Hooghly flood situation: পানীয় জলের সংকট, নৌকাই এখন ভরসা, অথৈ জলে গোঘাট-খানাকুলের বাসিন্দারা | Goghat and Khanakul Remain Waterlogged Ahead of Durga Puja
বন্যায় বিপর্যস্ত গোঘাট ও খানাকুলImage Credit: TV9 Bangla
গোঘাট: দুর্গাপূজার আগে খানাকুল ও গোঘাটের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ। বিস্তীর্ণ এলাকা এখনও জলমগ্ন। খানাকুলের প্লাবিত এলাকায় ঢুকছে জোয়ারের জল। গোঘাটেও জল কমার কোনও লক্ষণ নেই। তবে বন্যার অবস্থা স্থিতিশীল। পুজোর মুখে পানীয় জল, খাবার ও ত্রাণের সংকটে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। গোঘাটের বিধায়ক প্রশান্ত দিগার ইতিমধ্যে গোঘাটের বন্যা কবলিত এলাকায় হাঁটু জল পেরিয়ে দুর্গতদের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং ত্রাণ সামগ্রী, ত্রিপল দিয়েছেন।
খানাকুলের বিধায়ক সুশান্ত ঘোষের তথ্য অনুযায়ী, খানাকুলের প্রায় ৫০ শতাংশ এলাকা জলমগ্ন। শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হওয়ায় প্রায় এক লক্ষ মানুষ জলবন্দি অবস্থায় রয়েছেন। ছোট রাস্তা ডুবে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত। যাতায়াতের ভরসা এখন নৌকা। সমস্যায় পড়েছেন পরীক্ষার্থী থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী সংগ্রহ করতে যাওয়া মানুষজনও। পানীয় জলের তীব্র সংকটের পাশাপাশি গবাদি পশুদের নিয়েও বিপাকে বাসিন্দারা। জলমগ্ন এলাকায় বেড়েছে বিষধর সাপের উপদ্রব।
এই পরিস্থিতিতে দুর্গতদের কাছে রান্না করা খাবার, শুকনো খাবার, চাল, ডাল, শিশুখাদ্য ও পানীয় জল পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন স্থানীয় বিধায়করা। ছোট ডিঙি নৌকার সাহায্যে দুর্গম এলাকায় ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি, মেডিক্যাল ক্যাম্প চালু রাখার বিষয়েও স্বাস্থ্য আধিকারিকদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে জানিয়েছেন বিধায়ক।
অন্যদিকে, বহু এলাকায় পর্যাপ্ত ত্রাণ ও পানীয় জলের ব্যবস্থা না হওয়ার অভিযোগ তুলেছেন বাসিন্দারা। দুর্গাপূজার আগে পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, পুজো পেরিয়েও পুরোপুরি বন্যার জল নামতে দেরি হতে পারে।
কী বলছেন গোঘাটের বিজেপি বিধায়ক?
গোঘাটের বিধায়ক প্রশান্ত দিগার বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে বিগত তৃণমূল সরকারের দিকে তোপ দেগেছেন। তিনি বলেন “তৃণমূল কংগ্রেসের আমলে এই সমস্ত নদী, খালগুলো সংস্কারের নাম করে টাকাগুলো লুট করে নেওয়া হয়েছে। বিজেপির সরকারের নেতৃত্বে যে সরকার চলছে, এই সরকার নদী, খাল এবং বাঁধের সংস্কার করবে। এবং সঠিকভাবে যাতে আমরা পরিকল্পনা রূপায়ণ করতে পারি, ঘাটাল এবং আরামবাগের বিস্তীর্ণ যে এলাকা, এই এলাকাভিত্তিক মানুষকে যাতে বন্যার প্রকোপ থেকে কিছুটা নিস্তার দিতে পারি, তার জন্য পশ্চিমবঙ্গের নতুন সরকার পুরোপুরি কাজ করবে।”
হুগলির গোঘাট, খানাকুলের মতো প্লাবিত পশ্চিম মেদিনীপুরের ঘাটালও। খানাকুলের স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, “ঘাটালে জল কমলে গোঘাটের দিকের বন্যার জল বেরোবে ঘাটালের মনশুকা হয়ে। তবে খানাকুল থেকে পুরোপুরি জল নামতে এখনও দুই মাস সময় লাগবে।”