এআই প্রযুক্তির ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা কিমের, বাড়ছে প্রতিরক্ষা উদ্বেগ - 24 Ghanta Bangla News
Home

এআই প্রযুক্তির ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা কিমের, বাড়ছে প্রতিরক্ষা উদ্বেগ

Spread the love

উত্তর কোরিয়া দাবি করেছে, তারা ক্ষেপণাস্ত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি যুক্ত করেছে। এর ফলে ক্ষেপণাস্ত্রটি উড়ানের সময় নিজের গতিপথ পরিবর্তন করতে এবং নিচু উচ্চতায়…

উত্তর কোরিয়া দাবি করেছে, তারা ক্ষেপণাস্ত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি যুক্ত করেছে। এর ফলে ক্ষেপণাস্ত্রটি উড়ানের সময় নিজের গতিপথ পরিবর্তন করতে এবং নিচু উচ্চতায় কৌশলী গতিপথ অনুসরণ করতে সক্ষম হয়েছে বলে দাবি করেছে পিয়ংইয়ং। উত্তর কোরিয়ার এই দাবি দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তির উন্নয়ন নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন (Kim Jong Un) নিজে এই ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ পর্যবেক্ষণ করেছেন বলে দেশটির সরকারি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। পিয়ংইয়ংয়ের দাবি, পরীক্ষার সময় ক্ষেপণাস্ত্রটি উন্নত কৌশলগত গতিবিধি দেখিয়েছে। তবে দক্ষিণ কোরিয়া জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রটি তাদের এবং মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার শনাক্ত ও প্রতিহত করার সক্ষমতার মধ্যেই ছিল।

এআই-নির্ভর নির্দেশনা ব্যবস্থার দাবি

উত্তর কোরিয়ার দাবি অনুযায়ী, নতুন ক্ষেপণাস্ত্রে এআই-ভিত্তিক গাইডেন্স ব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়েছে। এই প্রযুক্তি উড়ানের সময় বাস্তব সময়ে ক্ষেপণাস্ত্রের গতিপথে পরিবর্তন আনতে পারে বলে দাবি করেছে পিয়ংইয়ং। বিশেষ করে নিচু উচ্চতায় উড়ে গতিপথ পরিবর্তনের ক্ষমতার কথা তুলে ধরেছে উত্তর কোরিয়া। দেশটির দাবি, এ ধরনের কৌশল ক্ষেপণাস্ত্রটির গতিপথ আগে থেকে অনুমান করা কঠিন করে তুলতে পারে। কিম জং উনের বোন এবং উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ কর্মকর্তা কিম ইয়ো জংও পরীক্ষার বিষয়ে মন্তব্য করেছেন। তাঁর দাবি, ক্ষেপণাস্ত্রটি ‘ঢেউয়ের মতো’ গতিপথ অনুসরণ করেছে। তাঁর মতে, এই ধরনের গতিবিধি শত্রুপক্ষের নজরদারি এবং ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে জটিল করে তুলতে পারে।

ALSO READ | আলোর সাহায্যে মস্তিষ্কের কোষ নিয়ন্ত্রণ! চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পেলেন তিন বিজ্ঞানী

৭০০ কিলোমিটারের বেশি উড়েছে ক্ষেপণাস্ত্র

দক্ষিণ কোরিয়ার তথ্য অনুযায়ী, উত্তর কোরিয়া ওয়নসান এলাকা থেকে ক্ষেপণাস্ত্রটি উৎক্ষেপণ করেছে। সেটি পূর্ব সাগরের দিকে ৭০০ কিলোমিটারের বেশি পথ অতিক্রম করেছে। তবে উত্তর কোরিয়ার সরকারি সংবাদমাধ্যম ভিন্ন দাবি করেছে। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রায় ১,০০০ কিলোমিটার দূরের একটি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করেছে। উত্তর কোরিয়া অস্ত্রটিকে একটি ইন্টারমিডিয়েট-রেঞ্জ স্ট্র্যাটেজিক ব্যালিস্টিক মিসাইল হিসেবে বর্ণনা করেছে। দেশটি এটিকে তাদের হাইপারসনিক স্ট্র্যাটেজিক অস্ত্র ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত বলেও জানিয়েছে।

ALSO READ |  ইউনাইটেড কিংডমের বিমানবন্দরে গ্রেফতার ৫ সন্দেহভাজন জঙ্গির মুক্তি! বোমারু সরাল আমেরিকা

দক্ষিণ কোরিয়ার পাল্টা দাবি

উত্তর কোরিয়ার দাবির পর দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রটি তাদের এবং মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার শনাক্ত ও প্রতিহত করার সক্ষমতার বাইরে ছিল না।দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মূল্যায়ন অনুযায়ী, তাদের এবং মার্কিন বাহিনী ক্ষেপণাস্ত্রটির গতিবিধি শনাক্ত করতে এবং প্রয়োজন হলে সেটিকে প্রতিহত করতে সক্ষম। দুই দেশ যৌথভাবে শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বজায় রেখেছে বলেও জানিয়েছে সিউল। ফলে উত্তর কোরিয়া যে ক্ষেপণাস্ত্রটিকে উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করার সক্ষমতার প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরছে, দক্ষিণ কোরিয়া সেই দাবিকে পুরোপুরি সমর্থন করছে না।

ক্ষেপণাস্ত্রে এআই কেন গুরুত্বপূর্ণ?

ক্ষেত্রটির বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্ষেপণাস্ত্রে এআই ব্যবহারের গুরুত্ব শুধুমাত্র অস্ত্রটিকে ‘আরও বুদ্ধিমান’ করে তোলার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। সম্ভাব্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, উড়ানের সময় ক্ষেপণাস্ত্রটি বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ করে নিজের আচরণ বা গতিপথ পরিবর্তন করতে পারে কি না। সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ বা সিএসআইএস জানিয়েছে, হাইপারসনিক অস্ত্র উচ্চ গতি, কৌশলী গতিপথ এবং তুলনামূলক নিচু উচ্চতায় উড়ানের মতো বৈশিষ্ট্য একত্রিত করতে পারে। এর ফলে প্রচলিত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য হুমকি শনাক্ত করা এবং গতিপথ অনুমান করা আরও কঠিন হতে পারে। সাধারণ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তুলনামূলকভাবে অনুমানযোগ্য গতিপথ অনুসরণ করতে পারে। কিন্তু উড়ানের সময় গতিপথ পরিবর্তন করতে সক্ষম কোনও অস্ত্র কম অনুমানযোগ্য পথে এগোতে পারে।

প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য কোথায় সমস্যা?

ক্ষেত্রটিতে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হল আগত অস্ত্রকে দ্রুত শনাক্ত করা, সেটির গতিপথ অনুসরণ করা এবং পরবর্তী অবস্থান অনুমান করা। সিএসআইএসের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, নতুন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র হুমকির একটি বৈশিষ্ট্য হল সেগুলি তুলনামূলক নিচু উচ্চতায়, বেশি গতিতে এবং কম অনুমানযোগ্য গতিপথে উড়তে পারে। এর ফলে সেন্সর নেটওয়ার্কের উপর চাপ বাড়ে এবং দ্রুত ও নির্ভুলভাবে লক্ষ্য শনাক্ত করার প্রয়োজনীয়তা বাড়ে। এই পরিস্থিতিতে এআই-সহায়িত গাইডেন্স ব্যবস্থা আরও একটি সম্ভাব্য জটিলতা তৈরি করতে পারে। যদি কোনও ক্ষেপণাস্ত্র উড়ানের সময় পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিজের গতিপথ পরিবর্তন করতে পারে, তাহলে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য তার পরবর্তী অবস্থান অনুমান করা কঠিন হতে পারে।

‘অপ্রতিরোধ্য’ ক্ষেপণাস্ত্র নয়

তবে এআই প্রযুক্তি যুক্ত হলেই কোনও ক্ষেপণাস্ত্র স্বয়ংক্রিয়ভাবে ‘অপ্রতিরোধ্য’ হয়ে যায় না। উত্তর কোরিয়ার সাম্প্রতিক দাবির ক্ষেত্রেও এই বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। এআই-সহায়িত গাইডেন্স ব্যবস্থার সম্ভাব্য সুবিধা হল, এটি একটি কৌশলী ক্ষেপণাস্ত্রকে উড়ানের সময় আরও অভিযোজনযোগ্য করে তুলতে পারে। এর ফলে গতিপথ কম অনুমানযোগ্য হতে পারে এবং ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য সেটিকে ট্র্যাক করা আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে। তবে উত্তর কোরিয়ার দাবি করা সক্ষমতা বাস্তবে কতটা কার্যকর এবং নতুন প্রযুক্তিটি কতটা নির্ভরযোগ্য, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি। দক্ষিণ কোরিয়ার বক্তব্যও ইঙ্গিত করছে যে দেশটির বর্তমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এখনও এই ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত ও প্রতিহত করার সক্ষমতা রাখে। ফলে উত্তর কোরিয়ার এই পরীক্ষা দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তিতে এআই ও কৌশলী উড়ান ব্যবহারের উচ্চাকাঙ্ক্ষার ইঙ্গিত দিলেও, এটিকে সরাসরি অপ্রতিরোধ্য অস্ত্র হিসেবে চিহ্নিত করার মতো পর্যাপ্ত প্রমাণ এখনও নেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *