SRFTI-তে বয়কটে অনড় পড়ুয়ারা, সমর্থনে সরব নন্দিতারা
এই সময়: ঘটনার চার দিন পরে পড়ুয়াদের দাবি মেনে ভিসি প্রেস বিবৃতি জারি করলেও তাতে কাজ হলো না। অ্যাকাডেমিক বয়কট চলবে বলে সাফ জানালেন সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট (এসআরএফটিআই)-এর পড়ুয়ারা।
এসআরএফটিআইয়ে গোলমালের ঘটনার তদন্তে কলকাতা পুলিশের তৈরি স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম (সিট) বৃহস্পতিবার রিপোর্ট জমা দিয়েছে। লালবাজার সূত্রে খবর, ছ’পাতার ওই রিপোর্টে ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে। রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, কী ভাবে ঘটনার সূত্রপাত, কারা এই অশান্তির সঙ্গে যুক্ত? গোলমালের সময়ে ও পরে পুলিশের ভূমিকা কী ছিল এবং পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর–সহ বিস্তারিত তথ্য রিপোর্টে জানানো হয়েছে।
সিটের সদস্যরা ইতিমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তদন্তকারীরা সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে দু’পক্ষের ২৫০ জনকে চিহ্নিত করেছে। এই ঘটনায় ২৩ জনের বয়ান রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আরএসএস–র শাখা সংগঠন এবিজিপি–র তিনজন প্রতিনিধি, ১০ জন শিক্ষক–শিক্ষিকা এবং ১০ জন ছাত্রছাত্রী।
অ্যাকাডেমিক বয়কট প্রসঙ্গে ছাত্র সংসদের এক সদস্য বলেন, ‘আমরা চেয়েছিলাম পড়ুয়াদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে ভিসি একটি প্রেস রিলিজ় প্রকাশ করুন। আমরা তাঁকে স্পষ্ট জানিয়েছিলাম, ওই বিবৃতি না আসা পর্যন্ত ক্লাস বন্ধ থাকবে। সেই অনুযায়ী বৃহস্পতিবার ভিসি একটি প্রেস রিলিজ় দিয়েছেন ঠিকই, কিন্তু আমাদের মনে হয়েছে সেটি অত্যন্ত দায়সারা এবং সেখানে কারও কোনও দায়বদ্ধতার কথা উল্লেখ নেই। তাই অ্যাকাডেমিক বয়কট চলবে।’পড়ুয়াদের এই ক্ষোভের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বৃহস্পতিবার তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রকের তরফ থেকে প্রকাশিত একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি। যেখানে গত ২৭ সেপ্টেম্বরের ক্যাম্পাসে এবিজিপির সঙ্গে পড়ুয়াদের একাংশের সংঘর্ষের ঘটনার পরে ক্যাম্পাসের বর্তমান পরিস্থিতিকে স্বাভাবিক বলে দাবি করা হয়েছে। ওই বিজ্ঞপ্তিতে এসআরএফটিআই-এর ভাইস-চ্যান্সেলর সন্তোষ আজমেরা জানিয়েছেন যে, ২৭ তারিখের ঘটনাটি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে কোনও ধরনের হিংসার কোনও যৌক্তিকতা থাকতে পারে না।
তিনি জানিয়েছেন যে শিক্ষার্থীরাই এই প্রতিষ্ঠানের প্রাণকেন্দ্র এবং তাঁদের নিরাপত্তা, মর্যাদা, সুস্থতা ও মসৃণ শিক্ষাজীবন নিশ্চিত করাই কর্তৃপক্ষের প্রধান অগ্রাধিকার। তিনি সংশ্লিষ্ট সকলকে যাচাই না করা তথ্য, ভিডিয়ো বা জল্পনার উপরে ভিত্তি করে অহেতুক আতঙ্ক ছড়ানো থেকে বিরত থাকতে এবং সংযম বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি আরও জানিয়েছেন, এখন কর্তৃপক্ষের মূল লক্ষ্য হলো একটি নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পড়ুয়াদের পুনরায় ক্লাস ও সৃজনশীল কাজে ফিরিয়ে আনা। এই লক্ষ্যে এসআরএফটিআই সোসাইটির সভাপতি, রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকার, শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং কর্মীদের সহযোগিতার জন্য ভাইস-চ্যান্সেলর কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেছেন। তবে কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে এই শান্তির বার্তা দেওয়া হলেও, পড়ুয়ারা মনে করছেন এই বিবৃতিতে ঘটনার প্রকৃত দায়বদ্ধতা এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে।
এ দিকে, এসআরএফটিআইয়ে বহিরাগতদের আক্রমণ ও হিংসার প্রতিবাদে সরব হয়েছেন ২৫৭ জন চলচ্চিত্র নির্মাতা, অভিনেতা–অভিনেত্রী এবং কলাকুশলী। তাঁরা এসআরএফটিআই ক্যাম্পাসে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, পড়ুয়াদের নিরাপত্তা এবং ক্যাম্পাসে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার দাবিতে বিবৃতিও দিয়েছেন। এই তালিকায় রয়েছেন নন্দিতা দাস, আনন্দ পটবর্ধন, দিবাকর বন্দ্যোপাধ্যায়, পায়েল কাপাডিয়া, রিমা দাস, সুধীর মিশ্র-সহ একাধিক পরিচিত নাম। চলচ্চিত্র ও শিল্প জগতের সঙ্গে যুক্তরা ক্যাম্পাসে ২৭ সেপ্টেম্বরের হিংসার ঘটনায় সরব হয়ে ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত, পড়ুয়া ও শিক্ষকদের নিরাপত্তা এবং ক্যাম্পাসে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার দাবি তুলেছেন।