ভারতে এআই বিপ্লবের পথে আদানি! আমেরিকার জাবিলের সঙ্গে বড় চুক্তি
নয়াদিল্লি: আদানি গ্রুপের ফ্ল্যাগশিপ কোম্পানি আদানি এন্টারপ্রাইজেস (Adani Jabil)লিমিটেড এবং আমেরিকার জাবিল ইনকর্পোরেটেড একসঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি করেছে। দুই সংস্থা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডেটা সেন্টার…
নয়াদিল্লি: আদানি গ্রুপের ফ্ল্যাগশিপ কোম্পানি আদানি এন্টারপ্রাইজেস (Adani Jabil)লিমিটেড এবং আমেরিকার জাবিল ইনকর্পোরেটেড একসঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি করেছে। দুই সংস্থা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডেটা সেন্টার সরঞ্জাম তৈরির জন্য ৫০:৫০ যৌথ উদ্যোগ গঠনের লক্ষ্যে একটি নন-বাইন্ডিং সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে। এই উদ্যোগ ভারতে এআই পরিকাঠামো নির্মাণে নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে।
মঙ্গলবার এই ঘোষণা এসেছে। সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, প্রস্তাবিত যৌথ উদ্যোগ ভারতে এআই র্যাক, সার্ভার, স্টোরেজ ও নেটওয়ার্কিং সরঞ্জাম তৈরি ও সংযোজন করবে। পাশাপাশি পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন ইউনিট, লিকুইড কুলিং সিস্টেম ও ট্রান্সফরমারও তৈরি করা হবে। এই সরঞ্জাম ডেটা সেন্টার পরিচালনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এই চুক্তি এখনও চূড়ান্ত নয়। নির্দিষ্ট চুক্তি স্বাক্ষর, প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও অন্যান্য শর্ত পূরণের ওপর নির্ভর করছে। জুন ২০২৬-এ আদানি গ্রুপ ও জাবিল কৌশলগত জোট গঠনের ঘোষণা দিয়েছিল। সেই ঘোষণারই ধারাবাহিকতা এই সমঝোতা স্মারক।
আদানি গ্রুপের চেয়ারম্যান গৌতম আদানি বলেছেন, (Adani Jabil)এই যৌথ উদ্যোগ ভবিষ্যতের দিকে একটি কৌশলগত পদক্ষেপ। জাবিলের প্রকৌশল ও উৎপাদন দক্ষতার সঙ্গে আদানির জ্বালানি, পরিকাঠামো ও ডেটা সেন্টারের শক্তি একত্রিত হবে। এর ফলে বৈশ্বিক এআই অর্থনীতির ভৌত ভিত্তি তৈরি করা সম্ভব হবে।
জাবিলের সিইও মাইক ডাস্টুর জানিয়েছেন, ভারত ঘরোয়া ও বৈশ্বিক এআই পরিকাঠামোর চাহিদার কেন্দ্র হয়ে উঠছে। জাবিলের ষাট বছরের অভিজ্ঞতার সঙ্গে আদানির অবকাঠামো সক্ষমতা যুক্ত করে হাইপারস্কেলারদের জন্য সমাধান দেওয়া হবে।
ভারতে ডেটা সেন্টারের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। শিল্প বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের ডেটা সেন্টার ক্ষমতা ৫ থেকে ৮ গিগাওয়াটে পৌঁছাতে পারে। এআই গ্রহণ, ক্লাউড সম্প্রসারণ ও ডেটা স্থানীয়করণ এই বৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি। বৈশ্বিক বাজারে আগামী সাত বছরে তিন ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি সুযোগ রয়েছে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
প্রস্তাবিত যৌথ উদ্যোগ মাল্টি-গিগাওয়াট এআই র্যাক উৎপাদন ক্ষমতা তৈরি করবে। এটি শুধু উৎপাদন নয়, ইনস্টলেশন ও কমিশনিং সেবাও দেবে। ভারতীয় বাজারের পাশাপাশি রপ্তানির লক্ষ্যও রয়েছে। আদানি গ্রুপের ২০৩৫ সালের মধ্যে ৫ গিগাওয়াট সবুজ জ্বালানি চালিত এআই-রেডি ডেটা সেন্টার গড়ার ১০০ বিলিয়ন ডলারের প্রতিশ্রুতির সঙ্গে এই উদ্যোগ সামঞ্জস্যপূর্ণ।
এই অংশীদারিত্ব ভারতকে এআই হার্ডওয়্যার উৎপাদনের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। মেড ইন ইন্ডিয়া পণ্য ঘরোয়া চাহিদা মেটাবে এবং বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতা করবে। কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।