Nana Patekar: নিজের হাতে মটন রেঁধে পরিচালককে খাওয়ালেন নানা, তারপর সোজা বললেন 'এবার বাসনটা মেজে দাও!' | The Master Chef Who Made a Bollywood Producer Wash Dishes: Remembering Nana Patekar - 24 Ghanta Bangla News
Home

Nana Patekar: নিজের হাতে মটন রেঁধে পরিচালককে খাওয়ালেন নানা, তারপর সোজা বললেন ‘এবার বাসনটা মেজে দাও!’ | The Master Chef Who Made a Bollywood Producer Wash Dishes: Remembering Nana Patekar

Spread the love

কল্পনা করুন দৃশ্যটা! বলিউডের এক নামজাদা প্রযোজক এসেছেন সুপারস্টারের বাড়িতে। নিজের হাতে বিখ্যাত মটন কারি রেঁধে তাঁকে রীতিমতো কবজি ডুবিয়ে খাওয়ালেন খোদ তারকা। প্রযোজক মশাই তখন তৃপ্তির ঢেকুর তুলছেন। ঠিক এমন সময় এল সুপারস্টারের কড়া নির্দেশ, “খাওয়া তো হল, এবার গিয়ে নিজের এঁটো বাসনগুলো মেজে ফেলো!” গপ্পো নয়, ঠিক এমনটাই ঘটিয়েছিলেন নানা পাটেকর। পর্দায় তাঁর চোখরাঙানি আর গম্ভীর গলার আওয়াজে বুক কাঁপে দর্শকদের। অথচ বাস্তবের মাটিতে এই মানুষটার সবচেয়ে বড় শখ ছিল রান্না করা!

নানা পাটেকরের মেজাজ আর পারিশ্রমিক, দুটোই সবসময় চর্চার বিষয় ছিল। অভিনেতা পরেশ রাওয়াল একটি সাক্ষাৎকারে সেই গল্প ফাঁস করেন। চরিত্রাভিনেতা হিসেবে বলিউডে প্রথম এক কোটি টাকা পারিশ্রমিক হেঁকেছিলেন নানা পাটেকর। নব্বইয়ের দশকে অনেকেই এত টাকা চাইতে ভয় পেতেন। সেই বিপুল পারিশ্রমিক নিয়ে তখন ইন্ডাস্ট্রিতে রীতিমতো হইচই। এমন সময় ওই সিনেমার প্রযোজক নানার কাছে এসেছিলেন, হয়তো ভেবেছিলেন পারিশ্রমিক নিয়ে একটু দরাদরি করবেন। প্রযোজককে বাড়িতে ডেকে নানা সটান জিজ্ঞেস করেন, “মটন খাও?” এরপর নিজের হাতের সেই মটন কারি খাওয়ান তাঁকে। পেটপুজোর পর প্রযোজক যখন খোশমেজাজে, আর মনে মনে ভাবছেন এবার বুঝি টাকা কমানোর প্রসঙ্গ তুলবেন, ঠিক তখনই আসে বাসন মাজার নির্দেশ। আসলে, এক কোটি টাকা চাওয়ার যে সাহস নানা দেখিয়েছিলেন, এই বাসন মাজিয়ে তিনি প্রযোজককে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন যে তিনি কারও কাছে মাথা নত করার পাত্র নন, তাঁর শর্তেই কাজ হবে! অবাক প্রযোজককে সুপারস্টারের বাড়িতে বসে উলটে এঁটো বাসন মাজতে হয়েছিল। পরেশের কথায়, “এটাই নানা পাটেকর— বাপ হ্যায়! ওর শিকড়টাই আলাদা।”

ক্যামেরার সামনে তিনি যতটাই কড়া, পিছনে ঠিক ততটাই দিলখোলা। অভিনয় বাদে সেটে তাঁর প্রধান কাজই ছিল খুন্তি নাড়া। অভিনেত্রী কুবরা সৈতও নানার এই এনার্জি দেখে অবাক হয়ে গিয়েছিলেন। ৭০ পেরোনো এক প্রবীণ মানুষ, যিনি প্যাক-আপ না হওয়া পর্যন্ত কখনও সেট ছাড়তেন না। কাজ শেষে ফিরে গোটা ইউনিটের জন্য রান্না করতেন। নিজের হাতে সবাইকে খাইয়ে, ফিরতেন।

একবার নিজেই খোলসা করেছিলেন তাঁর এই রান্নার রহস্য। জানিয়েছিলেন, সন্ধেবেলা কাজ শেষে সবাই মিলে একসঙ্গে খেতে বসলে অদ্ভুত একটা বন্ড তৈরি হয়ে যায়। গোটা ইউনিট তখন একটা পরিবার। বয়সে সবার বড় হওয়ায়, সেটে কেউ ভুল করলে অবলীলায় বকুনিও দিতেন তিনি। তাঁর কাছে মানুষটার কাছে রান্না ছিল আসলে সবাইকে একসঙ্গে বেঁধে রাখার একটা অদ্ভুত সুন্দর উপায়।

সবার প্রিয় সেই মানুষটা আর নেই। বৃহস্পতিবার সকালে আচমকাই এল মর্মান্তিক খবর। চিরঘুমে চলে গিয়েছেন ৭৫ বছর বয়সী এই কিংবদন্তি অভিনেতা। গোয়ায় ভোর ৫টা ২০ মিনিট নাগাদ হঠাৎ হৃদরোগে আক্রান্ত হন তিনি। তড়িঘড়ি ডোনা পাওলার এক বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হলেও, পথেই মৃত্যু হয় তাঁর। বলিউড শুধু একজন দাপুটে অভিনেতাকে হারাল না, চিরকালের মতো হারিয়ে ফেলল সেটের সেই প্রিয় অভিভাবক আর দিলখোলা রাঁধুনিকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *