প্রেম করে বিয়ে, বছর ঘোরার আগেই রহস্যমৃত্যু ২ তরুণীর - 24 Ghanta Bangla News
Home

প্রেম করে বিয়ে, বছর ঘোরার আগেই রহস্যমৃত্যু ২ তরুণীর

Spread the love

এই সময়, বারাসত: শহরের দুই প্রান্তে দুই গৃহবধূর রহস্যমৃত্যু হলো বুধবার। দু’টি ক্ষেত্রেই মৃতার পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে মোট চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে বারাসত থানার পুলিশ। প্রথম ঘটনাটি ঘটে বারাসাতের শালবাগানে। পরিবারের অমতে প্রেম করে মাত্র তিন মাস আগে বারাসতের শালবাগানের বাসিন্দা প্রসেনজিৎ বসুকে বিয়ে করেন দমদমের রিয়া দেবনাথ। প্রথমে পাত্র পছন্দ ছিল না রিয়ার বাপের বাড়ির লোকজনদের। কিন্তু মা-বাবার মতের বিরুদ্ধে গিয়ে প্রেমিকের গলাতেই মালা দেন রিয়া। মঙ্গলবার রাতে শালবাগানের শ্বশুরবাড়ি থেকেই রিয়ার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

দমদমের বাসিন্দা রিয়া একটি বেসরকারি সংস্থায় চাকরি করতেন। সেই সূত্রেই তাঁর সঙ্গে আলাপ হয় প্রসেনজিতের। রিয়ার পরিবারের দাবি, বিয়ের পরেই প্রসেনজিতের আগের দু’টি বিয়ের কথা জানতে পারেন রিয়া। তার পর থেকেই শুরু হয় দাম্পত্য অশান্তি। মদ্যপ অবস্থায় রিয়াকে মারধরের অভিযোগও উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার রাতে সেই অশান্তি চরমে ওঠে। অশান্তির কথা জেনে দমদম থেকে রিয়ার মা-বাবা ও পরিবারের লোকজন চলে আসেন বারাসতের শালবাগানে। কিন্তু শ্বশুরবাড়িতে এসে দেখতে পান গলায় ওড়নার ফাঁস লাগিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় রয়েছেন রিয়া। বারাসত থানার পুলিশ দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে। তবে, বারাসত হাসপাতালের পরিবর্তে আরজি কর হাসপাতালে ময়নাতদন্ত করানোর দাবি জানান মৃতার মা।

এ দিনই বারাসত থানায় মৃতার স্বামী প্রসেনজিৎ বসুর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন রিয়ার পরিবারের লোকজন। অভিযোগের ভিত্তিতে প্রসেনজিৎকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মৃতার মা সোনালি দেবনাথ বলেন, ‘প্রসেনজিৎ আগে দুটো বিয়ে করেছিল। একজন মারা গেছে। দ্বিতীয় পক্ষে একটি ছেলেও আছে। সে কথা গোপন রেখে মেয়েকে বিয়ে করে। দু’মাস আগে মেয়ে জানতে পারার পর অশান্তি শুরু হয়। মেয়েকে খুন করে ঝুলিয়ে দিয়েছে ওরা।’

অন্যদিকে, বারাসতের বাদুর গুস্তিয়ার বাসিন্দা সৌম্যদীপ সেনগুপ্তর সঙ্গে প্রেম করে চলতি বছরেরই জানুয়ারি মাসে বিয়ে হয় অর্ণবী চট্টোপাধ্যায়ের। অভিযোগ, বিয়ের কয়েক মাস পর থেকেই বাপের বাড়ি থেকে অতিরিক্ত টাকা আনার জন্য স্বামী ও শ্বশুর-শাশুড়ি অর্ণবীকে চাপ দিতেন। দাবি মতো টাকা আনতে রাজি না হওয়ায় শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাঁর উপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাতেন বলেও অভিযোগ। এর জেরে কয়েকদিন আগে বাপের বাড়িতে চলে এসেছিলেন এসএফআই কর্মী অর্ণবী। তাঁর বাবা মারা গিয়েছেন। মায়ের সঙ্গে থাকতেন ওই তরুণী।

সংসার করার কথা ভেবে মঙ্গলবার রাতে ফের অর্ণবী শশুরবাড়িতে গেলে স্বামী ও শ্বশুর-শাশুড়ি তাঁকে অপমান ও হেনস্থা করেন। তাঁর সঙ্গে সংসার করবেন না বলেও জানিয়ে দেন সৌম্যদীপ। অপমানিত হয়ে অর্ণবী ফিরে আসেন বাপের বাড়িতে। বাড়িতে তখন তাঁর মা ছিলেন না। সেখানেই আত্মঘাতী হন ওই তরুণী।

মঙ্গলবার রাতে অর্ণবীর মা কাকলি চট্টোপাধ্যায় বারাসত থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তাঁর দাবি, অতিরিক্ত টাকার দাবিতে পারিবারিক অশান্তির জেরে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে মেয়ে। পুলিশ আত্মহত্যার প্ররোচনা ও পণের দাবিতে মানসিক অত্যাচারের ধারায় মামলা রুজু করেছে। স্বামী সৌম্যদীপ সেনগুপ্ত, শ্বশুর সমীর সেনগুপ্ত এবং শাশুড়ি মিতা সেনগুপ্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *