নতুন প্রতিবাদস্থল রামলীলা ময়দান, বুকিংয়ে খরচ ১.২১ লক্ষ টাকা! ফাঁকা মোটে তিন দিন - 24 Ghanta Bangla News
Home

নতুন প্রতিবাদস্থল রামলীলা ময়দান, বুকিংয়ে খরচ ১.২১ লক্ষ টাকা! ফাঁকা মোটে তিন দিন

Spread the love

নয়াদিল্লি: যন্তর মন্তরকে আন্দোলনস্থল হিসেবে বাতিল করে দিল্লির নতুন তিনটি স্থানে প্রতিবাদের অনুমতি দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্ত ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক শোরগোল শুরু হয়েছে। এর…

নয়াদিল্লি: যন্তর মন্তরকে আন্দোলনস্থল হিসেবে বাতিল করে দিল্লির নতুন তিনটি স্থানে প্রতিবাদের অনুমতি দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্ত ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক শোরগোল শুরু হয়েছে। এর মধ্যেই নতুন ঘোষিত প্রধান প্রতিবাদস্থল রামলীলা ময়দান নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। প্রশাসনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আগামী দিনে রাজনৈতিক জমায়েত বা প্রতিবাদের জন্য এ বছর এই ময়দানে মাত্র তিনটি দিন ফাঁকা রয়েছে! শুধু তাই নয়, বিশাল এই ময়দান বুকিংয়ের জন্য মোটা অঙ্কের খরচ এবং রয়েছে একাধিক কড়াকড়িও।

দিল্লি পুলিশ কমিশনার অনুরাগ কুমারের গত ১১ অক্টোবরের নির্দেশিকায় যন্তর মন্তরকে বাদ দিয়ে রামলীলা ময়দান, উত্তর দিল্লির বুরারি গ্রাউন্ড এবং পূর্ব দিল্লির সিবিডি গ্রাউন্ডকে প্রতিবাদের নতুন জায়গা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু ১২ একর আয়তনের এবং প্রায় ৫০ হাজার মানুষ ধারণক্ষমতা সম্পন্ন ঐতিহ্যবাহী রামলীলা ময়দানের বর্তমান পরিস্থিতি বেশ জটিল-

চলতি বছরের শেষ পর্যন্ত রামলীলা ময়দানে বুকিংয়ের জন্য মাত্র তিনটি দিন (ডিসেম্বরের ২৯, ৩০ এবং ৩১ তারিখ) খোলা রয়েছে। বাকি দিনগুলিতে উৎসব, মেলা বা অন্যান্য অনুষ্ঠানের বুকিং আগে থেকেই করা রয়েছে।

খরচ কত? ১ দিনের জন্য এই ময়দান বুক করতে প্রাথমিক খরচ পড়বে ১ লক্ষ ২১ হাজার টাকা। এর মধ্যে প্রতিদিনের ফি বাবদ ৫০ হাজার টাকা, রিফান্ডেবল সিকিউরিটি ডিপোজিট বাবদ ৫৫ হাজার টাকা এবং কর ও অন্যান্য চার্জ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এমসিডি-র হর্টিকালচার ডিপার্টমেন্টের মাধ্যমে এই বুকিং করতে হয় এবং এর জন্য দিল্লি পুলিশের ‘নো অবজেকশন সার্টিফিকেট’ (NOC) বাধ্যতামূলক।

ময়দানের একটি অত্যন্ত ক্ষুদ্র অংশ প্রতিবাদের জন্য বিনামূল্যে পাওয়া যায়, যেখানে একসঙ্গে মাত্র ১৫০ জনের মতো মানুষ জমায়েত হতে পারেন।

আপিল ও বিরোধীদের প্রশ্ন

যন্তর মন্তরে যেমন বিনামূল্যে প্রতিবাদ জানানো যেত, রামলীলা ময়দানে সেই সুযোগ না থাকায় ক্ষুব্ধ আন্দোলনকারী ও সংগঠনগুলি। বিশেষ করে বিপুল বুকিং ফি সাধারণ বা ছোট সংগঠনগুলির পক্ষে বহন করা অসম্ভব বলে দাবি করেছেন তাঁরা। পাশাপাশি, আপ (AAP) দিল্লি প্রধান সৌরভ ভরদ্বাজ সরকারের এই সিদ্ধান্তকে তীব্র কটাক্ষ করে এক্স (X)-এ লিখেছেন, সরকার নাগরিকদের সঙ্গে আরেকটি ‘প্রতারণা’ করেছে। বর্তমানে রামলীলা ময়দান যখন একাধিক রামলীলা ও উৎসবে ব্যস্ত, তখন সেখানে কীভাবে রাজনৈতিক প্রতিবাদ বা জমায়েত হবে, সেই প্রশ্ন তুলে বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।

ট্রাফিক ও পরিকাঠামো নিয়ে উদ্বেগ

প্রশাসনের আধিকারিকদের একাংশ জানিয়েছেন, ব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকায় অবস্থিত এই ময়দানের চারপাশে তিনটি বড় হাসপাতাল এবং এমসিডি-র সদর দফতর রয়েছে। অতীতেও বড় জমায়েতের কারণে এই চত্বরে তীব্র ট্রাফিক জ্যামের সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া উৎসবের মরশুম ও বড় জমায়েতের জেরে আশপাশের রাস্তাগুলিতে প্রবল যানজটের আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছেন না ট্রাফিক কর্তারাও।

উল্লেখ্য, ১৯৩০ সাল পর্যন্ত যে স্থানটি একটি পুকুর ছিল, তা ১৯৩২ সাল থেকে রামলীলা ময়দানে রূপান্তরিত হয়। পরবর্তীকালে জওহরলাল নেহরু, অটলবিহারী বাজপেয়ী, জয়প্রকাশ নারায়ণ থেকে শুরু করে আধুনিক যুগে অরবিন্দ কেজরিওয়ালের শপথগ্রহণ, একাধিক ঐতিহাসিক রাজনৈতিক ঘটনার সাক্ষী এই ময়দান। তবে চলতি বছরে আন্দোলনস্থল হিসেবে নতুন মর্যাদা পেলেও, প্রাপ্যতা এবং খরচের বেড়াজালে পড়ে এই ঐতিহাসিক মাঠ কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

বর্ষা বিদায়ের মাঝেই নিম্নচাপের চোখরাঙানি! পুজোয় কেমন থাকবে আবহাওয়া?

বলাগড় মিনি পোর্টে ৫৩৯ কোটি বিনিয়োগ! খুলবে কর্মসংস্থানের নতুন দরজা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *