অপেক্ষাই সার! পলিথিনে ঢাকা পড়বেন জ়ুবিন গর্গ?
এই সময়: জ়ুবিন গর্গ একদম রেডি। গিটারের কিছু কাজ বাকি। সেটা হলেই জ়ুবিনের হাতে গিটার তুলে দেবেন শুভেন্দু মণ্ডল। কিন্তু যাঁরা জ়ুবিনের মূর্তি গড়ার বরাত দিয়েছিলেন, তাঁদেরই খোঁজ নেই। তাই ভাস্করের হাত–পা বাঁধা। কী করবেন বুঝে উঠতে পারছেন না। অগত্যা শিল্পীর স্টুডিয়োতেই ঠাঁই হয়েছে জ়ুবিনের মূর্তির।
২০২৫–এ সিঙ্গাপুরে মারা যান জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী জ়ুবিন গর্গ। এর তিন মাস পরে শুভেন্দুর সঙ্গে যোগোযোগ করে কোচবিহার পুরসভা। পুরসভা কর্তৃপক্ষ একজন ভালো ভাস্করের খোঁজে ছিলেন। একসময়ে কোচবিহার রাজ পরিবারের প্রয়াত দুই রাজার মূর্তি গড়েছিলেন গড়িয়ার শুভেন্দু। সেই সূত্রেই শুভেন্দুর সঙ্গে যোগাযোগ করে কোচবিহার পুরসভা। তাঁকে জ়ুবিনের মূর্তি গড়ার বরাত দেওয়া হয়। কোচবিহার পুরসভার পরিকল্পনা ছিল, জ়ুবিনের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে শহরে গায়কের একটি মূর্তি প্রতিষ্ঠা করা হবে। অগস্টে মূর্তিটি কোচবিহারে নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল। তার আগেই রাজ্য পালাবদল ঘটে যায়। পাল্টে যায় সব হিসেব। শুভেন্দুর কথায়, ‘জ়ুবিনের মূর্তি নেওয়ার ব্যাপারে আর কোনও আগ্রহই দেখায়নি পুরসভা।’ অথচ এই মূর্তি তৈরির জন্য দু’লক্ষ টাকা দেওয়ার কথা ছিল। শুভেন্দু কানাকড়িও পাননি।
প্রায় আট ফুটের ফাইবারের মূর্তিটি এখন দাঁড়িয়ে রয়েছে গড়িয়া স্টেশন সংলগ্ন গঙ্গাজোয়ারার নতুন দিয়ারার স্টুডিয়োতে। সেই স্টুডিয়োয় গিয়ে দেখা গেল বিভিন্ন মূর্তি গড়ার কাজ চলছে। শুভেন্দু জানালেন, কাজ শেষ হলেই যাঁরা বরাত দিয়েছেন, তাঁদের কাছে মূর্তি পাঠিয়ে দেওয়া হবে। কিন্তু জ়ুবিন? শুভেন্দু একটি গিটার বার করে জ়ুবিনের মূর্তির হাতে বসিয়ে দেন। তারপরে অসমাপ্ত গিটারটি দেখিয়ে বলেন, ‘এখনই ফিনিশিং টাচ দেওয়ার ঝুঁকি নিতে পারছি না।’
তিনি জানান, কোচবিহার পুরসভার এক কর্তা তাঁকে জানিয়েছেন, নতুন পুরবোর্ড না হওয়া পর্যন্ত মূর্তি নিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না। কিন্তু নতুন বোর্ড যদি মূর্তির ব্যাপারে আগ্রহ না দেখায়? শুভেন্দুর জবাব , ‘আমি যে ভাবেই হোক মূর্তিটি কোচবিহারে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছি। তারপরেও যদি কোনও পথ না পাই, তা হলে আমার স্টুডিয়োতে অতি যত্নে পলিথিনে মুড়ে রেখে দেবো।’