‘ভবানীপুর ছাড়লে ফের উনি প্রার্থী হতেন’, ব্যাখ্যা শুভেন্দুর
এই সময়: এ বারের বিধানসভা ভোটে জোড়া কেন্দ্র থেকে জিতেছেন শুভেন্দু অধিকারী— কলকাতার ভবানীপুর এবং পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম। দুইয়ের মধ্যে তিনি ছেড়েছেন নন্দীগ্রাম, যা নিয়ে সেখানকার ভোটারদের একাংশের মধ্যে হয়তো চাপা অভিমানও আছে। সেটা বিলক্ষণ জানেন মুখ্যমন্ত্রী। শুক্রবার নন্দীগ্রামে উপনির্বাচনের প্রচারে এসে নন্দীগ্রামের ‘অভিমান’ দূর করতে শুভেন্দু ব্যাখ্যা করলেন, কেন তিনি ভবানীপুর রেখে নন্দীগ্রাম ছাড়লেন। নন্দীগ্রামের ভোটারদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা, ‘কোনও অভিমান রাখবেন না। নন্দীগ্রাম আমার ভদ্রাসন।’ এরপরে সরাসরি কারও নাম উল্লেখ না–করে শুভেন্দুর সংযোজন, ‘তবে আমি ভবানীপুর ছেড়ে দিলে যাঁকে মানুষ বিতাড়িত করেছেন, তিনি আবার দাঁড়ানোর সুযোগ পেয়ে যেতেন।’
২০২১–এ বিধানসভা ভোটে শুভেন্দুর খাসতালুক নন্দীগ্রামে টক্কর নিতে এসেছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁকে ১,৯৫৬ ভোটে পরাজিত করেছিলেন শুভেন্দু। ২০২৬–এর বিধানসভা ভোটে নন্দীগ্রামে আর লড়তে যাননি মমতা। তিনি নিজের খাসতালুক দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুর থেকেই ভোটে লড়েছিলেন। শুভেন্দু এ বার তাঁকে ভবানীপুর এসেই হারিয়ে গিয়েছেন। জিতেছেন নন্দীগ্রাম থেকেও। নিয়ম অনুযায়ী একটি আসন ছাড়তেই হতো তাঁকে। তিনি নন্দীগ্রাম কেন্দ্রটি ছাড়ায় আগামী ৬ অক্টোবর সেখানে উপনির্বাচন হতে চলেছে। নন্দীগ্রামে এ বার বিজেপির টিকিটে লড়ছেন শুভেন্দুর নিহত আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথের মা হাসিরানি রথ।
শুক্রবার নন্দীগ্রামে ভোট প্রচারে গিয়ে শুভেন্দু বার্তা দেন, তিনি আর ওই এলাকার বিধায়ক না–থাকলেও নন্দীগ্রামের প্রতি তাঁর দায়বদ্ধতা আগের মতোই অটুট থাকবে। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, আগের থেকে তিনি তিনগুণ বেশি সক্রিয় থাকবেন নন্দীগ্রামে। ওই এলাকার ভোটারদের উদ্দেশে শুভেন্দু এ দিন বলেন, ‘আপনারা আমার কাছে জানতে চান, আগামী ৫৫ মাস আপনারা আমাকে আগের মতো পাবেন কি না। তার উত্তর দিতেই আজ আমি নন্দীগ্রামে এসেছি।’ এরপরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘হাসিরানি দিদিমণি অবশ্য যোগ্য বিধায়ক থাকবেন। শুধু খুন হয়ে যাওয়া চন্দ্রর মা নন, তিনি অতীতে পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ ছিলেন। তিনি আপনাদের বাড়তি সাহায্য করবেন। কিন্তু আমি যা করতাম, তার থেকেও তিনগুণ বেশি সহযোগিতা করব। এই কথা দিতেই এখানে এসেছি।’ শুভেন্দুর দাবি, ‘আগামী ৫৫ মাস অনেক লম্বা সময়। ততদিন সময় নেব না। এক বছরের মধ্যে অধিকাংশ কাজই করে দেবো।’
বহু যুগ ধরেই শুভেন্দু নন্দীগ্রামের ঘরের ছেলে। ২০২১–এ তিনি নন্দীগ্রামের বিধায়ক হওয়ার পর সেই যোগসূত্র আরও নিবিড় হয়েছিল স্বাভাবিক কারণেই। শুভেন্দু এখন মুখ্যমন্ত্রী। গোটা বাংলার দায়িত্ব তাঁর কাঁধে। ফলে আগের মতো নন্দীগ্রামে সময় দিতে পারবেন কি না, তা নিয়ে কিছুটা সংশয় তৈরি হয়েছিল। সেই সংশয়ে জল ঢেলে শুভেন্দু এ দিন নন্দীগ্রামের নির্বাচনী সভা থেকে বলেন, ‘এখানে আমার একটা কার্যালয়েও বন্ধ হবে না। যেমন চলছে, তেমনই চলবে।’ তাঁর সংযোজন, ‘প্রতি বছর ৭ জানুয়ারি ভাঙাবেড়ায় মালা দিতে যেমন আসি, এ বারও আসব। ১৪ মার্চ গোকুলনগর অধিকারী পাড়ায় যেমন আসি, তেমনই আসব। ১০ নভেম্বর মহেশপুর গড়পল্লিতে প্রতি বছর আসি, এ বারও আসব।’ মুখ্যমন্ত্রীর জানান, অন্যান্য বছরের মতো এ বছরও তিনি দুর্গাপুজোর সময়ে নন্দীগ্রামে আসবেন। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ‘আপনাদের শুভেন্দু গতকাল যেমন ছিল, আজও তাই আছে, আগামিকালও তাই থাকবে।’
নন্দীগ্রামের ভোটারদের সঙ্গে সেই নিবিড় সম্পর্কের অধিকার থেকে শুভেন্দু এ দিন কিছু দাবিও করেছেন এলাকার সাধারণ মানুষের কাছে। তিনি বলেন, ‘বড় মার্জিন দেবেন তো আমাকে? ছিন্নমূলের এক জনেরও যেন জামানত না থাকে।’
২০২১ এবং ২০২৬–এর বিধানসভা ভোটের ফলাফল বিশ্লেষণ করলেই দেখা যাবে নন্দীগ্রামের সংখ্যালঘুরা বিজেপিকে ভোট দেননি। এ বার নাম না–করেই সংখ্যালঘু ভোটারদের কাছে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান মুখ্যমন্ত্রী। নন্দীগ্রামের সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকার ভোটারদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা, ‘এই তো সুযোগ বন্ধুত্ব করার। সাতেঙ্গাবাড়ি, সুবদি, কমলপুরের ভোটাররা এর থেকে ভালো সুযোগ পাবেন না। আমি সবার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবেই কাজ করতে চাই।’