তিন দিন ধরে হোমের আগুন জ্বলে সরকার বাড়ির পুজোয়
এই পুজোর অন্যতম বিশেষ রীতি হলো যজ্ঞের হোমের আগুন। সপ্তমীতে জাগ প্রদীপ জ্বালানোর পাশাপাশি শুরু হয় হোম। সপ্তমী থেকে নবমী পর্যন্ত একটানা চলে সেই যজ্ঞ। নবমীর দিন মহাযজ্ঞের পূর্ণাহুতির পরেই হোমকুণ্ডের আগুন নেভে। নৈবেদ্য নিবেদনের ক্ষেত্রেও রয়েছে নির্দিষ্ট রীতি। পরিবারের সদস্যের দাবি, অষ্টমীতে ২৮ কেজি, সন্ধিপুজোয় ৩২ কেজি, নবমীতে ৩১ কেজি এবং আর এক পর্বে ২৬ কেজি চালের নৈবেদ্য অর্পণ করা হয়। তবে এই পুজোর ইতিহাসে বড় পরিবর্তন এসেছিল বলিপ্রথা বন্ধের সিদ্ধান্তে। পার্থসারথি বলেন, ‘১৯৪২ বা ১৯৪৩–এ তাঁর ঠাকুর্দা বিষ্ণুপদ সরকার বলিদান বন্ধ করে দেন। আগে পুজোয় মহিষ ও ছাগ বলি দেওয়া হতো। কিন্তু সেই প্রথা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় পুরোহিত ক্ষতির আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন। তাতেও সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেননি বিষ্ণুপদ। বংশধরদের উদ্দেশে তাঁর নির্দেশ ছিল, বলিপ্রথার মাংস যেন তাঁরা কখনও গ্রহণ না করেন। পরবর্তী প্রজন্মও সেই নির্দেশ মেনে চলেছে।’ পরিবারের সদস্যদের দাবি, বলিপ্রথা বন্ধ করার পর থেকে পুজোর রীতিতে আর কোনও নতুন সংযোজন করা হয়নি। সরকার বাড়ির পুজোয় আরও একটি বিশেষ নিয়ম রয়েছে। মহালয়ার পরের দিন থেকে বাড়িতে মাংস ও ডিম প্রবেশ করে না। মাছ খাওয়ার চল থাকলেও অষ্টমীতে নিরামিষ আহার করেন পরিবারের সদস্যেরা। নবমীতে গোটা পাড়ার পাশাপাশি গ্রামের মানুষকেও অন্নভোগ খাওয়ানো হয়। তবে তা ভোগ হিসেবে নিবেদন করা হয় না।