। তাঁর পরিবর্তে লেগ স্পিনার জিশান আনসারি ৪০ লক্ষ টাকায় দিল্লি ক্যাপিটালসে যোগ দেবেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে চলতি বছর ঋষভ পন্থকে লখনউ সুপার জায়ান্টস থেকে দিল্লি ক্যাপিটালসে পাঠানো এবং কুলদীপ যাদবকে ঘিরে ট্রেডের কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
হার্দিক পান্ডিয়াকে নিয়ে মুম্বই ও রাজস্থানের সম্ভাব্য ট্রেড আপাতত এগোয়নি বলেই খবর। তবে আইপিএল ২০২৭-এর আগে দলগুলির রিটেনশন ও ট্রেড সংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত তাঁর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিতই থাকবে।