তান্ত্রিকের পরামর্শে কুয়োয় দেড় বছরের শিশু, পুলিশ-কুকুর ধরিয়ে দিল ঠাকুর্দাকে
এই সময়, পুরুলিয়া: তান্ত্রিকের পরামর্শ মেনে দেড় বছরের ছোট্ট শিশুকে জীবন্ত অবস্থায় কুয়োয় ছুড়ে ফেলা হয়েছে!
এই ঘটনা ২৯ সেপ্টেম্বরের। পুলিশ এবং স্থানীয় সূত্রে খবর, অন্য দিনের মতো সে দিনও শিশুটি ঘুমাচ্ছিল মা লক্ষ্মী পরামানিকের পাশে। কিছুটা দূরে শুয়েছিলেন ঠাকুর্দা। ভোর চারটে নাগাদ ঘরের দরজা খুলে ঠাকুর্দা গোয়ালঘরের দিকে যান। ঘুম ভাঙার পরে ওই মহিলা দেখতে পান, সন্তান তাঁর পাশে নেই। চতুর্দিকে খোঁজার পরেও মেলেনি ওই শিশুর হদিশ। খবর দেওয়া পুলিশে। বাড়ির বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি করে কুয়ো থেকে শিশুকে উদ্ধার করে। স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা শিশুকে মৃত ঘোষণা করেন। শিশুর মায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে এক প্রতিবেশী গ্রেপ্তার হন। যদিও সেই ব্যক্তির দাবি, তিনি নির্দোষ। তিনিও রয়েছেন জেল হেফাজতে।
কিন্তু তদন্ত করতে পুলিশের সামনে যে তথ্যগুলি এসেছে, তা যেমন ভয়াবহ, তেমনই নারকীয়। তদন্তকারীরা জানাচ্ছেন, যে কুয়ো থেকে ওই শিশুকে উদ্ধার করা হয়, তার উঁচু বেড় টপকে দেড় বছরের ছোট্ট শিশুর জলে পড়ো কোনও ভাবেই সম্ভব নয়। কেউ ওই শিশুকে কুয়োয় ছুড়ে ফেলেছে। এবং ঘটনার সঙ্গে এক বা একাধিক ব্যক্তি যুক্ত থাকতে পারেন। শিশুর ময়না-তদন্তের যে রিপোর্ট পাওয়া যায়, তা অনুযায়ী জলে ডুবে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে শিশুর হয়। শিশুটি জীবন্ত ছিল।
বিশদে আরও তদন্তের জন্য আনা হয় পুলিশ-কুকুর। কুকুর ঘটনাস্থলে এসেই কুয়ো থেকে ওই শিশুর ঠাকুর্দার দিকে ছুটে যায়। প্রশিক্ষিত কুকুর একাধিক বার ঠাকুর্দার কাছে গিয়ে চিৎকার করতে থাকে।
এমনই পৈশাচিক ঘটনা ঘটেছে পুরুলিয়ার বাঘমুন্ডি থানার চানো গ্রামে। ঘটনার তদন্তে নেমে বৃহস্পতিবার পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে রাজেন্দ্রনাথ পরামানিক নামে এক ব্যক্তিকে, যিনি সম্পর্কে ওই শিশুর ঠাকুর্দা! অভিযুক্তকে আদালতে হাজির করা হলে তাঁকে পাঁচ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। তদন্তে যে বিষয়গুলি সামনে এসেছে, সে গুলি খতিয়ে দেখা হবে বলে জানান এক পুলিশ আধিকারিক।
তদন্তে নেমে পুলিশ পেয়েছে আরও ভয়ঙ্কর তথ্য। অপদেবতাকে সন্তুষ্ট করতে তান্ত্রিকের পরামর্শে শিশুটিকে কুয়োয় ফেলা হয়। তদন্তকারীরা জানিতে পারেন, রাজেন্দ্রনাথের তন্ত্র-মন্ত্রের চর্চাও রয়েছে। এক প্রতিবেশীকে গ্রেপ্তার করা হলেও শিশুর পরিবারের সদস্যদেরও সন্দেহের তালিকায় রেখেছিলেন তদন্তকারীরা। ঘটনার দিন শিশুর ঠাকুর্দা দরজা খুলে বাইরে বেরোন। পুলিশ-কুকুরও ঘটনাস্থল শুঁকে ঠাকুর্দার দিকেই ছুটে গিয়েছিল। ঠাকুর্দার দিকেই ইঙ্গিত করেছে।