ক্ষমতার ২৫ বছর পূর্তিতে ‘উই উইল ডু ইট’ মন্ত্র মোদীর, দেশের সামনে রাখলেন তিন বড় টার্গেট
নয়াদিল্লি: দেশ পরিচালনার বর্ণময় ও দীর্ঘ ২৫ বছর পূর্ণ করার বিশেষ দিনটিতে নতুন রাজনৈতিক বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বুধবার দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী ইনডোর স্টেডিয়ামে…
নয়াদিল্লি: দেশ পরিচালনার বর্ণময় ও দীর্ঘ ২৫ বছর পূর্ণ করার বিশেষ দিনটিতে নতুন রাজনৈতিক বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বুধবার দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী ইনডোর স্টেডিয়ামে এক বিশাল সমাবেশে দেশের ভবিষ্যৎ উন্নতির রূপরেখা তুলে ধরে তিনি স্লোগান তোলেন, “উই উইল ডু ইট” (আমরাই এটা করে দেখাব)। ২০০১ সালের ৭ অক্টোবর প্রথমবার গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার আড়াই দশক পূর্তির এই দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে মোদী দেশের নাগরিকদের সামনে তিনটি সুনির্দিষ্ট ও বড় লক্ষ্য বা টার্গেট রাখেন।
সমাবেশে উপস্থিত হাজার হাজার মানুষের করতালির মাঝে প্রধানমন্ত্রী ২০৪৭ সালের মধ্যে ভারতকে একটি উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করার স্বপ্নের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তাঁর দেওয়া প্রধান তিনটি লক্ষ্যের মধ্যে রয়েছে-
- ভারতকে বিশ্বের শীর্ষ তিনটি অর্থনীতির দেশের (Top-three economies) সারিতে নিয়ে যাওয়া।
- দেশে অলিম্পিক গেমসের (Olympics) সফল আয়োজন করা।
- মহাকাশ অভিযানে মহাশূন্যে ভারতীয় নভশ্চর পাঠানো।
প্রধানমন্ত্রী প্রতিটি লক্ষ্য উচ্চারণ করার সঙ্গে সঙ্গেই উপস্থিত জনতা সমস্বরে ধ্বনি তোলে, “উই উইল ডু ইট!” মোদী বলেন, দেশের মানুষের মধ্যে থাকা এই বিপুল শক্তি, উদ্দীপনা এবং আত্মবিশ্বাস অত্যন্ত অসাধারণ।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও চ্যালেঞ্জের আবহাওয়া
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মোদীর এই অত্যন্ত চনমনে ও শক্তপোক্ত ভাষণ এমন এক সময়ে এল যখন কেন্দ্র সরকার বেশ কিছু রাজনৈতিক চাপ ও চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। গত জুলাই মাসে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন (SIR) নিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিরোধীদের লাগাতার আন্দোলন এবং সম্প্রতি ‘কোকরোচ জনতা পার্টি’ (CJP) ও কংগ্রেসের নেতৃত্বে চলা বিভিন্ন প্রতিবাদ-বিক্ষোভের জেরে কিছুটা হলেও ব্যাকফুটে ছিল শাসকশিবির। বিশেষ করে মুম্বইয়ের বড় প্রতিবাদ বা দিল্লির নির্বাচন কমিশন অভিযান সরকারের নীতি ও রাজনৈতিক কৌশলকে নতুন করে ভাবাচ্ছে।
তবে মোদীর এই মাস্টারস্ট্রোক ভাষণ বিরোধীদের সাম্প্রতিক আক্রমণ থেকে নজর ঘুরিয়ে পুনরায় দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, বিজ্ঞান ও বিশ্বমঞ্চে ভারতের উচ্চাশার এজেন্ডার দিকে ফোকাস ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। বিশ্বজুড়ে চলা মহামারী, রাশিয়া-ইউক্রেন বা মধ্যপ্রাচ্য সংকটের জেরে সাপ্লাই চেইন ব্যাহত হলেও অন্যান্য উদীয়মান অর্থনীতির তুলনায় ভারত যেভাবে সংকট মোকাবিলা করেছে, তা দেশের ক্রমবর্ধমান আত্মবিশ্বাসকেই প্রতিফলিত করে।
বিচার ব্যবস্থা থেকে সেনা বাহিনীকে আক্রমণ! রাহুলকে গদ্দার বলে সরব বিজেপি
জনসেবার ২৫ বছর পূর্ণ মোদীর, ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার হুংকার