এখনও লড়ছেন ত্রাতা স্মিত! মাথার খুলিতে হল বড় অস্ত্রপচার - 24 Ghanta Bangla News
Home

এখনও লড়ছেন ত্রাতা স্মিত! মাথার খুলিতে হল বড় অস্ত্রপচার

Spread the love

ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছার এখনও লড়ছেন। (Smit Machar)ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড১০৭৩ ফ্লাইটে মাঝআকাশে ককপিটে হামলার পর তিনি সৌদি আরবে জরুরি স্কাল রিকনস্ট্রাকশন সার্জারি করিয়েছেন। এরপর তাঁকে…

ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছার এখনও লড়ছেন। (Smit Machar)ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড১০৭৩ ফ্লাইটে মাঝআকাশে ককপিটে হামলার পর তিনি সৌদি আরবে জরুরি স্কাল রিকনস্ট্রাকশন সার্জারি করিয়েছেন। এরপর তাঁকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে স্থানান্তর করা হয়েছে। স্থায়ী স্নায়বিক উপসর্গ ও দৃষ্টিজনিত জটিলতা থাকলেও তদন্তকারীদের কাছে তাঁর বিবৃতি রেকর্ড করা হয়েছে।

অসাধারণ মানসিক শক্তি দেখিয়ে তিনি জানিয়েছেন, আবার উড়তে চান।ঘটনাটি ঘটেছিল গত ৩০ সেপ্টেম্বর। দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের বোয়িং ৭৩৭ বিমানে প্রায় ১৭০ জন যাত্রী ছিলেন। ককপিটে সহপাইলটের হামলায় স্মিত মচ্ছার গুরুতর আহত হন। ক্র্যাশ অ্যাক্স দিয়ে তার মাথায় আঘাত করা হয়। তাঁর মাথার খুলিতে ডিপ্রেসড ফ্র্যাকচার হয়। রক্তাক্ত অবস্থায় মেঝেতে পড়ে থাকা সত্ত্বেও তিনি শেষ শক্তি দিয়ে ককপিটের দরজা খুলে দেন।

আরও দেখুনঃ ব্যারিকেড টপকে তেরঙ্গা ওড়ালেন ‘ইন্ডি’ জোটের নেতারা, আটক রাহুল-প্রিয়াঙ্কা-অভিষেক

এতে যাত্রী ও ক্রুরা ঢুকে হামলাকারীকে নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। (Smit Machar)বিমান দ্রুত উচ্চতা হারালেও দুই রিজার্ভ পাইলটের সহায়তায় সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করা হয়।সৌদি আরবে প্রাথমিক চিকিৎসার পর জরুরি অস্ত্রোপচার করা হয়। চিকিৎসকরা তাঁর মাথার খুলি পুনর্গঠন করেন। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে আবু ধাবিতে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তিনি স্থিতিশীল অবস্থায় আছেন এবং চিকিৎসা সাড়া দিচ্ছেন।

তবে স্নায়বিক উপসর্গ ও দৃষ্টিজনিত সমস্যা এখনও রয়েছে। এসব সত্ত্বেও তদন্তকারীরা তাঁর বিবৃতি নিয়েছেন। ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেছেন, নিজের জীবন বাঁচানোর পাশাপাশি যাত্রীদের জীবন রক্ষার কথাই ভেবেছিলেন।স্মিত মচ্ছারের এই সাহসিকতা বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হয়েছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন।

নেতানিয়াহু তাঁকে ‘ট্রু হিরো’ বলে অভিহিত করেছেন। (Smit Machar)মোদী তাঁকে আশ্বস্ত করেছেন যে দেশ তাঁর জন্য অপেক্ষা করছে। স্মিত নিজেও আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, সুস্থ হয়ে আবার উড়বেন। তাঁর বাবাও বিশ্বাস করেন ছেলে আবার ফ্লাইট চালাবেন।মুম্বইয়ের এই পাইলটের পেশাগত যাত্রাও অনুপ্রেরণাদায়ক। টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়েও উড়ার স্বপ্ন দেখে নিউজিল্যান্ডে প্রশিক্ষণ নেন।

স্পাইসজেটে ১১ বছর কাজ করার পর ফ্লাইদুবাইতে যোগ দেন। প্রায় ৯,৭৫০ ঘণ্টার ফ্লাইং অভিজ্ঞতা তাঁকে সেই সংকটময় মুহূর্তে সহায়তা করেছিল। চোখ বন্ধ করেও বিমানের অবস্থা বুঝতে পারতেন বলে তিনি জানিয়েছেন। (Smit Machar)এই ঘটনা শুধু একজন পাইলটের ব্যক্তিগত সাহসিকতার গল্প নয়। এটি প্রমাণ করেছে কীভাবে একজন মানুষ চরম বিপদেও দায়িত্ববোধ হারান না। যাত্রীদের মধ্যে শিশুও ছিল। সেই সব প্রাণ বাঁচাতে তিনি নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়েছিলেন। এখন চিকিৎসাধীন অবস্থায়ও তাঁর লক্ষ্য একটাই সুস্থ হয়ে আবার আকাশে ফিরে যাওয়া।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *