Kishore Kumar: মুম্বই, কলকাতায় নয়, কিশোর কুমারের শেষকৃত্য কেন খান্ডোয়ায় হয়েছিল জানেন? | Why kishore kumar funeral held in khandwa last wish
ভারতীয় সংগীত জগতের অবিসংবাদিত রাজপুত্র কিশোর কুমার। যাঁর কণ্ঠের জাদুতে চার দশকেরও বেশি সময় ধরে দোলা দিয়েছে শত কোটি ভারতীয়র হৃদয়। ১৯৮৭ সালের ১৩ অক্টোবর মুম্বইয়ে এই কিংবদন্তি শিল্পীর জীবনের যবনিকা পাত ঘটে। কিন্তু কোটি কোটি টাকার গ্ল্যামার, মায়ানগরী মুম্বইয়ের খ্যাতি কিংবা পৈতৃক শহর কলকাতার ভালোবাসা—কোনওটাই তাঁকে শেষ বিদায়ের দিনে বেঁধে রাখতে পারেনি। জীবনের অন্তিম যাত্রায় তিনি ফিরে গিয়েছিলেন নিজের শিকড়ে, জন্মভূমি মধ্যপ্রদেশের ছোট শহর খান্ডোয়াতে। কিন্তু কেন মুম্বই বা কলকাতায় নয়, খান্ডোয়াতেই তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছিল?
১৯২৯ সালের ৪ আগস্ট মধ্যপ্রদেশের মধ্যবিত্ত গাঙ্গুলি পরিবারে জন্ম হয় আভাষ কুমার গাঙ্গুলির, যাঁকে বিশ্ব চেনে কিশোর কুমার নামে। শৈশব ও কৈশোরের স্মৃতিবিজড়িত খান্ডোয়ার প্রতি কিশোরদার ভালোবাসা ছিল অন্ধের মতো। মুম্বইয়ের ঝলমলে জীবনের সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছেও তিনি নিজেকে সবসময় বলতেন— “ম্যায় কিশোর কুমার খান্ডোয়েওয়ালা!” দেশ-বিদেশের নানা কনসার্ট এবং স্টেজে এই পরিচয়েই নিজেকে তুলে ধরতে গর্ববোধ করতেন তিনি।
জীবনের শেষ পর্বে এসে বলিউডের ইঁদুর দৌড়, কৃত্রিম বাণিজ্যিক পরিবেশ এবং সেই সময়ের মিউজিক ইন্ডাস্ট্রির ধরন নিয়ে কিছুটা বিরক্ত হয়ে পড়েছিলেন কিশোর কুমার। তিনি প্রায়শই পরিবার ও নিকটজনদের বলতেন, মুম্বইয়ের এই ব্যস্ত জীবন ছেড়ে তিনি চিরতরে খান্ডোয়ায় ফিরে যাবেন। সেখানে গিয়ে শান্তিতে চাষবাস করবেন, দুধ-জিলিপি খাবেন এবং সাধারণ মানুষের মতো জীবনযাপন করবেন। জন্মভূমির সেই ধুলোবালি, মাটির গন্ধই ছিল তাঁর আসল ঠিকানা।
মৃত্যুর ঠিক আগে থেকেই কিশোর কুমার স্পষ্ট করে তাঁর শেষ ইচ্ছার কথা জানিয়েছিলেন। তিনি চেয়েছিলেন, মৃত্যুর পর যেন তাঁর শেষযাত্রা ও শেষকৃত্য কোনও বড় মেট্রো সিটিতে না হয়ে তাঁর জন্মভূমি খান্ডোয়ার মাটিতেই সম্পন্ন হয়।
১৩ অক্টোবর ১৯৮৭-তে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে যখন কিশোরদা পরলোকে পাড়ি দেন, তখন গোটা বলিউড শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছিল। তবে তাঁর অন্তিম ইচ্ছা মেনে নিয়ে পরিবার ও আত্মীয়রা মরদেহ মুম্বই থেকে নিয়ে যান খান্ডোয়ায়। সেখানে তাঁর পৈতৃক ভিটের কাছে, সাধারণ মানুষের অগণিত ভালোবাসার মাঝে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যদা ও পারিবারিক রীতি মেনে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয়।
আজও খান্ডোয়ায় কিশোর কুমারের স্মৃতিসৌধ বা ‘মুক্তিধাম’ রয়েছে, যেখানে বিশ্বের কোণা কোণা থেকে কিশোর-প্রেমীরা ছুটে আসেন প্রিয় ‘কিশোর দা’-কে শ্রদ্ধা জানাতে। গ্ল্যামারের রঙিন আলো থেকে দূরে গিয়ে নিজের মাটির কাছে ফিরে যাওয়ার এই সিদ্ধান্তই প্রমাণ করে দেয়, কিশোর কুমার কেন বাকিদের চেয়ে এতটাই আলাদা ছিলেন।