‘ইন্ডিয়া’-র অস্ত্র এ বার ‘সারপ্রাইজ়’ আন্দোলন! নয়া কৌশলে বিরোধীরা? - 24 Ghanta Bangla News
Home

‘ইন্ডিয়া’-র অস্ত্র এ বার ‘সারপ্রাইজ়’ আন্দোলন! নয়া কৌশলে বিরোধীরা?

Spread the love

সুদেষ্ণা ঘোষাল, নয়াদিল্লি

অস্ত্র এ বার ‘সারপ্রাইজ় আন্দোলন’!

দিল্লির যন্তর মন্তরে সব রকমের প্রতিবাদ–আন্দোলন বন্ধের নির্দেশিকা প্রশাসন জারি করলেও মঙ্গলবার সাতসকালে ‘সারপ্রাইজ়’ প্রতিবাদ জানালেন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র (সিজেপি) সৌরভ দাস, আশুতোষ রাঙ্কা, অজিঙ্ক শিন্ডে–সহ কয়েকজন। পুলিশ চটজলদি তাঁদের আটক করে নিয়ে গেলেও ততক্ষণে পুলিশি ব্যারিকেড টপকে যন্তর মন্তর চত্বরে ঢুকে পড়া সৌরভ–রাঙ্কাদের জাতীয় পতাকা হাতে ভিডিয়ো সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল। তাঁদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের হতে পারে বলেও পুলিশ সূত্রের দাবি। আবার দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ এবং ভোটার তালিকায় স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (সার) বাতিলের দাবিতে আগামী দিনের আন্দোলনে ‘সারপ্রাইজ়’ রাখার বার্তা এ দিন বিকেলে বিরোধী শিবিরের চা পানের বৈঠকে দিলেন রাহুল গান্ধীও। সামনেই উৎসবের মরশুম। তাই প্রতিদিন জনজীবন অচল করে লাগাতার আন্দোলন চালানো খুব সময়োপযোগী হবে না বুঝেই পরবর্তী আন্দোলন কর্মসূচিতে ‘সারপ্রাইজ় এলিমেন্ট’ রাখতে চায় বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ শিবির।

সিইসি অপসারণ ও ‘সার’ বাতিল নিয়ে সিজেপির এই আন্দোলন কর্মসূচি থেকে কংগ্রেস নেতৃত্ব সচেতন ভাবে নিজেদের দূরে রাখতে চান বলেই গত ক’দিন ধরে দিল্লির রাজনৈতিক অলিন্দে চর্চা চলছিল। তাই গত শনিবার ককরোচদের ‘যন্তর মন্তর চলো’র কর্মসূচিতে বাম, আপ, কালীঘাট তৃণমূলের নেতৃত্ব সরাসরি ময়দানে নেমে সামিল হলেও রাহুল গান্ধী–সহ কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বকে সে দিন মাঠে নামতে দেখা যায়নি। তারও আগে দিল্লিতে আন্দোলনের রণকৌশল সাজানোর জন্য ‘ইন্ডিয়া’র বৈঠকেও সিজেপিকে ডাকার ব্যাপারে কংগ্রেসের অনীহা ছিল বলে খবর।

এই আবহে এ দিন এক্স হ্যান্ডলে সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট— ‘ষড়যন্ত্রের তত্ত্বের ভিত্তিতে নিজেদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি হতে দেবেন না। যখন আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকা প্রয়োজন, তখন নিজেদের মধ্যে বিবাদের ফাঁদে পা দেবেন না। আমাদের লড়াইটা জ্ঞানেশ কুমার এবং যারা তাঁকে আড়াল করছে, তাদের বিরুদ্ধে। সেই মূল লক্ষ্য থেকে যেন দৃষ্টি সরে না–যায়।’

দীপকের দাবি, ‘সিজেপির বিক্ষোভ ঘিরে যখন ধুন্ধুমার হলো, তখন অনেকেই চটজলদি ষড়যন্ত্রের তত্ত্ব খাড়া করে বসল যে— আমরা নাকি বিজেপিরই লোক। অথচ ইন্ডিয়া জোট গতকাল (সোমবার) বিশাল বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করল, কিন্তু ১০ অক্টোবর আমাদের উপরে যে ধরনের দমন-পীড়ন চালানো হয়েছিল, গতকাল তেমন কিছুই ঘটেনি। সরকার ঠিক এ ভাবে আমাদের একে অন্যের বিরুদ্ধে দাঁড় করিয়ে সন্দেহ ও অবিশ্বাসের বীজ বোনে। সবার কাছে একটাই অনুরোধ— এই কৌশলগুলো বোঝার চেষ্টা করুন।’

এই আবহে এ দিন দিল্লিতে রাহুলের বাসভবনে বৈঠকে বসেছিলেন ‘ইন্ডিয়া’ শিবিরের সদস্যরা। সেখানে ছিলেন তেজস্বী যাদব, সুপ্রিয়া সুলে, সঞ্জয় রাউত, সাগরিকা ঘোষ, এমএ বেবি, দীপঙ্কর ভট্টাচার্যের মতো বিরোধী নেতৃত্বের সঙ্গে বাম ছাত্র সংগঠন আইসা–র সর্বভারতীয় সভাপতি নেহা বোরাও। সূত্রের দাবি, ‘সাপও মরবে অথচ লাঠিও ভাঙবে না’— আপাতত এই নীতি নিয়ে চলার চেষ্টা করবে ‘ইন্ডিয়া’ জোট৷ এ দিনের ‘চায়ে পে চর্চায়’ ঠিক হয়েছে— প্রথমে নজর রাখা হবে সুপ্রিম কোর্টে দায়ের করা মামলার গতিপ্রকৃতির দিকে৷ তারপরে উৎসবের মেজাজে থাকা সাধারণ মানুষের সুবিধে–অসুবিধের কথা মাথায় রেখে বিশেষ বিশেষ দিনে হবে ‘সারপ্রাইজ় আন্দোলন’৷ রাজধানী দিল্লির পাশাপাশি দেশের সর্বত্র ছড়িয়ে দেওয়া হবে আন্দোলন৷

রাহুল পরে বলেন, ‘গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার লড়াই আমরা করছি একসঙ্গে। সরকার চায়, মানুষ তাদের কথা বলতে পারবে না। আমরা এটাকে চ্যালেঞ্জ করতে চাই। আমরা একযোগে মানুষকে ধন্যবাদ জানাতে চাই, আমাদের সঙ্গে থাকার জন্য। আমরা একজোট হয়েই শেষ পর্যন্ত লড়াই করব। কী ভাবে করব, সেটা বলব না। তা হলে তো সারপ্রাইজ় নষ্ট হয়ে যাবে।’ তাঁর সংযোজন, ‘আমি সুপ্রিম কোর্ট, প্রধান বিচারপতি তথা দেশের বিচার ব্যবস্থাকে সম্মান করি। আশা করি, তাঁরা সেই ভূমিকা পালন করবেন। তবে কোনও প্রতিষ্ঠান যাই করুক না কেন, রাজনৈতিক দল হিসেবে আমাদের প্রতিবাদ জারি থাকবে। এক–দু’বছরও লাগতে পারে, কিন্তু আমরা থামব না।’

রাহুল জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, জ্ঞানেশ কুমারদের ঘিরে ‘জাল গুটিয়ে আসছে’। কী ভাবে সেই চাপ আরও বাড়ানো হবে, তা এখনই প্রকাশ করতে চাননি রাহুল। তবে সিজেপির ক্ষেত্রে কংগ্রেস বা ‘ইন্ডিয়া’র অবস্থান কী হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। মঙ্গলবার রাহুল এই প্রশ্নের জবাবে বলেছিলেন, ‘দেশে সমান্তরাল কোনও আন্দোলন হচ্ছে না৷ একটাই আন্দোলন পরিচালিত হচ্ছে৷’ যদিও এ দিনের বৈঠকে সিজেপির কাউকে দেখা যায়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *