‘বোন’ নেহাকে আগলে রাখলেন প্রিয়াঙ্কা-রাহুল - 24 Ghanta Bangla News
Home

‘বোন’ নেহাকে আগলে রাখলেন প্রিয়াঙ্কা-রাহুল

Spread the love

এই সময়, নয়াদিল্লি: নির্বাচন কমিশন এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (সার)–এর বিরুদ্ধে চলতে থাকা লড়াইয়ে অবশেষে অনেকটাই সঙ্ঘবদ্ধ ‘ইন্ডিয়া’ শিবির৷ সোমবার দিল্লির রাজপথে অন্তত তেমন ছবিই ধরা পড়ল। দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাব থেকে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত সোমবার মিছিল করেন ‘ইন্ডিয়া’ শিবিরের শীর্ষ নেতারা৷ মিছিলে যোগ দেন সপা–সুপ্রিমো অখিলেশ যাদবও৷

হাত ধরে অখিলেশকে ছোট ট্রাকে তুলে নেন কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী৷ সামান্য সৌজন্য বিনিময়ের পরে একই ট্রাকে দু’জনে গেলেন প্রায় তিন কিলোমিটার৷ উত্তরপ্রদেশের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে আসন বণ্টন ঘিরে রাহুল–অখিলেশের দূরত্ব বেড়েছে বলে খবর। সেই প্রেক্ষাপটে এ দিনের এই ‘হাত ধরা’ তাৎপর্যপূর্ণ।

মিছিলে পা মেলান বাম ছাত্র সংগঠন আইসা–র নেত্রী নেহা বোরাও৷ প্রচন্ড ভিড় আর ধাক্কাধাক্কির মধ্যে নেহাকে নিজের বোনের মতো আগলে রাখলেন কংগ্রেস সাধারণ সম্পাদক প্রিয়াঙ্কা গান্ধী৷ মিডিয়ার ক্যামেরার সামনে ব্যাটম্যানের মুখোশ পরে ‘পোজ়’ দিলেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে এবং রাহুল গান্ধী দু’জনেই! হেভিওয়েট নেতাদের এই জোশ দেখে আরজেডি, সিপিআই, সিপিএম, এনসিপি–সহ অন্যান্য বিরোধী দলের প্রতিনিধিরাও সমান উত্‍সাহে যোগ দিলেন মিছিলে৷ তবে ছিলেন না শুধু ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)–এর প্রতিনিধিরা৷

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে যে আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়েছিল, সেখানে সোমবার বিরোধী জোটের চালিকা শক্তি হিসেবে উঠে এলো কংগ্রেসই৷ এ দিন দেশের সব রাজ্য থেকে যে ভাবে কংগ্রেসের বিধায়ক, সাংসদ এবং মুখ্যমন্ত্রীদের দিল্লিতে এনে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত মিছিলের আয়োজন করেছেন হাইকম্যান্ড, তাতে স্পষ্ট— আগামী দিনে এই আন্দোলনকে গোটা দেশে ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে শতাব্দী প্রাচীন দল৷ একই লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে সিজেপি–ও৷ তারাও ইতিমধ্যেই গণ-আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন৷ সে ক্ষেত্রে জ্ঞানেশ–বিরোধী আন্দোলনের দু’টি অভিমুখ দেখতে পাচ্ছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের বড় অংশ৷ এই দু’টি অভিমুখ আগামী দিনে গোটা আন্দোলনকে কোন পথে নিয়ে যায়, সে দিকেই নজর সবপক্ষের৷

মূলত কংগ্রেসের আপত্তিতেই যে বিরোধী আন্দোলন থেকে দূরে সরিয়ে রাখা হচ্ছে সিজেপিকে, সেটা স্বীকার করে নিচ্ছেন বিরোধী শিবিরের বাকি নেতারাও৷ সূত্রের খবর, ‘ইন্ডিয়া’ শিবিরের অধিকাংশ নেতা মনে করেন সিজেপিকে সঙ্গে নিয়ে একজোট হয়ে আন্দোলন করলে ফল ভালো হতো৷ এ দিন বিরোধী শিবিরের এক নেতা বলেন, ‘সকলকে ঐক্যবদ্ধ রাখার চেষ্টা হচ্ছে৷ ককরোচ জনতা পার্টিই এই আন্দোলন শুরু করেছে৷’ তবে, সোমবারই সিজেপির আন্দোলন সম্পর্কে প্রশ্নের মুখে রাহুল বুঝিয়ে দিয়েছেন, তাঁরা দূরত্ব রেখে চলারই পক্ষপাতী। সিজেপির ‘সমান্তরাল আন্দোলন’ প্রসঙ্গে রাহুলের সাফ জবাব, ‘প্রোটেস্ট একটাই হচ্ছে, সমান্তরাল কোনও প্রতিবাদ হচ্ছে না। একটাই প্রতিবাদ— সেটা প্রধানমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে সরানোর৷’

সোমবার দুপুরে দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে বৈঠকে বসেন বিরোধী নেতারা। সেখানে ছিলেন রাহুল, প্রিয়াঙ্কা, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অখিলেশ, তেজস্বী যাদবেরা। বৈঠক শেষে সাংবাদিক বৈঠকে জ্ঞানেশ কুমারকে কটাক্ষ করেন রাহুল। তার পরেই একটি বাসে চেপে যাত্রা শুরু করেন বিরোধী নেতারা। সেখানে ছিলেন নেহাও। মমতার অবশ্য কলকাতা ফেরার ফ্লাইট ধরার তাড়া ছিল বলে তিনি বিরোধীদের মিছিলে অংশগ্রহণ করেননি৷ কনস্টিটিউশন ক্লাবে বিরোধী নেতাদের সঙ্গে বৈঠক সেরে উনি দিল্লি বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা দেন৷ এ দিন বিরোধীদের বাসের পিছনে হাজার হাজার কর্মী–সমর্থকের মিছিল চোখে পড়েছে। ভগবান দাস মার্গে আটকে দেওয়া হয় বিরোধী জোটের এই মিছিল।

সেখানে মানবশৃঙ্খল গড়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন আধাসেনা জওয়ানেরা। শেষ পর্যন্ত সন্ধ্যা সাড়ে ছ’টা নাগাদ সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছন রাহুলেরা। সেখান থেকে বেরিয়ে তাঁরা রওনা দেন খাড়গের বাড়ির উদ্দেশে। প্রথম দিন থেকে রাহুল–প্রিয়াঙ্কার প্রচারের আলো কাড়া নিয়ে বিরোধী শিবিরে অসন্তোষের আবহ থাকলেও সোমবার কিন্তু তেমন কিছুই চোখে পড়ল না। বরং এ দিন পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতার মন্তব্য, ‘মানুষ ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে, সেই মানুষের জন্য আমরা বিচার চাই। আমরা সবাই একজোট হয়ে লড়ছি৷’ যদিও মমতাকে বিঁধে বঙ্গ বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের কটাক্ষ, ‘উনি নিজেকে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার বলতেন। এখন উনি আরশোলাদের সঙ্গে খেলা করছেন কেন? বাংলা নিজের মেয়েকেই চায়। আমরা চাই, উনি এখানে আসুন। ওঁর অস্থির পদচারণ বাংলার বিভিন্ন পুজোমণ্ডপে দেখতে চাই।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *