2.5K ভিডিও দুর্দান্ত, তবে বড় সমস্যা - 24 Ghanta Bangla News
Home

2.5K ভিডিও দুর্দান্ত, তবে বড় সমস্যা

Spread the love

গাড়িতে ড্যাশক্যাম লাগানোর কথা ভাবছেন? দুর্ঘটনার প্রমাণ সংগ্রহ, রাস্তায় কী ঘটেছে তা রেকর্ড করা এবং দীর্ঘ সফরের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত ধরে রাখার জন্য ড্যাশক্যাম এখন অনেক গাড়ির মালিকের কাছেই দরকারি অ্যাক্সেসরি। এই বাজারে IZI Drive N700 একটি উল্লেখযোগ্য বিকল্প। এতে রয়েছে 2.5K ভিডিও রেকর্ডিং, নাইট ভিশন, ১৭০ ডিগ্রি ওয়াইড-অ্যাঙ্গেল ভিউ এবং বিল্ট-ইন জিপিএস।

তবে তিন মাস ব্যবহারের অভিজ্ঞতা বলছে, ভালো ভিডিও রেকর্ডিংয়ের পাশাপাশি এই ড্যাশক্যামে কয়েকটি সমস্যা রয়েছে। বিশেষ করে মেমোরি কার্ডের নির্ভরযোগ্যতা, স্মার্টফোন অ্যাপের সংযোগ এবং গাড়ির ইগনিশন বন্ধ করার আগে শেষ ভিডিও ক্লিপ সংরক্ষণের ক্ষেত্রে কিছু অসুবিধা দেখা গিয়েছে। ফলে শুধু ফিচার ও ভিডিওর মান দেখে কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হবে না।

তিন মাসের পরীক্ষায় কীভাবে ব্যবহার করা হয়েছে?

দীর্ঘমেয়াদি পরীক্ষার জন্য IZI Drive N700 একটি ২০১৬ সালের চতুর্থ প্রজন্মের হোন্ডা সিটিতে ইনস্টল করা হয়েছিল। জুন মাস থেকে তিন মাসে গাড়িটি প্রায় ২,৫০০ কিলোমিটার চলেছে। এর মধ্যে প্রায় ২০০ কিলোমিটার শহরের রাস্তায় এবং বাকি পথের বেশিরভাগই পুনে থেকে মুম্বইয়ের মধ্যে হাইওয়েতে যাতায়াতের সময় কভার করা হয়েছে।

ভারতের গরম আবহাওয়া, ধুলোবালি, ট্রাফিক এবং দীর্ঘ হাইওয়ে ড্রাইভের মধ্যে ড্যাশক্যামটির কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হয়। এই অভিজ্ঞতা থেকে ভিডিওর মান, অ্যাপের ব্যবহার, স্টোরেজ এবং দৈনন্দিন সুবিধা সম্পর্কে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক সামনে এসেছে।

2.5K ভিডিও রেকর্ডিং এই ড্যাশক্যামের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ

IZI Drive N700-এর অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হল এর ৫ মেগাপিক্সেল সনি স্টারভিস আইএমএক্স৩৩৫ সেন্সর। এটি ২৫৬০ × ১৪৪০ পিক্সেল রেজোলিউশনে প্রতি সেকেন্ডে ৩০ ফ্রেমে ভিডিও রেকর্ড করতে পারে। ফলে সাধারণ ১০৮০পি ড্যাশক্যামের তুলনায় বেশি বিস্তারিত ফুটেজ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

পরীক্ষায় দিনের আলোয় রেকর্ড করা ভিডিও বেশ স্পষ্ট ও স্থিতিশীল ছিল। রং স্বাভাবিক দেখিয়েছে এবং এক্সপোজারও মোটামুটি ভালো ছিল। সামনে থাকা গাড়ির নম্বর প্লেট দিনের আলোয় পড়া সম্ভব হয়েছে। তবে দূরে থাকা গাড়ি, ফ্রেমের একেবারে প্রান্ত দিয়ে দ্রুত চলে যাওয়া যানবাহন কিংবা ভিন্ন গতিতে চলা গাড়ির নম্বর প্লেট সব সময় স্পষ্টভাবে ধরা পড়েনি।

