জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে এবার দ্রৌপদীর দ্বারস্থ INDI জোট
নয়াদিল্লি: মুখোমুখি রাজনৈতিক সংঘাত এবার আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে (INDI bloc)যেতে চলেছে বিরোধী শিবির। নির্বাচন কমিশন এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে…
নয়াদিল্লি: মুখোমুখি রাজনৈতিক সংঘাত এবার আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে (INDI bloc)যেতে চলেছে বিরোধী শিবির। নির্বাচন কমিশন এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে নিজেদের অভিযোগ ও দাবি নিয়ে এবার সরাসরি রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর দ্বারস্থ হতে চাইছে INDI জোট।
সূত্রের খবর, বুধবার দুপুরে আয়োজিত এক বৈঠকে ১৫০-রও বেশি বিরোধী সাংসদ একটি স্মারকলিপিতে স্বাক্ষর করতে পারেন। সেই স্মারকলিপি রাষ্ট্রপতির হাতে তুলে দেওয়ার জন্য তাঁর সঙ্গে সাক্ষাতের সময় চাওয়া হবে। বিরোধীদের অন্যতম প্রধান দাবি, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ।
বিশেষ করে ভোটার তালিকার Special Intensive Revision বা SIR-কে কেন্দ্র করে গত কয়েক দিন ধরেই জাতীয় রাজনীতিতে উত্তেজনা তুঙ্গে। মঙ্গলবার দিল্লিতে সেই উত্তেজনারই প্রতিফলন দেখা যায়। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে INDI ব্লকের একাধিক সাংসদ সংসদ ভবন থেকে নির্বাচন কমিশনের দফতরের দিকে মিছিল করে যাওয়ার চেষ্টা করেন।
আরও দেখুনঃ জনসেবার ২৫ বছর পূর্ণ মোদীর, ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার হুংকার
তাঁদের মূল দাবি ছিল, নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ দিতে হবে এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে পদত্যাগ করতে হবে। কিন্তু পুলিশ সেই মিছিল আটকে দেয়। এরপর প্রতিবাদস্থল বদলে যায় আকাশবাণী ভবনের সামনে। সেখানে রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা-সহ একাধিক বিরোধী নেতা ধর্নায় বসেন। পরে তাঁদের আটক করা হয়।
মঙ্গলবারের সেই প্রতিবাদের পর বুধবারও থামেনি বিরোধীদের কর্মসূচি। বরং এবার আন্দোলনকে সাংবিধানিক স্তরে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। INDI ব্লকের সূত্রের দাবি, রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য শুক্রবার পর্যন্ত অপেক্ষা করা হবে। যদি তার মধ্যে রাষ্ট্রপতির দফতর থেকে সাক্ষাতের সময় না মেলে, তাহলে ফের দিল্লির রাস্তায় মিছিল করার কথা ভাবছে বিরোধী শিবির।
বিরোধীদের এই পদক্ষেপের মধ্যে রাজনৈতিক বার্তাও যথেষ্ট স্পষ্ট। তারা চাইছে, নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ শুধু রাজনৈতিক সভা বা রাস্তায় আন্দোলনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে দেশের সাংবিধানিক কাঠামোর কাছেও তুলে ধরতে। বুধবারের মধ্যাহ্নভোজ বৈঠকে ১৫০-র বেশি বিরোধী সাংসদ স্মারকলিপিতে স্বাক্ষর করতে পারেন বলে সূত্রের দাবি। সেখানে SIR-সহ নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে একাধিক আপত্তি এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবি তুলে ধরা হবে।
অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনও নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। (INDI bloc)কমিশনের বক্তব্য, মঙ্গলবার বিকেল ৪টার আগে কোনও রাজনৈতিক দল আনুষ্ঠানিকভাবে সাক্ষাতের জন্য আবেদন করেনি। পরে দিল্লি পুলিশের মাধ্যমে কমিশন জানতে পারে যে সাংসদদের একটি প্রতিনিধি দল কমিশনের সঙ্গে দেখা করে স্মারকলিপি জমা দিতে চায়। কমিশনের নির্দিষ্ট প্রোটোকল অনুযায়ী, কোনও রাজনৈতিক দল বা যৌথ প্রতিনিধি দলকে তাদের অনুমোদিত প্রতিনিধির মাধ্যমে আগে থেকে সাক্ষাতের সময় চাইতে হয় এবং সাধারণত কমিশনের দফতরেই সেই বৈঠক হয়।
এই অবস্থানে অবশ্য সন্তুষ্ট নয় বিরোধীরা। রাহুল গান্ধী ইতিমধ্যেই ভোটার তালিকায় ‘ভোট চুরি’র অভিযোগ তুলেছেন এবং SIR প্রক্রিয়া নিয়ে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার চেষ্টা হচ্ছে। একইসঙ্গে তিনি বারবার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি জানিয়েছেন। যদিও নির্বাচন কমিশন এই অভিযোগগুলি খারিজ করেছে এবং ভোটার তালিকার SIR প্রক্রিয়ার পক্ষে নিজেদের অবস্থান বজায় রেখেছে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, বিরোধীদের এই নতুন কর্মসূচি শুধু কংগ্রেসের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না। মঙ্গলবারের মিছিলে অংশ না নিলেও বুধবারের নতুন প্রতিবাদে আম আদমি পার্টি যোগ দিয়েছে।(INDI bloc) কংগ্রেস, বাম দল এবং অন্যান্য বিরোধী সংগঠনের সঙ্গে AAP-ও দিল্লির মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরের সামনে প্রতিবাদে সামিল হয়েছে। ফলে SIR ইস্যুকে কেন্দ্র করে বিরোধী দলগুলির মধ্যে সমন্বয়ও ধীরে ধীরে বাড়ছে।