ফ্লাইদুবাই বিমানে ককপিট হামলা, ওমানি সহ-পাইলটকে আমিরশাহির হাতে দিল সৌদি - 24 Ghanta Bangla News
Home

ফ্লাইদুবাই বিমানে ককপিট হামলা, ওমানি সহ-পাইলটকে আমিরশাহির হাতে দিল সৌদি

Spread the love

ফ্লাইদুবাইয়ের (Flydubai) তেল আভিভগামী একটি বিমানের ককপিটে সহ-পাইলটের হামলার ঘটনায় তদন্ত আরও জোরদার হয়েছে। সৌদি আরবে জরুরি অবতরণের পর ওমানের নাগরিক হিসেবে চিহ্নিত ওই সহ-পাইলটকে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। এখন ঘটনার মূল কারণ, হামলার উদ্দেশ্য এবং এটি কোনও সন্ত্রাসবাদী পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে আমিরশাহি কর্তৃপক্ষ।

ঘটনাটি ঘটে ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড১০৭৩ বিমানে। দুবাই থেকে তেল আভিভের উদ্দেশে যাত্রা করা বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স ৮ বিমানটি মাঝআকাশে গুরুতর নিরাপত্তা সংকটে পড়ে। ককপিটে ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরের উপর সহ-পাইলট হামলা করেন বলে তদন্তকারী সূত্রের দাবি। পরে বিমানটি সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করে।

আমিরশাহির হাতে তদন্তের দায়িত্ব

প্রাথমিকভাবে সৌদি আরবের কর্তৃপক্ষ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছিল। তাবুকে বিমানটি অবতরণের পর সৌদি ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্ট সেফটি সেন্টারও নিরাপত্তা তদন্ত শুরু করে। তবে বিমানটি সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে নিবন্ধিত হওয়ায় এবং উড্ডয়নের সময় আমিরশাহির আইন প্রযোজ্য হওয়ায় এখন ইউএই কর্তৃপক্ষ মূল তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

আমিরশাহির অ্যাটর্নি জেনারেল তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। তদন্তে বিশেষভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে, ঘটনাটি কোনও সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ বা পূর্বপরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত ছিল কি না। একই সঙ্গে ইজরায়েলি কর্তৃপক্ষও তদন্তে অংশ নিচ্ছে।

তবে এখনও পর্যন্ত ঘটনার চূড়ান্ত উদ্দেশ্য আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি। বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষও তদন্ত শেষ হওয়ার আগে অনুমান বা অসমর্থিত তথ্য ছড়ানো থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে।

সহ-পাইলটের উদ্দেশ্য নিয়ে একাধিক দাবি

ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, প্রাথমিক তদন্তে সহ-পাইলটের মধ্যে ইসলামপন্থী উগ্র মতাদর্শের প্রভাব এবং বিমানটি ভেঙে ফেলার সম্ভাব্য উদ্দেশ্যের ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছে। তিনি আরও দাবি করেছেন, ককপিটের সংঘর্ষের সময় সহ-পাইলট ক্রুদের তাকে হত্যা করতে বলছিলেন। তবে এগুলি নেতানিয়াহুর বক্তব্য এবং তদন্তের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়। তদন্তকারীরা এখনও বিভিন্ন সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছেন।

একই সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও সহ-পাইলটের সঙ্গে ইরানের কোনও যোগ থাকতে পারে কি না, সেই সম্ভাবনা নিয়ে মন্তব্য করেছেন। তবে তিনি এর পক্ষে কোনও প্রমাণ প্রকাশ করেননি। নেতানিয়াহুও ইরানের সংশ্লিষ্টতা নিয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার কথা জানিয়েছেন। ফলে এই মুহূর্তে ইরানের সঙ্গে কোনও যোগসূত্র প্রমাণিত নয়।

মাঝআকাশে কী ঘটেছিল?

৩০ সেপ্টেম্বর ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড১০৭৩ দুবাই থেকে তেল আভিভের উদ্দেশে উড়ছিল। বিমানে ১৮২ জন ছিলেন বলে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে। অন্য কয়েকটি প্রতিবেদনে যাত্রী ও ক্রু মিলিয়ে ভিন্ন সংখ্যা উল্লেখ করা হয়েছে।

উড্ডয়নের পর ককপিটে সহ-পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরের উপর হামলা করেন বলে তদন্ত-সংশ্লিষ্ট তথ্য সামনে এসেছে। মচ্ছর আহত অবস্থাতেও ককপিটের দরজা খোলার সুযোগ তৈরি করেন। এরপর যাত্রী এবং ক্রুরা ককপিটে ঢুকে সহ-পাইলটকে নিয়ন্ত্রণে আনতে সাহায্য করেন। বিমানে থাকা আরও পাইলটরাও পরে বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নিতে সহায়তা করেন।

ঘটনার সময় বিমানটি দ্রুত উচ্চতা হারায়। বিভিন্ন ফ্লাইট-ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, বিমানটি প্রায় ৩৩,০০০ ফুট থেকে ১৭,০০০ ফুটে নেমে যায়। অন্য একটি প্রতিবেদনে আরও দ্রুত উচ্চতা পতনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর বিমানটির গতিপথ অস্বাভাবিক হয়ে পড়লে সেটিকে তাবুকের দিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়।

ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছর চিকিৎসাধীন

হামলায় আহত ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরকে সৌদি আরবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে, তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল ছিল। পরে তাঁর অস্ত্রোপচার হয়েছে বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

এই ঘটনার পর যাত্রীদের সহায়তায় বিমানটি নিরাপদে তাবুকে অবতরণ করতে সক্ষম হয়। ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রীসহ বিভিন্ন দেশের নেতারা ক্যাপ্টেন মচ্ছরের ভূমিকার প্রশংসা করেছেন। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ককপিটে ঠিক কীভাবে সংঘর্ষ শুরু হয়েছিল এবং সহ-পাইলটের চূড়ান্ত উদ্দেশ্য কী ছিল, সে বিষয়ে আরও তথ্যের অপেক্ষা রয়েছে।

তদন্তে এখন কোন বিষয়গুলি গুরুত্বপূর্ণ?

বর্তমানে তদন্তকারীদের সামনে মূলত কয়েকটি প্রশ্ন রয়েছে। সহ-পাইলট কেন ক্যাপ্টেনের উপর হামলা করেছিলেন, তিনি বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন কি না, ঘটনার আগে কোনও পূর্বপরিকল্পনা ছিল কি না এবং এর সঙ্গে কোনও সন্ত্রাসবাদী সংগঠন বা বিদেশি শক্তির যোগাযোগ ছিল কি না, সেগুলি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এছাড়া সহ-পাইলট কীভাবে বিমান চালানোর দায়িত্ব পেয়েছিলেন এবং তাঁর ব্যাকগ্রাউন্ড সম্পর্কে বিমান সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে কী তথ্য ছিল, সেটিও তদন্তের অংশ হতে পারে।

এই মুহূর্তে তদন্ত চলছে এবং কোনও চূড়ান্ত উদ্দেশ্য বা সন্ত্রাসবাদী যোগসূত্র আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। তাই পরবর্তী তদন্ত প্রতিবেদনই ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য দেবে।

Essential Business Intelligence, Sharp Market Insights, Practical Personal Finance Advice, Daily Fuel, Gold and Silver Prices and Latest Stories – On Kolkata24x7 Business.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *