টর্পেডো, সোনার ও রকেটে সজ্জিত নৌবাহিনীর নতুন সাবমেরিন শিকারি INS Mangrol - 24 Ghanta Bangla News
Home

টর্পেডো, সোনার ও রকেটে সজ্জিত নৌবাহিনীর নতুন সাবমেরিন শিকারি INS Mangrol

Spread the love

নয়াদিল্লি, ১৩ অক্টোবর: উপকূলবর্তী অগভীর সমুদ্রে শত্রুপক্ষের সাবমেরিনের গতিবিধি শনাক্ত করা এবং সেগুলিকে মোকাবিলার ক্ষমতা বাড়াতে ভারতীয় নৌবাহিনীতে যুক্ত হল নতুন যুদ্ধজাহাজ আইএনএস মংরোল (INS…

নয়াদিল্লি, ১৩ অক্টোবর: উপকূলবর্তী অগভীর সমুদ্রে শত্রুপক্ষের সাবমেরিনের গতিবিধি শনাক্ত করা এবং সেগুলিকে মোকাবিলার ক্ষমতা বাড়াতে ভারতীয় নৌবাহিনীতে যুক্ত হল নতুন যুদ্ধজাহাজ আইএনএস মংরোল (INS Mangrol)। মুম্বইয়ের নেভাল ডকইয়ার্ডে এই জাহাজটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে নৌবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এটি মাহী শ্রেণির অ্যান্টি-সাবমেরিন ওয়ারফেয়ার শ্যালো ওয়াটার ক্রাফট বা এএসডব্লিউ-এসডব্লিউসি প্রকল্পের তৃতীয় জাহাজ।

কোচিন শিপইয়ার্ড লিমিটেডের তৈরি এই যুদ্ধজাহাজের মূল কাজ হল উপকূলের কাছাকাছি এবং অগভীর সমুদ্রে শত্রুপক্ষের ডুবোজাহাজের হদিস পাওয়া ও সেগুলির বিরুদ্ধে অভিযান চালানো। এই ধরনের জলভাগে বড় যুদ্ধজাহাজের চলাচল এবং অভিযান পরিচালনায় কিছু সীমাবদ্ধতা থাকে। সেই ঘাটতি পূরণ করতেই তৈরি করা হয়েছে মংরোলকে। জাহাজটির ৮০ শতাংশেরও বেশি উপাদান দেশীয় প্রযুক্তি ও সরঞ্জামের উপর নির্ভরশীল, যা ভারতের নিজস্ব যুদ্ধজাহাজ নির্মাণ কর্মসূচির অগ্রগতির পরিচয় দেয়।

কী কী অস্ত্রে সজ্জিত আইএনএস মংরোল?

আইএনএস মংরোলের প্রধান শক্তি তার সাবমেরিন-বিরোধী যুদ্ধ সরঞ্জাম। শত্রুপক্ষের ডুবোজাহাজ শনাক্ত করা থেকে শুরু করে আক্রমণ প্রতিহত করা পর্যন্ত একাধিক কাজে ব্যবহার করা যাবে এই জাহাজটিকে।

এর গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জামগুলির মধ্যে রয়েছে:

  • অভয় সোনার: জাহাজের গায়ে বসানো এই সোনার ব্যবস্থার সাহায্যে জলের নীচে থাকা সাবমেরিনের অবস্থান শনাক্ত করার চেষ্টা করা যায়।
  • হালকা টর্পেডো: শত্রুপক্ষের সাবমেরিনকে লক্ষ্য করে ব্যবহার করা যাবে।
  • দেশীয় অ্যান্টি-সাবমেরিন রকেট লঞ্চার: জলের নীচে থাকা সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর জন্য তৈরি।
  • মারিচ অ্যাডভান্সড টর্পেডো ডিকয় সিস্টেম: শত্রুপক্ষের টর্পেডোর আক্রমণ থেকে জাহাজকে রক্ষা করতে সাহায্য করে।
  • ৩০ মিলিমিটার নৌ-তোপ: সমুদ্রপৃষ্ঠে থাকা লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে ব্যবহার করা যাবে।
  • ১২.৭ মিলিমিটারের দুটি স্থিতিশীল রিমোট-কন্ট্রোলড গান: জাহাজের কাছাকাছি এলাকায় প্রতিরক্ষার কাজে ব্যবহার করা যাবে।

মাহী শ্রেণির এই জাহাজগুলিতে সামনে বসানো আরবিইউ-৬০০০ রকেট লঞ্চার, দুই পাশে ৩২৪ মিলিমিটারের ট্রিপল টর্পেডো টিউব এবং অ্যান্টি-সাবমেরিন মাইন বহনের ব্যবস্থাও রয়েছে। তবে নির্দিষ্ট সরঞ্জামের বিন্যাস ও অস্ত্রের ব্যবহার সংশ্লিষ্ট জাহাজের কনফিগারেশনের উপর নির্ভর করে।

