হুথিদের বিরুদ্ধে সৌদির পাশে ইসরায়েল! নেতানিয়াহুর প্রস্তাবে সলমনের আপত্তি - 24 Ghanta Bangla News
Home

হুথিদের বিরুদ্ধে সৌদির পাশে ইসরায়েল! নেতানিয়াহুর প্রস্তাবে সলমনের আপত্তি

Spread the love

পশ্চিম এশিয়ার কূটনৈতিক মহলে ফের চাঞ্চল্যকর এক খবর। (Netanyahu)ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইয়েমেনের আনসারুল্লাহ বা হুথি বাহিনীর বিরুদ্ধে সৌদি আরবের সামরিক অভিযানে যোগ দিতে রিয়াদের…

পশ্চিম এশিয়ার কূটনৈতিক মহলে ফের চাঞ্চল্যকর এক খবর। (Netanyahu)ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইয়েমেনের আনসারুল্লাহ বা হুথি বাহিনীর বিরুদ্ধে সৌদি আরবের সামরিক অভিযানে যোগ দিতে রিয়াদের অনুমতি চাইছেন। ইসরায়েলি সংবাদপত্র হারেৎজের এক কূটনৈতিক সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে। তবে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সলমন এই প্রস্তাবে সাফ আপত্তি জানিয়েছেন। তাঁর আশঙ্কা, ইসরায়েলি সামরিক অংশগ্রহণ সৌদি জনগণের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে।

নেতানিয়াহুর এই উদ্যোগকে কেবল সামরিক সহযোগিতা হিসেবে দেখা হচ্ছে না। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, তিনি এটাকে রিয়াদের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের একটা সুযোগ হিসেবে দেখছেন। দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েল ও সৌদি আরবের মধ্যে স্বাভাবিকীকরণ চুক্তির আলোচনা চলছে। নেতানিয়াহু মনে করছেন, হুথিদের বিরুদ্ধে যৌথ অভিযান সেই পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে। মার্কিন মধ্যস্থতায় এই আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে।

আরও দেখুনঃ নির্বাচন ঘোষণা হলে বিজেপির পতাকা ধরবেন অন্তত ২৫ বিধায়ক! কর্নাটকে টলমল কংগ্রেস মসনদ

তবে সৌদি যুবরাজের অবস্থান স্পষ্ট। (Netanyahu)মোহাম্মদ বিন সলমন মনে করেন, ইসরায়েলকে সরাসরি সামরিকভাবে যুক্ত করলে দেশের অভ্যন্তরে জনরোষ দেখা দিতে পারে। সৌদি আরবের সাধারণ মানুষের মধ্যে ফিলিস্তিন ইস্যু নিয়ে এখনও তীব্র অনুভূতি রয়েছে। ইসরায়েলের সঙ্গে কোনো প্রকাশ্য সামরিক জোট সেই অনুভূতিকে আরও উসকে দিতে পারে। তাই তিনি এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন।

এই খবর এমন এক সময়ে এসেছে যখন ইয়েমেনের পরিস্থিতি আবার উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। হুথি বাহিনী সম্প্রতি সৌদি আরবের বিভিন্ন লক্ষ্যে হামলা চালিয়েছে। রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় একাধিক মানুষ নিহত ও আহত হয়েছেন। নেতানিয়াহু সেই হামলার নিন্দা করে সৌদি জনগণের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছিলেন। যদিও দুই দেশের মধ্যে কোনো আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই, তবুও এই বিরল বিবৃতি অনেকের নজর কেড়েছিল।

হারেৎজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেতানিয়াহু (Netanyahu)এই অভিযানে যোগ দিয়ে রিয়াদের সঙ্গে সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করতে চান। তিনি মনে করেন, এতে ভবিষ্যতে স্বাভাবিকীকরণ চুক্তির পথ সুগম হতে পারে। তবে সৌদি আরব বারবার বলে এসেছে, ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার কোনো স্পষ্ট পথ না থাকলে তারা ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করবে না। অন্যদিকে নেতানিয়াহু নিজেই ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের বিরোধিতা করে আসছেন। ফলে এই দুই অবস্থানের মধ্যে বড় ফাঁক রয়ে গেছে।

পশ্চিম এশিয়ার বিশ্লেষকরা বলছেন, নেতানিয়াহুর এই উদ্যোগ তাঁর অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশের সঙ্গেও জড়িত। ইসরায়েলে আসন্ন নির্বাচনের আগে কোনো বড় কূটনৈতিক সাফল্য তাঁর অবস্থান শক্তিশালী করতে পারে। হুথিদের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক পদক্ষেপ নিলে সেটা তাঁর জোটকেও কিছুটা সুবিধা দিতে পারে। তবে সৌদি পক্ষের আপত্তির কারণে এখনই কোনো অগ্রগতি হচ্ছে না।

ইয়েমেনের যুদ্ধ দীর্ঘদিন ধরে চলছে। সৌদি আরবের নেতৃত্বে জোট বাহিনী হুথিদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে আসছে। অন্যদিকে হুথিরা ইরানের সমর্থনপুষ্ট এবং লোহিত সাগরের নৌপথে হামলা চালিয়ে আঞ্চলিক বাণিজ্যকেও প্রভাবিত করছে। ইসরায়েল ইতিমধ্যেই কয়েকবার হুথি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। কিন্তু সৌদি আরবের সঙ্গে যৌথ অভিযান একদম অন্য মাত্রার বিষয়।

এই পরিস্থিতিতে আমেরিকার ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ। ওয়াশিংটন দুই দেশের মধ্যে মধ্যস্থতা করছে বলে জানা গেছে। তবে সৌদি যুবরাজের আপত্তি কাটিয়ে ওঠা সহজ হবে না। জনমতের চাপ এবং আঞ্চলিক জটিলতা বিবেচনা করে রিয়াদ সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *