পাশে আছেন সংখ্যালঘুরা, বার্তা শমীক, শুভেন্দুরও
এই সময়: সংখ্যালঘু প্রভাবিত মুর্শিদাবাদের রেজিনগরের উপনির্বাচনের জয়কে হাতিয়ার করে রাজ্যের সংখ্যালঘু সমাজকে বার্তা দিতে চাইছে বিজেপি। মুসলিমদের সঙ্গে যে পদ্মের কোনও বিরোধ নেই, রেজিনগরে জয়ের পর থেকে সে কথাই জোর গলায় প্রচার করছেন পদ্ম–নেতারা। উপনির্বাচনের আগে রেজিনগর এবং পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রামের সংখ্যালঘু সমাজের উদ্দেশে বন্ধুত্বের আহ্বান জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। উপনির্বাচনের ফল প্রকাশের পরে তিনি হেসে বলেছিলেন, ‘ফ্রেন্ডশিপ বনা লিয়া।’
দুই বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে দলীয় প্রার্থীদের জয় উদযাপন করতে সোমবার কলকাতায় বিজয় সমাবেশ পালন করে বিজেপি। সেই অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী ফের বুঝিয়ে দেন, সংখ্যালঘুদের সঙ্গে বিজেপির কোনও বিরোধ নেই। তিনি বলেন, ‘রেজিনগরে অসম্ভব সম্ভব হয়েছে। সেখানে বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকার ৭৫ হাজার ভোটে জিতেছেন। প্রমাণ হয়ে গিয়েছে, পশ্চিমবাংলায় ভেদাভেদের রাজনীতি চলবে না। উন্নয়নের রাজনীতি এগিয়ে যাবে। রাষ্ট্রবাদের জয়গানই জিতবে।’
একই সুরে রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের সংযোজন, ‘বিভাজনের রাজনীতির গল্প শুনিয়েছিলেন পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ধারাভাষ্যকাররা। একটা প্রচার চালানো হয়েছিল, বিজেপি মুসলিম বিরোধী। বিজেপিকে ভোট দিলে মুসলমানদের সর্বনাশ হয়ে যাবে। উপনির্বাচনের জয় প্রমাণ করে দিল, পশ্চিমবঙ্গের সংখ্যালঘু সম্প্রদায় উন্নয়ন চায়, হাতে কলম চায়। তাঁরা সুস্থ, সামাজিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে চান। তাঁরা বিজ্ঞান পড়তে চান।’ তাঁর মতে, ‘সংখ্যালঘুদের এই মনোভাবের প্রতিফলন ঘটেছে রেজিনগর, নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনের ফলাফলে। আমরা প্রথমেই বলেছিলাম, আমাদের লড়াই কোনও সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে নয়।’
শুধু সংখ্যালঘুদের সমর্থন আদায় নয়, দুই কেন্দ্রের উপনির্বাচনে বাংলার ভোট সংস্কৃতির পরিবর্তন ঘটেছে বলেও রাজ্য বিজেপি সভাপতির অভিমত। তাঁর কথায়, ‘রক্তপাত নেই, বোমাবাজি নেই, বুথ দখল নেই, প্রার্থীদের উপরে আক্রমণ নেই। চার মাস ধরে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে পশ্চিমবঙ্গ সরকার চলছে। এই চার মাসের কৃতকর্মের প্রতিফলন দেখা গিয়েছে নন্দীগ্রাম, রেজিনগরে উপনির্বাচনের ফলাফলে।’