মহালয়ার ভোরে হুগলি ও হাওড়ায় গঙ্গার নানা ঘাটে তর্পণের ঢল, উপচে পড়া ভিড় বেলুড় মঠেও
পিতৃপক্ষের অবসান শেষে দেবীপক্ষের সূচনায় মহালয়ার পুণ্যলগ্নে পূর্বপুরুষদের আত্মার শান্তি কামনায় গঙ্গাতীরে তর্পণের ঢল নেমেছে কলকাতা-সহ জেলায় জলায়। হাওড়া ও হুগলিতে গঙ্গার নানা ঘাটে তর্পণ করতে ভিড় করছেন বহু মানুষ। এই দুই জেলার গঙ্গার ঘাটে ঘাটে ভোররাত থেকে পুণ্যার্থীদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো।
মহালয়ার দিন পিতৃপুরুষদের উদ্দেশে জলদান করতে হাওড়ার বিভিন্ন ঘাটে এবং বিশেষ করে বেলুড় মঠের গঙ্গার ঘাটে দূর-দূরান্ত থেকে অসংখ্য মানুষ ভিড় জমিয়েছেন। বেলুড় মঠের ঘাটে তর্পণ করতে আসা যোগেশ সিং জানান, এই দিন পূর্বপুরুষদের স্মরণ করার এবং ঈশ্বর ও দেবতাদের কাছে তাঁদের আত্মার সুখ-শান্তি কামনার এক অতি বিশেষ সুযোগ। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, স্বামী বিবেকানন্দের সাধনা ও ঐতিহ্যমণ্ডিত কর্মস্থল এই বেলুড় মঠ একটি অদ্ভূত শান্তির ক্ষেত্র। এখান থেকেই স্বামীজির আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে পরিবার ও সমাজকে সঙ্গে নিয়ে সঠিকভাবে জীবন পরিচালিত করার বার্তা পান তাঁরা। ধর্মীয় ভক্তি ও আবেগে ভোর হতেই বেলুড় মঠ প্রাঙ্গণ লোকে লোকারণ্য হয়ে ওঠে।
হুগলি জেলার চিত্রটিও ছিল সমান উৎসবমুখর ও ভক্তিপূর্ণ। চুঁচুড়ার ময়ূরপঙ্খী ঘাট, জোড়াঘাট এবং বকুলতলা ঘাটে পুরোহিতদের মন্ত্রোচ্চারণের মধ্যে দিয়ে তর্পণ পর্ব চলেছে। নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে পুলিশ প্রশাসন এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী ঘাটে মোতায়েন ছিল। নদীতে জোয়ার বা বান আসার সম্ভাবনা থাকায় জলের গভীরে না যাওয়ার জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে মাইকে প্রচার চালানো হয় এবং নদীতে স্পিড বোটে নজরদারি করা হয়।