অগভীর সমুদ্রে দ্রুত চলাচলের বিশেষ ব্যবস্থা

আইএনএস মংরোলের ওজন প্রায় ৯০০ টন। তিনটি ডিজেল ইঞ্জিনের সঙ্গে যুক্ত ওয়াটারজেট প্রপালশন ব্যবস্থার সাহায্যে জাহাজটি চলাচল করে। এই প্রযুক্তি অগভীর জলভাগে দ্রুত দিক পরিবর্তন এবং তুলনামূলকভাবে সহজে চলাচলে সহায়তা করে।

মাহী শ্রেণির জাহাজগুলির দৈর্ঘ্য ৭৮ মিটার, প্রস্থ ১১.৩৬ মিটার এবং ড্রাফট ২.৭ মিটার। এই শ্রেণির জাহাজের সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় প্রায় ৪৬ কিলোমিটার বা ২৫ নট। ঘণ্টায় প্রায় ২৬ কিলোমিটার গতিতে চললে এর পাল্লা প্রায় ৩,৩০০ কিলোমিটার বা ১,৮০০ নটিক্যাল মাইল। জ্বালানি ও অন্যান্য পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে এই শ্রেণির জাহাজ টানা ১৪ দিন পর্যন্ত অভিযান চালাতে পারে।

শত্রুপক্ষের রাডার, শব্দ এবং তাপীয় সেন্সরে সহজে ধরা না পড়ার জন্য জাহাজের নকশায় বিশেষ ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। এই বৈশিষ্ট্যগুলি উপকূলবর্তী প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ জলভাগে অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।

গুজরাটের উপকূলীয় শহরের নামে যুদ্ধজাহাজ

গুজরাটের জুনাগড় জেলার উপকূলীয় শহর মংরোলের নাম অনুসারে নতুন যুদ্ধজাহাজটির নামকরণ করা হয়েছে। শহরটি সামুদ্রিক মাছ ধরার শিল্প এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ ছোট বন্দরের জন্য পরিচিত।

এর আগে একই নামে ভারতীয় নৌবাহিনীতে একটি মাইনসুইপার জাহাজ ছিল। সেই পুরনো আইএনএস মংরোল ১৯৮৩ সাল থেকে ২০০৪ সালের এপ্রিল পর্যন্ত নৌবাহিনীতে পরিষেবা দিয়েছিল।

নতুন মংরোল মাহী শ্রেণির আটটি যুদ্ধজাহাজের মধ্যে তৃতীয়। এর আগে এই শ্রেণির আইএনএস মাহী এবং আইএনএস মালভান নৌবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

১৬টি দেশীয় যুদ্ধজাহাজ তৈরির কর্মসূচি

উপকূলবর্তী জলভাগে নজরদারি এবং সাবমেরিন-বিরোধী অভিযান জোরদার করতে ভারত মোট ১৬টি জাহাজ তৈরির কর্মসূচি নিয়েছে। এর মধ্যে আটটি অর্ণালা শ্রেণির জাহাজ তৈরি করছে গার্ডেন রিচ শিপবিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স বা জিআরএসই। বাকি আটটি মাহী শ্রেণির জাহাজ নির্মাণ করছে কোচিন শিপইয়ার্ড লিমিটেড।

এই জাহাজগুলির প্রধান কাজ জলের নীচে শত্রুপক্ষের গতিবিধি নজরে রাখা, সাবমেরিন খুঁজে বের করা এবং প্রয়োজনে আক্রমণ চালানো। পাশাপাশি নৌবাহিনীর বিমান, হেলিকপ্টার এবং অন্যান্য যুদ্ধজাহাজের সঙ্গে সমন্বয় করেও অভিযান চালাতে পারবে এগুলি। মাইন পাতা এবং অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযানেও ব্যবহার করা যেতে পারে।

এই প্রকল্পে ভারতীয় সংস্থাগুলির তৈরি সরঞ্জাম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছে। দেশীয় সরবরাহকারীদের মধ্যে রয়েছে ভারত ইলেকট্রনিক্স, মহিন্দ্রা ডিফেন্স এবং লারসেন অ্যান্ড টুব্রো। প্রকল্পের শেষ জাহাজটি ২০২৮ সালের জুনের মধ্যে সরবরাহ করার লক্ষ্য রাখা হয়েছে।

আইএনএস মংরোলের অন্তর্ভুক্তির ফলে ভারতের উপকূলীয় নিরাপত্তা, গুরুত্বপূর্ণ বন্দর ও নৌঘাঁটির সুরক্ষা এবং অগভীর সমুদ্রে সাবমেরিন শনাক্ত করার সক্ষমতা বাড়ানোর প্রচেষ্টা আরও জোরদার হল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *