ইট বা রড না! মঙ্গল গ্রহে মানব বসতি স্থাপনের জন্য নতুন পদ্ধতি আবিষ্কার বিজ্ঞানীদের
Mars: লাল গ্রহে (মঙ্গলে) মানব বসতি স্থাপনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জটি ছিল বসবাসের উপযোগী আশ্রয়স্থল নির্মাণ করা। তবে বিজ্ঞানীরা এখন এর একটি বিস্ময়কর সমাধান খুঁজে…
Mars: লাল গ্রহে (মঙ্গলে) মানব বসতি স্থাপনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জটি ছিল বসবাসের উপযোগী আশ্রয়স্থল নির্মাণ করা। তবে বিজ্ঞানীরা এখন এর একটি বিস্ময়কর সমাধান খুঁজে পেয়েছেন। নতুন এক গবেষণা অনুযায়ী, বিশেষ প্রক্রিয়ায় প্রস্তুতকৃত ইস্ট, জিলেটিন এবং মঙ্গলের স্থানীয় বালি ব্যবহার করেই অত্যন্ত শক্তিশালী ও তেজস্ক্রিয়তা-প্রতিরোধী আশ্রয়স্থল তৈরি করা সম্ভব। এই বৈপ্লবিক জৈব-প্রযুক্তি খোদ বিজ্ঞানীদেরও বিস্মিত করেছে।
হংকংয়ের বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন যে, তাঁরা জিনগতভাবে পরিবর্তিত ইস্ট, জিলেটিন এবং বালু ব্যবহার করে সাশ্রয়ী ও দ্রুত উৎপাদনযোগ্য এক ধরনের ‘জীবন্ত’ নির্মাণসামগ্রী তৈরি করেছেন। মঙ্গল গ্রহের মতো পরিবেশেও এটি থ্রি-ডি প্রিন্টিং প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি করা সম্ভব। গত মাসে আন্তর্জাতিক জার্নাল ‘সেল প্রেস’-এর প্রকাশনা ‘কেম সার্কুলারিটি’-তে এই গবেষণাটি অনলাইনে প্রকাশিত হয়েছে; এতে এমন এক জৈব বাইন্ডার বা আঠালো উপাদানের কথা বলা হয়েছে যা দানাদার পদার্থগুলোকে একত্রে ধরে রাখে।
আর ১,০০০ ডিগ্রি তাপমাত্রা কিংবা ভারী যন্ত্রপাতির প্রয়োজন নেই
বিজ্ঞানীরা তাঁদের গবেষণাপত্রে উল্লেখ করেছেন যে, পৃথিবীতে বাড়িঘর তৈরির জন্য কংক্রিট ও ভারী যন্ত্রপাতির প্রয়োজন হয় – এমন সব উপকরণ ও সরঞ্জাম যা মঙ্গল গ্রহে নিয়ে যাওয়া প্রায় অসম্ভব। তাছাড়া, প্রচলিত পদ্ধতিতে পাথর বা খনিজ পদার্থকে ১,০০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় উত্তপ্ত করতে হয় – এমন একটি প্রক্রিয়া যাতে প্রচুর শক্তির প্রয়োজন হয়। হংকং ইউনিভার্সিটি অফ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির অধ্যাপক কিউ জিশেন এবং তাঁর দল প্রকৌশল-নিয়ন্ত্রিত ইস্ট, জিলেটিন এবং মঙ্গল গ্রহের স্থানীয় বালির সমন্বয়ে এই সমস্যার একটি সমাধান খুঁজে বের করেছেন।