বাসুদেবকে পথ ছেড়েছেন মহারাজা - 24 Ghanta Bangla News
Home

বাসুদেবকে পথ ছেড়েছেন মহারাজা

Spread the love

সঞ্জয় দে, দুর্গাপুর : স্বপ্নাদেশ পেয়ে বাড়িতে দুর্গাপুজো শুরু করেছিলেন বুদবুদ থানার সোঁয়াই গ্রামের বাসিন্দা বাসুদেব মুখোপাধ্যায়। তাঁর আদি বাড়ি ছিল বাকলসার কাছে ফরিদপুরে। সেখানে নিয়মিত পুজো হতো না দুর্গার। বাসুদেব স্বপ্নাদেশ পান পুজো শুরু করার। এর পরেই বাসুদেব তিন ছেলে ও পরিবারের অন্য সদস্যদের নিয়ে ফরিদপুর থেকে এসে ওঠেন সোঁয়াই গ্রামে। সঙ্গে ছিল দুর্গার কাঠামো। সেই থেকে এই গ্রামে মুখোপাধ্যায় বাড়িতে দুর্গাপুজোর সূচনা।

স্থানীয়রা সেই পুজো নিয়ে শোনান আরও কাহিনি। দুর্গার কাঠামো নিয়ে আসার সময়ে রাস্তায় তাঁর সঙ্গে দেখা হয়েছিল বর্ধমানের মহারাজার সঙ্গে। বাসুদেবের পরিবারের সদস্যরা কাঁধে করে নিয়ে আসছিলেন দুর্গার কাঠামো। সেই দৃশ্য দেখে মুখোপাধ্যায় পরিবারের সদস্যদের রাস্তা থেকে সরে দাঁড়ানোর নির্দেশ দেন মহারাজার বরকন্দাজরা। কিন্তু তা মানেননি বাসুদেব। এই নিয়ে দু’পক্ষে শুরু হয় বচসা। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে স্বয়ং মহারাজা সেখানে আসেন এবং নিজেই রাস্তা থেকে সরে দাঁড়ান। পরে তিনি বাসুদেবকে প্রচুর সম্পত্তিও দান করেন, যাতে পুজো ধুমধাম করে পালিত হয়।

এখনও পুজোর সময়ে বলির রীতি রয়েছে। নবমীর সন্ধ্যায় মুখোপাধ্যায় পরিবারের সদস্যরা বাজনা বাজিয়ে গ্রাম পরিক্রমা করেন। তাতে যোগ দেন স্থানীয়রাও। ষোড়শোপচারে পুজো হয়। ছ’বস্তা আতপ চালের মহারাস নৈবেদ্য সহযোগে সন্ধিপুজো হয়। আতপ চালের সঙ্গে সম পরিমাণ থাকে ফল। থাকে বড় আকারের কদমা, বাতাসা। পুজোর দিনগুলিতে হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। মুখোপাধ্যায় পরিবারের এক সদস্য নিগমপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় বলছিলেন, ‘এই বাড়ির পুজো ৩৩৪ বছর পুরোনো। নামেই বাড়ির পুজো, পুরো গ্রাম অংশ নেয়। পরিবারের অনেকেই কর্মসূত্রে বাইরে থাকেন, তবে ষষ্ঠীর সকালে সবাই এখানে চলে আসেন।’

তিনিই জানালেন, আগে পুজো হতো সাধারণ আটচালায়। তার সংস্কার করে তৈরি হয়েছে মন্দির। এ বার পুজো হবে সেই নতুন মন্দিরে। দশমীতে পারিবারিক পুকুরে বিসর্জনের পরে জল থেকে কাঠামো তুলে এনে রেখে দেওয়া হয়। পরের বছর সেই কাঠামোতেই তৈরি হয় প্রতিমা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *