দলিত এবং জেন জ়ি, সমীকরণের এক্স ফ্যাক্টর?
অন্য দিকে, ইন্ডিয়া শিবিরেও অবশ্য সব কিছু ঠিক নেই। ইতিমধ্যেই ভোটের প্রচারের প্রথম পর্বেই যেখানে বিজেপি তাদের সাম্প্রদায়িক মেরুকরণ ও বিভাজনের রাজনীতি তীব্র করতে শুরু করেছে, সেখানে অখিলেশ যাদবের নেতৃত্বে সমাজবাদী পার্টি তাদের ‘পিডিএ’ ভোট একত্রিত করায় মন দিয়েছে। ‘পিডিএ’ এ ক্ষেত্রে ‘পিছড়া’ বা ওবিসি, ‘দলিত’ ও ‘অল্পসংখ্যক’ বা সংখ্যালঘু (পড়ুন মুসলিম)। অখিলেশ যাদব যদি এই তিনটি সামাজিক গোষ্ঠীকে নিয়ে একটি ঐক্যবদ্ধ নির্বাচনী ভিত্তি গড়ে তুলতে পারেন, তা হলে এই বিধানসভা ভোটের লড়াইয়ে তিনি সুবিধাজনক অবস্থানে থাকবেন। কিন্তু দলিত ও অ-যাদব ওবিসি সম্প্রদায়কে ঐক্যবদ্ধ করতে তিনি কতটা সমর্থ হবেন, তা নিয়ে সন্দেহ আছে। এই নিয়ে পরে আলোচনা করব। গত মাসের শেষের দিকে অখিলেশ যাদব তার নির্বাচনী এলাকার মানুষদের সংগঠিত করতে একটি ‘পিডিএ যাত্রা’ শুরু করেন। এটা এখনও ভ্রূণ পর্যায়ে রয়েছে। ফলে, রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে এর প্রভাব কত দূর কী পড়তে পারে, তা নিয়ে এখনই মূল্যায়ন করার সময় আসেনি। কিন্তু যাত্রা শুরু করার জন্য অখিলেশের রায়বরেলিকে বেছে নেওয়ার মতো পদক্ষেপ ইতিমধ্যেই বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। কারণ, এই পদক্ষেপটি যে আসলে সমাজবাদী পার্টির মূল গুরুত্বপূর্ণ জোটসঙ্গী কংগ্রেস, লোকসভায় যারা রায়বরেলির প্রতিনিধিত্ব করছে, তাদের উপরেই চাপ দেওয়া ও তাদের বিব্রত করার কৌশল, এমন মনে করা হলে তাকে ভুল বলা যাবে না। উত্তরপ্রদেশে যদি বিজেপি-বিরোধীদের জিততে হয়, তা হলে কংগ্রেস ও সমাজবাদী পার্টিকে সৌহার্দ্যপূর্ণ, তাৎক্ষণিক নির্বাচনী বোঝাপড়ায় আসতেই হবে, যাতে দুটো দলই আর দেরি না করে এক সঙ্গে নির্বাচনী প্রচারে নেমে পড়তে পারে। এবং তারা যে একজোট হয়ে লড়ছে, সে বিষয়ে ভোটারের মনেও যাতে কোনও সংশয় না থাকে, সেই বার্তাও দুই দলের দিক থেকে যাওয়া একান্ত অপরিহার্য।