এখানে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি। পণ্যের পেজে 4K সক্ষমতার উল্লেখ থাকলেও এর প্রধান রেকর্ডিং স্পেসিফিকেশন 2.5K। তাই কেনার আগে কোন রেজোলিউশনে নিয়মিত ভিডিও রেকর্ড হবে, তা যাচাই করা উচিত।

ভিডিওর ক্ষেত্রে আরেকটি সমস্যা হল উইন্ডস্ক্রিনে প্রতিফলন। উজ্জ্বল রোদে গাড়ির হালকা রঙের ড্যাশবোর্ডের আলো কাচে প্রতিফলিত হয়ে ফুটেজের কিছু অংশের স্পষ্টতা কমিয়ে দিতে পারে। এটি শুধু এই মডেলের সমস্যা নয়, তবে ক্যামেরা বসানোর জায়গা ও উইন্ডস্ক্রিন পরিষ্কার রাখার মাধ্যমে তা কিছুটা কমানো সম্ভব।

রাতের ভিডিও কেমন?

রাতের ফুটেজের ক্ষেত্রে IZI Drive N700-এ ইনফ্রারেড নাইট ভিশন এবং ডব্লিউডিআর বা ওয়াইড ডাইনামিক রেঞ্জ প্রযুক্তি রয়েছে। এই প্রযুক্তির উদ্দেশ্য হল একই দৃশ্যের উজ্জ্বল ও অন্ধকার অংশের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা।

পরীক্ষায় আলোকিত শহরের রাস্তায় ভিডিও পরিষ্কার ও ব্যবহারযোগ্য ছিল। বিপরীত দিক থেকে আসা গাড়ির হেডলাইটের অতিরিক্ত আলোও মোটামুটি নিয়ন্ত্রণে ছিল। তবে কম আলোযুক্ত রাস্তা বা অন্ধকার হাইওয়েতে ফুটেজ তুলনামূলক ঝাপসা ও দানাদার হয়েছে।

অর্থাৎ, শহরের আলোযুক্ত রাস্তায় রাতের ভিডিও যথেষ্ট কাজে আসতে পারে। কিন্তু সম্পূর্ণ অন্ধকার রাস্তায় শুধু ড্যাশক্যামের উপর নির্ভর করে পথচারী, আলোহীন বাইক বা দূরের নম্বর প্লেট সব সময় স্পষ্টভাবে দেখা যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।

১৭০ ডিগ্রি ওয়াইড-অ্যাঙ্গেল ভিউ কতটা কাজে আসে?

এই ড্যাশক্যামে রয়েছে ১৭০ ডিগ্রি ওয়াইড-অ্যাঙ্গেল লেন্স। এর সুবিধা হল, গাড়ির সামনের রাস্তার পাশাপাশি পাশের লেন, মোড় এবং আশপাশের যানবাহনের আরও বিস্তৃত অংশ রেকর্ড করা যায়।

ভারতের রাস্তায় যেখানে বাইক, স্কুটার ও অন্যান্য যানবাহন বিভিন্ন দিক থেকে সামনে চলে আসে, সেখানে এই বাড়তি দৃশ্য দুর্ঘটনার পরিস্থিতি বুঝতে সাহায্য করতে পারে।

তবে বিস্তৃত দৃশ্য ধারণের একটি সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। একই রেজোলিউশনের মধ্যে বেশি এলাকা ধরা পড়ায় ফ্রেমের প্রান্তে থাকা বস্তু ছোট দেখাতে পারে এবং লেন্সের কারণে কিছুটা বাঁকানো মনে হতে পারে। ফলে ফ্রেমের মাঝখানে থাকা নম্বর প্লেটের তুলনায় প্রান্তের নম্বর প্লেট পড়া কঠিন হতে পারে।

ইনস্টলেশন সহজ, কিন্তু ১২ ভোল্টের সকেট দখল করে

IZI Drive N700 নিজে ইনস্টল করা সম্ভব। প্যাকেজে ক্যামেরা, উইন্ডস্ক্রিনে লাগানোর স্টিকার, পাওয়ার কেবল, ১২ ভোল্ট অ্যাডাপ্টার, ইনস্টলেশনের সরঞ্জাম এবং নির্দেশিকা রয়েছে। তবে মেমোরি কার্ড আলাদাভাবে কিনতে হয়।

ক্যামেরাটি রিয়ার-ভিউ মিররের পিছনে লাগালে চালকের দৃষ্টিতে বাধা কম পড়ে। কেবল গাড়ির ছাদের ভিতরের অংশ এবং এ-পিলারের পাশ দিয়ে নিয়ে গেলে ইনস্টলেশনও পরিপাটি রাখা যায়।

তবে সাধারণ ইনস্টলেশনে ক্যামেরাটি গাড়ির ১২ ভোল্ট পাওয়ার সকেট ব্যবহার করে। ফলে সেই সকেটে ফোন চার্জার, টায়ার ইনফ্লেটর বা অন্য কোনও অ্যাক্সেসরি লাগানোর সুযোগ থাকে না। গাড়িতে যদি একটি মাত্র ১২ ভোল্ট সকেট থাকে, তাহলে বিষয়টি অসুবিধার কারণ হতে পারে।

এর সমাধান হিসেবে ডুয়াল-পোর্ট স্প্লিটার ব্যবহার করা যায়। আরেকটি বিকল্প হল আলাদাভাবে হার্ডওয়্যার কিট লাগানো, যার মাধ্যমে গাড়ির ফিউজ বক্স থেকে ক্যামেরায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা যায়।

ওয়াই-ফাই ও অ্যাপে সংযোগের সমস্যা

IZI Drive N700 অ্যান্ড্রয়েড ও আইওএস ফোনের সঙ্গে ২.৪ গিগাহার্টজ ওয়াই-ফাইয়ের মাধ্যমে সংযুক্ত হয়। এর অ্যাপ থেকে লাইভ ভিউ দেখা, রেকর্ড করা ভিডিও ব্রাউজ করা এবং প্রয়োজনীয় ক্লিপ ফোনে ডাউনলোড করা যায়।

একবার সংযোগ তৈরি হলে অ্যাপ ব্যবহার করা সহজ। লাইভ ভিউতে সামান্য দেরি থাকলেও ফুটেজ দেখা ও ডাউনলোড করার প্রক্রিয়া সুবিধাজনক। কিন্তু তিন মাসের পরীক্ষায় অ্যাপের সংযোগই অন্যতম দুর্বল দিক হিসেবে উঠে এসেছে।

অনেক সময় ক্যামেরার সঙ্গে সংযোগ তৈরি করতে বারবার চেষ্টা করতে হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে অ্যাপ একেবারেই সংযোগ করতে পারেনি। দুর্ঘটনার পর দ্রুত কোনও ক্লিপ দেখানোর প্রয়োজন হলে এই সমস্যা বিরক্তিকর হতে পারে।

সংযোগ না হলে মেমোরি কার্ড খুলে কম্পিউটারের সাহায্যে ভিডিও দেখতে হতে পারে। তাই এই ড্যাশক্যাম কিনলে অ্যাপের উপর সম্পূর্ণ নির্ভর না করে মেমোরি কার্ড থেকে ফুটেজ দেখার বিকল্প পদ্ধতিও জানা রাখা ভালো।

মেমোরি কার্ড আলাদা কিনতে হবে, সেখানেই বাড়তি খরচ

IZI Drive N700-এর সঙ্গে মেমোরি কার্ড দেওয়া হয় না। অথচ কার্ড ছাড়া ক্যামেরাটি ব্যবহার করা সম্ভব নয়। ফলে শুধু ড্যাশক্যামের দাম হিসাব করলেই হবে না, ভালো মানের মেমোরি কার্ডের খরচও বাজেটে রাখতে হবে।

এই মডেলে ১৬ জিবি থেকে ৫১২ জিবি পর্যন্ত মেমোরি কার্ড ব্যবহার করা যায়। সংস্থার সুপারিশ অনুযায়ী, কার্ডটি ক্লাস ১০ বা ইউ৩ হওয়া উচিত। তবে ড্যাশক্যামের ক্ষেত্রে হাই-এন্ডিউরেন্স কার্ড বেছে নেওয়া ভালো, কারণ এই ধরনের কার্ড বারবার ভিডিও লেখা ও মুছে ফেলার জন্য তৈরি।

বড় মেমোরি কার্ডে বেশি সময়ের ফুটেজ রাখা যায়। তবে লুপ রেকর্ডিং চালু থাকলে কার্ড পূর্ণ হয়ে গেলে পুরনো ভিডিও মুছে নতুন ভিডিও সংরক্ষণ করার কথা। তাই প্রত্যেকেরই ৫১২ জিবি কার্ড প্রয়োজন নেই। যাঁরা দীর্ঘ হাইওয়ে সফর করেন বা ঘন ঘন ফুটেজ পরীক্ষা করেন না, তাঁদের জন্য বড় কার্ড সুবিধাজনক হতে পারে।

তিন মাসে মেমোরি কার্ড নিয়ে সবচেয়ে বেশি সমস্যা

পরীক্ষার সময় মেমোরি কার্ড করাপ্ট হওয়া, কখনও ক্যামেরায় কার্ড শনাক্ত না হওয়া এবং লুপ রেকর্ডিংয়ের মাধ্যমে পুরনো ফুটেজ সব সময় ঠিকমতো মুছে না যাওয়ার সমস্যা দেখা গিয়েছে। অন্য কার্ড ব্যবহার করে সাময়িকভাবে সুবিধা পাওয়া গেলেও সমস্যাগুলি পুরোপুরি দূর হয়নি।

এটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ড্যাশক্যামের প্রধান কাজ হল প্রয়োজনের সময় ভিডিও সংরক্ষণ করা। ক্যামেরা চালু থাকলেও যদি কোনও কারণে ভিডিও রেকর্ড না হয়, তাহলে দুর্ঘটনার সময় সেটি কাজে নাও আসতে পারে।

সমস্যা কমাতে নির্ভরযোগ্য বিক্রেতার কাছ থেকে আসল হাই-এন্ডিউরেন্স কার্ড কেনা, প্রথমবার ব্যবহারের আগে ক্যামেরায় কার্ড ফরম্যাট করা এবং নির্দিষ্ট সময় অন্তর তা পরীক্ষা করা উচিত। কয়েক দিন পরপর সাম্প্রতিক ভিডিও ঠিকমতো সংরক্ষিত হচ্ছে কি না, সেটিও দেখে নেওয়া ভালো।

দুর্ঘটনার সময় ভিডিও কি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেভ হবে?

IZI Drive N700-এ লুপ রেকর্ডিং এবং জি-সেন্সর-সহ ইমার্জেন্সি লক ফিচার রয়েছে। লুপ রেকর্ডিংয়ের মাধ্যমে মেমোরি কার্ড পূর্ণ হয়ে গেলে পুরনো ফুটেজের উপর নতুন ভিডিও রেকর্ড হওয়ার কথা। অন্যদিকে, জি-সেন্সর ধাক্কা বা হঠাৎ জোরে ব্রেক করার মতো ঘটনা শনাক্ত করে সংশ্লিষ্ট ভিডিও ক্লিপ লক করতে পারে। লক করা ক্লিপ সাধারণ লুপ রেকর্ডিংয়ে মুছে যাওয়ার কথা নয়।

কিন্তু পরীক্ষায় একটি উদ্বেগজনক বিষয় দেখা গিয়েছে। গাড়ির ইগনিশন বন্ধ করার ঠিক আগের শেষ ভিডিও ক্লিপটি কখনও কখনও সংরক্ষিত হয়নি। ফলে সফরের একেবারে শেষ মুহূর্তের গুরুত্বপূর্ণ ফুটেজ হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সংস্থার পণ্যের বিবরণ অনুযায়ী, এতে বিল্ট-ইন সুপারক্যাপাসিটর রয়েছে। বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হওয়ার পরও ভিডিও ফাইল লেখা শেষ করার জন্য এটি অল্প সময় ক্যামেরাকে শক্তি দিতে পারে। তবু পরীক্ষায় শেষ ক্লিপ হারিয়ে যাওয়ার কারণ ক্যামেরা, নাকি মেমোরি কার্ড, তা নিশ্চিত করা যায়নি।

পরীক্ষকদের পরামর্শ, কোনও ঘটনা ঘটলে ইগনিশন বন্ধ করার আগে কয়েক সেকেন্ড অপেক্ষা করুন এবং সুযোগ পেলেই গুরুত্বপূর্ণ ভিডিও অন্যত্র কপি করে রাখুন। তবে এই পদ্ধতি সমস্যার স্থায়ী সমাধান নয়।

পার্কিং মোড ব্যবহার করতে অতিরিক্ত খরচ

IZI Drive N700-এ ২৪ ঘণ্টার পার্কিং মনিটরিংয়ের সুবিধা রয়েছে, তবে সাধারণ ইনস্টলেশনে এই সুবিধা পাওয়া যায় না। ১২ ভোল্ট অ্যাডাপ্টারের মাধ্যমে সংযুক্ত থাকলে সাধারণত ইগনিশন চালু হলে ক্যামেরা কাজ শুরু করে এবং গাড়ি বন্ধ হলে রেকর্ডিং থেমে যায়।

গাড়ি পার্ক করার পরও নজরদারি চালু রাখতে সংস্থার আলাদা হার্ডওয়্যার কিট প্রয়োজন। এটি অতিরিক্ত খরচের পাশাপাশি ইনস্টলেশনেরও প্রয়োজন তৈরি করে।

যাঁরা রাস্তার পাশে বা ব্যস্ত আবাসনের পার্কিংয়ে গাড়ি রাখেন, তাঁদের জন্য পার্কিং মনিটরিং কার্যকর হতে পারে। তবে যাঁদের গাড়ি রাতে নিরাপদ, ঢাকা পার্কিংয়ে থাকে, তাঁদের ক্ষেত্রে এই অতিরিক্ত সুবিধা কতটা দরকার, তা বিবেচনা করা উচিত। তিন মাসের পরীক্ষায় হার্ডওয়্যার কিট ব্যবহার করা হয়নি, ফলে পার্কিং মোডের কার্যকারিতা পরীক্ষা করা সম্ভব হয়নি।

জিপিএস, অডিও ও দৈনন্দিন ব্যবহার

এই ড্যাশক্যামে বিল্ট-ইন জিপিএস রয়েছে, যা ভিডিওর সঙ্গে অবস্থানের তথ্য যুক্ত করতে পারে। ফলে কোনও ঘটনার সময় গাড়িটি কোথায় ছিল, তা পরে বোঝা সহজ হয়। পরীক্ষায় পুনে-মুম্বই সফরের ফুটেজে অবস্থানের তথ্য মোটামুটি সঠিক দেখা গিয়েছে।

বিল্ট-ইন মাইক্রোফোনের মাধ্যমে গাড়ির ভিতরের কথাবার্তা, হর্ন এবং আশপাশের শব্দ রেকর্ড করা যায়। কোনও ঘটনার প্রেক্ষাপট বুঝতে অডিও সহায়ক হতে পারে। তবে উচ্চমানের রেকর্ডিং আশা করা ঠিক নয়। কেবিনের কথাবার্তা রেকর্ড করতে না চাইলে মাইক্রোফোন বন্ধ করার সেটিংস রয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করে নেওয়া উচিত।

ক্যামেরাটি আকারে ছোট হওয়ায় রিয়ার-ভিউ মিররের পিছনে সহজেই বসানো যায়। ইগনিশনের সঙ্গে স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালু ও বন্ধ হওয়ার সুবিধাও রয়েছে। চাইলে পরে ১০৮০পি পর্যন্ত রেজোলিউশনের ঐচ্ছিক রিয়ার ক্যামেরা যুক্ত করার সুযোগ রয়েছে। সংস্থার দাবি অনুযায়ী, এটি মাইনাস ৫ ডিগ্রি থেকে ৬৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার মধ্যে কাজ করতে পারে।

তিন মাস ব্যবহারের পর ভালো ও খারাপ দিক

যে বিষয়গুলি ভালো লেগেছে

  • সনি স্টারভিস সেন্সরের সাহায্যে স্পষ্ট 5K দিনের ভিডিও।
  • ডব্লিউডিআর-সহ ব্যবহারযোগ্য রাতের ফুটেজ।
  • ১৭০ ডিগ্রি ওয়াইড-অ্যাঙ্গেল ভিউ।
  • জি-সেন্সর এবং স্বয়ংক্রিয় লুপ রেকর্ডিং।
  • বিল্ট-ইন জিপিএস।
  • ছোট আকার ও সহজ ইনস্টলেশন।
  • ইগনিশনের সঙ্গে স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালু ও বন্ধ হওয়া।
  • ৫১২ জিবি পর্যন্ত মেমোরি কার্ড এবং ঐচ্ছিক রিয়ার ক্যামেরার সুবিধা।

যে সমস্যাগুলি মাথায় রাখা দরকার

  • শেষ ভিডিও ক্লিপ সংরক্ষণ না হওয়ার ঘটনা।
  • মেমোরি কার্ড করাপ্ট হওয়া এবং শনাক্তকরণে সমস্যা।
  • লুপ রেকর্ডিং সব সময় প্রত্যাশামতো কাজ না করা।
  • ওয়াই-ফাই ও অ্যাপের সংযোগে অনিয়ম।
  • মেমোরি কার্ড আলাদাভাবে কেনার বাড়তি খরচ।
  • সাধারণ ইনস্টলেশনে ১২ ভোল্ট সকেট দখল হয়ে যাওয়া।
  • পার্কিং মোডের জন্য আলাদা হার্ডওয়্যার কিটের প্রয়োজন।
  • কাচে প্রতিফলন এবং ওয়াইড-অ্যাঙ্গেল লেন্সের কারণে ফ্রেমের প্রান্তে বিকৃতি।

IZI Drive N700 কি কেনা উচিত?

IZI Drive N700-এর সবচেয়ে বড় শক্তি হল ভিডিওর মান। দিনের আলোয় 2.5K ফুটেজ, কার্যকর ওয়াইড-অ্যাঙ্গেল ভিউ, জিপিএস এবং জি-সেন্সর একে আকর্ষণীয় করে তুলেছে। সাধারণ ব্যবহারে ক্যামেরাটি চালু রাখা এবং গাড়ির সঙ্গে ব্যবহার করাও সহজ।

কিন্তু ড্যাশক্যামের ক্ষেত্রে শুধু ভালো ছবি যথেষ্ট নয়। দুর্ঘটনার সময় প্রয়োজনীয় ফুটেজ নির্ভরযোগ্যভাবে সংরক্ষিত হওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তিন মাসের পরীক্ষায় মেমোরি কার্ডের সমস্যা, অ্যাপের সংযোগে অনিয়ম এবং শেষ ক্লিপ হারিয়ে যাওয়ার ঘটনা এই মডেলের উপর আস্থা রাখার ক্ষেত্রে প্রশ্ন তুলেছে।

যাঁরা ভালো ভিডিও রেজোলিউশন ও বিস্তৃত দৃশ্য ধারণকে অগ্রাধিকার দেন, তাঁদের কাছে IZI Drive N700 বিবেচনাযোগ্য হতে পারে। তবে যাঁদের প্রধান উদ্দেশ্য দুর্ঘটনার প্রমাণ নির্ভরযোগ্যভাবে সংরক্ষণ করা, তাঁদের কেনার আগে মেমোরি কার্ডের সামঞ্জস্য, সফটওয়্যার আপডেট এবং শেষ ক্লিপ সংরক্ষণের সমস্যার কোনও সমাধান রয়েছে কি না, তা খোঁজ নেওয়া উচিত।

চূড়ান্ত মূল্যায়ন: IZI Drive N700-এর ভিডিওর মান প্রশংসনীয়, কিন্তু স্টোরেজ ও সংযোগের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন থাকায় কেনার আগে সতর্ক থাকা জরুরি।

Essential Business Intelligence, Sharp Market Insights, Practical Personal Finance Advice, Daily Fuel, Gold and Silver Prices and Latest Stories – On Kolkata24x7 Business

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *