প্রেস কনফারেন্সে হাতাহাতি! বসার জায়গা না পেয়ে প্রাক্তন সপা-সভাপতিকে চড়
উত্তরপ্রদেশের গোরক্ষপুরে (Gorakhpur) সমাজবাদী পার্টি বা সপা-র একটি সাংবাদিক বৈঠক ঘিরে উত্তেজনা ছড়াল। শনিবার প্রেস ক্লাবে আয়োজিত বৈঠকে বসার জায়গা নিয়ে দলের দুই পক্ষের মধ্যে…
উত্তরপ্রদেশের গোরক্ষপুরে (Gorakhpur) সমাজবাদী পার্টি বা সপা-র একটি সাংবাদিক বৈঠক ঘিরে উত্তেজনা ছড়াল। শনিবার প্রেস ক্লাবে আয়োজিত বৈঠকে বসার জায়গা নিয়ে দলের দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে বচসা এবং পরে হাতাহাতি শুরু হয়। সেই সময় দলের প্রাক্তন জেলা সভাপতি নগিনা সাহানিকে চড় মারার অভিযোগ উঠেছে অংশুমান সিংয়ের ছেলে কমলেশ সিংয়ের বিরুদ্ধে। ঘটনার একটি ভিডিও পরে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনাটি ঘটে দুপুর প্রায় ২টা ৪৫ মিনিটে। সমাজবাদী পার্টির জেলা সভাপতি ব্রিজেশ গৌতমের ডাকা সাংবাদিক বৈঠকে দলের ‘লোকতন্ত্র বচাও সপ্তাহ’ কর্মসূচি নিয়ে সাংবাদিকদের জানানো হচ্ছিল। ২ অক্টোবর থেকে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত এই কর্মসূচি পালনের কথা রয়েছে।
বসার জায়গা নিয়ে শুরু বচসা
দলীয় সূত্রের দাবি, বৈঠকের হল ঘরটি তখন প্রায় পূর্ণ ছিল। সেই সময় ২০২৭ সালের উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনে গোরক্ষপুর গ্রামীণ কেন্দ্র থেকে সপা-র টিকিটপ্রত্যাশী অংশুমান সিং তাঁর সমর্থকদের নিয়ে সেখানে পৌঁছন। বসার জন্য জায়গা চাওয়া নিয়ে নগিনা সাহানির পক্ষের সঙ্গে অংশুমান সিংয়ের পক্ষের বচসা শুরু হয়। পরে পরিস্থিতি হাতাহাতিতে গড়ায়। সেই সময়ই নগিনা সাহানিকে চড় মারা হয় বলে অভিযোগ। দলীয় কর্মী এবং নেতারা দ্রুত দুই পক্ষকে আলাদা করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ্যে আসে।
ALSO READ – বাংলাদেশি পাটপণ্যে শুল্ক বাড়াল মোদী সরকার! সর্বোচ্চ ৪৪৫ ডলার প্রতি টনে
অংশুমানের দাবি, ভাবমূর্তি নষ্টের চেষ্টা
ঘটনা নিয়ে অংশুমান সিং দাবি করেছেন, তাঁর ভাবমূর্তি নষ্ট করার উদ্দেশ্যেই বিষয়টিকে বড় করে দেখানো হচ্ছে। দলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীরা ইচ্ছাকৃতভাবে বিতর্ক তৈরি করার চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। অন্যদিকে, নগিনা সাহানি অংশুমান সিংয়ের সমর্থকদের বিরুদ্ধে দুর্ব্যবহার, মারধর এবং ভয় দেখানোর অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর আরও দাবি, কয়েকজন ব্যক্তি বেআইনি অস্ত্র নিয়ে অনুষ্ঠানস্থলে ঢুকেছিলেন। এই অভিযোগের স্বাধীন কোনও নিশ্চিতকরণ এখনও পাওয়া যায়নি।
শীর্ষ নেতৃত্বকে জানাবে দল
সমাজবাদী পার্টির গোরক্ষপুর জেলা সভাপতি ব্রিজেশ গৌতম জানিয়েছেন, পুরো বিষয়টি দলের জাতীয় সভাপতি অখিলেশ যাদবকে জানানো হবে। এরপর দলীয় নেতৃত্বই পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করবে। দলের স্থানীয় নেত্রী কাজল নিষাদ ঘটনাটিকে দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেছেন। একইসঙ্গে দলীয় কর্মীদের সংযত থাকার আবেদন জানিয়েছেন তিনি।
ALSO READ – সপ্তাহে ৫ দিনের কাজ সঙ্গে ২ শনিতে ব্যাঙ্ক খোলা রাখার পরিকল্পনা RBI র
২০২৭ ভোটের আগে দলীয় রাজনীতিতে উত্তাপ
গোরক্ষপুরের এই ঘটনা এমন সময়ে ঘটল, যখন ২০২৭ সালের উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক তৎপরতা বাড়ছে। গোরক্ষপুর গ্রামীণ আসন থেকেও সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে টিকিট পাওয়ার প্রতিযোগিতা রয়েছে। প্রেস বৈঠকে বসার জায়গা নিয়ে শুরু হওয়া বিতর্ক প্রকাশ্য হাতাহাতিতে পরিণত হওয়ায় এখন বিষয়টি দলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে এই ঘটনায় সমাজবাদী পার্টির শীর্ষ নেতৃত্ব কী পদক্ষেপ নেয়, তা এখনও স্পষ্ট নয়।