Ghagra Waterfalls: সন্তানকে বাঁচাতে জলপ্রপাতে ঝাঁপ, ২৯ ঘণ্টা পর পাথরের খাঁজ থেকে মিলল মায়ের দেহ | Woman's body recovered from Ghaghra waterfall jhargram after 29 hours - 24 Ghanta Bangla News
Home

Ghagra Waterfalls: সন্তানকে বাঁচাতে জলপ্রপাতে ঝাঁপ, ২৯ ঘণ্টা পর পাথরের খাঁজ থেকে মিলল মায়ের দেহ | Woman’s body recovered from Ghaghra waterfall jhargram after 29 hours

Spread the love

উদ্ধার প্রীতি দত্তের দেহImage Credit: Tv9 Bangla

বেলপাহাড়ি: অসাবধানবসত ছোট্ট সন্তান পড়ে গিয়েছিল ঝাড়গ্রামের ঘাঘরা জলপ্রপারে। তাকে বাঁচাতে ঝাঁপ দেন মা। ছেলে কোনওভাবে বেঁচে গেলেও, মা ছিলেন নিখোঁজ। এক টানা ২৯ ঘণ্টা রুদ্ধশ্বাস অভিযানের পর অবশেষ গাছের গুঁড়ি ফেলে এবং জেসিবি দিয়ে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় মাটির বাঁধ তৈরি করে উদ্ধার নিখোঁজ মহিলা প্রীতি দত্তের নিথর দেহ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বারুইপুর থেকে পরিবার নিয়ে ঘাঘরায় বেড়াতে এসেছিলেন প্রীতি দত্ত। জলপ্রপাতের কাছে ছবি তোলার সময় পা পিছলে জলে পড়ে যায় তাঁর ছেলে। চোখের সামনে সন্তানকে তলিয়ে যেতে দেখে বাঁচাতে গিয়ে প্রীতিদেবী নিজেই উত্তাল স্রোতে ঝাঁপ দেন। এরপর তাঁদের উদ্ধার করতে প্রীতিদেবীর স্বামী রাজদীপ দত্তও জলে ঝাঁপ দেন। স্থানীয়দের তৎপরতায় ছেলে ও স্বামীকে উদ্ধার করা গেলেও জলের তোড়ে তলিয়ে যান প্রীতি দত্ত।

তারাফেনী নদীর ওপর অবস্থিত এই ঘাঘরা জলপ্রপাতে সারা বছর তেমন জল না থাকলেও, বর্ষার সময় এটি ভয়াল রূপ ধারণ করে। পর্যটকদের নিরাপত্তার কথা ভেবে বেলপাহাড়ি থানার তরফে সাধারণত এখানে সিভিক ভলান্টিয়ার মোতায়েন থাকে। বিপজ্জনক এলাকাগুলি দড়ি দিয়ে ব্যারিকেড করে রাখা হয়। তবে অভিযোগ, ঘটনার দিন কোনও পুলিশি ব্যারিকেড বা পর্যাপ্ত নজরদারি ছিল না। ফলে পর্যটকরা বিপজ্জনক পাথুরে খাঁজে উঠে ছবি ও সেলফি তুলছিলেন।

ঘটনার পরই নিখোঁজ পর্যটককে উদ্ধারে নামে দমকল, পুলিশ এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। কিন্তু নদীর তীব্র স্রোত ও নীচে পাথরের বড় বড় চাঁই থাকায় স্পিডবোট নামানো অসম্ভব হয়ে পড়ে। তীব্র প্রতিকূলতার মুখে পড়তে হয় ডুবুরিদের চার সদস্যের বিশেষ দলটিকে। রাতভর উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন সার্চলাইট জ্বালিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পর রবিবার সকালে নতুন করে উদ্ধারকাজ শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত জলের গতি আটকাতে জেসিবি দিয়ে মাটির বাঁধ ও গুঁড়ি ফেলে প্রায় ২৯ ঘণ্টার অক্লান্ত চেষ্টায় দেহটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়।

এই ঘটনায় পুলিশ ও প্রশাসনের নিরাপত্তা ব্যবস্থার গাফিলতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও অন্য পর্যটকরা। তাঁদের দাবি, নজরদারি আঁটসাঁট থাকলে এমন মর্মান্তিক ঘটনা এড়ানো যেত। একই সঙ্গে বিপজ্জনক পর্যটনস্থলে সুরক্ষাবিধি ভেঙে জলের গভীরে যাওয়ার বিষয়ে পর্যটকদের সচেতনতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *