Maruti Dzire-কে টেক্কা Tata Aeris-এর, থাকছে ৫টি আধুনিক ফিচার - 24 Ghanta Bangla News
Home

Maruti Dzire-কে টেক্কা Tata Aeris-এর, থাকছে ৫টি আধুনিক ফিচার

Spread the love

কলকাতা: ভারতের কমপ্যাক্ট সেডান বাজারে নতুন টাটা অ্যারিস (Tata Aeris) নিয়ে এসেছে টাটা মোটরস। ৫.২৯ লক্ষ টাকা প্রাথমিক এক্স-শোরুম দামে লঞ্চ হওয়া এই গাড়িটিকে দেখলে…

কলকাতা: ভারতের কমপ্যাক্ট সেডান বাজারে নতুন টাটা অ্যারিস (Tata Aeris) নিয়ে এসেছে টাটা মোটরস। ৫.২৯ লক্ষ টাকা প্রাথমিক এক্স-শোরুম দামে লঞ্চ হওয়া এই গাড়িটিকে দেখলে প্রথমে বিদায়ী টাটা টিগরের আপডেটেড সংস্করণ বলে মনে হতে পারে। তবে ডিজাইন এবং কেবিনে একাধিক পরিবর্তনের পাশাপাশি অ্যারিসের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হয়ে উঠেছে এর ফিচারের তালিকা।

এই সেগমেন্টে দীর্ঘদিন ধরে অন্যতম জনপ্রিয় মডেল মারুতি সুজুকি ডিজায়ার। বিক্রির দিক থেকে ডিজায়ার এগিয়ে থাকলেও টাটা অ্যারিস এমন কিছু আধুনিক ফিচার নিয়ে এসেছে, যা ডিজায়ারে নেই। এমনকি এন্ট্রি-লেভেল সেডান সেগমেন্টেও এই ফিচারগুলির বেশ কয়েকটি এখনও বিরল।

ফলে টাটা অ্যারিসের মূল লক্ষ্য শুধুমাত্র বিক্রির সংখ্যায় ডিজায়ারের সঙ্গে সরাসরি প্রতিযোগিতা করা নয়। বরং কম দামের সেডানে আরও বেশি প্রযুক্তি, আরাম এবং সুবিধা দিতে চায় টাটা। দেখে নেওয়া যাক অ্যারিসের এমন পাঁচটি ফিচার।

ALSO READ – নয়া মাইলফলক মেক ইন ইন্ডিয়ায়! ২০৩০ র মধ্যেই ৩৫০ কিলোমিটার বেগে ছুটবে দেশীয় প্রযুক্তির ট্রেন

১. সেগমেন্টে প্রথম ভেন্টিলেটেড ফ্রন্ট সিট

টাটা অ্যারিসের অন্যতম বড় আকর্ষণ হল ভেন্টিলেটেড ফ্রন্ট সিট। এই ধরনের ফিচার সাধারণত বেশি দামের প্রিমিয়াম গাড়িতে দেখা যায়। অ্যারিসের ক্ষেত্রে এটি কমপ্যাক্ট সেডান সেগমেন্টে একটি উল্লেখযোগ্য সংযোজন। ফিচারটি পাওয়া যাবে টপ-স্পেক অ্যাকমপ্লিশড ভ্যারিয়েন্টে, যার দাম শুরু হচ্ছে ৮.১৯ লক্ষ টাকা এক্স-শোরুম থেকে। ভেন্টিলেশন ফিচারের সঙ্গে রয়েছে লেদারেট সিট আপহোলস্ট্রি। গরম আবহাওয়ায় দীর্ঘ সময় গাড়ি চালানো বা যাত্রার ক্ষেত্রে ভেন্টিলেটেড সিট বাড়তি আরাম দিতে পারে। বিশেষ করে ভারতের মতো উষ্ণ আবহাওয়ার বাজারে এই ফিচার ব্যবহারিক সুবিধাও দিতে পারে। মারুতি সুজুকি ডিজায়ারে এই সুবিধা পাওয়া যায় না।

২. ডুয়াল স্মার্টফোন ডেক ও ওয়্যারলেস চার্জিং

টাটা অ্যারিসে স্মার্টফোন ব্যবহারের সুবিধার দিকেও নজর দিয়েছে সংস্থা। গাড়িটির সেন্টার কনসোলে রয়েছে ডুয়াল স্মার্টফোন ডেক। এই ব্যবস্থায় একটি নির্দিষ্ট ফোন হোল্ডারের পাশাপাশি ওয়্যারলেস চার্জিং প্যাড রয়েছে। ফলে ফোন রাখার জায়গা এবং চার্জিংয়ের সুবিধা একই জায়গায় পাওয়া যায়। ফিচারটি টপ-স্পেক অ্যাকমপ্লিশড ভ্যারিয়েন্টে দেওয়া হয়েছে। মারুতি সুজুকি ডিজায়ারে এই ধরনের ডুয়াল স্মার্টফোন ডেক নেই। দৈনন্দিন ব্যবহারে এটি ছোট কিন্তু কার্যকর একটি সুবিধা হতে পারে। বিশেষ করে নেভিগেশনের সময় ফোন নির্দিষ্ট জায়গায় রেখে চার্জ করার সুযোগ পাওয়া যায়।

ALSO READ –  ভলভো কারসের নতুন সিইও ক্লাউস জেলমার, ২০২৭ থেকে দায়িত্ব নেবেন

৩. বিল্ট-ইন ইন্টিগ্রেটেড ড্যাশক্যাম

টাটা অ্যারিসে রয়েছে আরও একটি উল্লেখযোগ্য প্রযুক্তি, ইন্টিগ্রেটেড ড্যাশক্যাম রেকর্ডার। এটি গাড়ির সারাউন্ড-ভিউ ক্যামেরা সিস্টেম ব্যবহার করে সামনে, পিছনে এবং গাড়ির দুই পাশের ফুটেজ রেকর্ড করতে পারে। ফিচারটি টপ-স্পেক অ্যাকমপ্লিশড ভ্যারিয়েন্টে পাওয়া যায়। ফলে আলাদা করে আফটারমার্কেট ড্যাশক্যাম কেনা বা ইনস্টল করার প্রয়োজন হয় না। ড্রাইভিংয়ের সময় কোনও ঘটনা ঘটলে ভিডিও রেকর্ডিং অতিরিক্ত তথ্য হিসেবে কাজে আসতে পারে। পার্কিং বা গাড়ির আশপাশের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের ক্ষেত্রেও এই ধরনের ক্যামেরা ব্যবস্থা সুবিধা দিতে পারে। মারুতি সুজুকি ডিজায়ারে কারখানা থেকে দেওয়া ড্যাশক্যাম রেকর্ডিং সিস্টেম নেই।

৪. ৩৬০-ডিগ্রি ক্যামেরার সঙ্গে ব্লাইন্ড ভিউ মনিটর

পার্কিং এবং সরু জায়গায় গাড়ি চালানোর ক্ষেত্রে টাটা অ্যারিসের ৩৬০-ডিগ্রি ক্যামেরা অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ফিচার। এর সঙ্গে রয়েছে দুই পাশের ওআরভিএম বা আউটসাইড রিয়ার ভিউ মিররের জন্য ব্লাইন্ড ভিউ মনিটর। ফিচারটি ক্রিয়েটিভ ভ্যারিয়েন্ট থেকে পাওয়া যাচ্ছে। সিস্টেমটি গাড়ির চারপাশের দৃশ্য দেখানোর পাশাপাশি চালকের দৃষ্টিসীমার বাইরে থাকা অংশ সম্পর্কে বাড়তি তথ্য দিতে পারে। ফলে লেন পরিবর্তন বা পাশের যানবাহন সম্পর্কে সচেতন থাকার ক্ষেত্রে এটি সহায়ক হতে পারে। তুলনায়, হোন্ডা অ্যামেজে একটি সিঙ্গল-সাইড ব্লাইন্ড-স্পট ক্যামেরা ব্যবস্থা রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। টাটা অ্যারিসে দুই পাশের জন্য এই ব্যবস্থা দেওয়া হয়েছে। মারুতি সুজুকি ডিজায়ারে এই ফিচার নেই।

৫. সেগমেন্টের সবচেয়ে বড় ১০.২৫ ইঞ্চি ইনফোটেনমেন্ট স্ক্রিন

টাটা অ্যারিসে রয়েছে ১০.২৫ ইঞ্চির টাচস্ক্রিন ইনফোটেনমেন্ট সিস্টেম। এটি এই সেগমেন্টের সবচেয়ে বড় ইনফোটেনমেন্ট স্ক্রিন বলে দাবি করা হচ্ছে। ক্রিয়েটিভ ভ্যারিয়েন্ট থেকে এই ডিসপ্লে পাওয়া যাবে। তুলনায়, হোন্ডা অ্যামেজ এবং হুন্ডাই অরা-তে ৮ ইঞ্চির ইনফোটেনমেন্ট স্ক্রিন রয়েছে। মারুতি সুজুকি ডিজায়ারে রয়েছে ৯ ইঞ্চির ডিসপ্লে। ফলে স্ক্রিনের আকারের দিক থেকে অ্যারিস স্পষ্টভাবেই এগিয়ে রয়েছে। বড় স্ক্রিন নেভিগেশন, মিডিয়া কন্ট্রোল এবং অন্যান্য ইনফোটেনমেন্ট ফাংশন ব্যবহারের ক্ষেত্রে আরও সুবিধাজনক ইন্টারফেস দিতে পারে।

ডিজায়ারের সঙ্গে লড়াইয়ে ফিচারই হাতিয়ার

টাটা অ্যারিসের ডিজাইন টাটা মোটরসের নতুন স্টাইলিং ভাষার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। টিয়াগো থেকে অনুপ্রেরণা নেওয়া ডিজাইন এবং আধুনিক কেবিনের সঙ্গে পুরনো টিগরের পরিচিত মেকানিক্যাল প্যাকেজের বেশ কিছু উপাদান ধরে রাখা হয়েছে। তবে নতুন গাড়িটির সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হল ফিচারের তালিকা। ভেন্টিলেটেড ফ্রন্ট সিট, ডুয়াল স্মার্টফোন ডেক, বিল্ট-ইন ড্যাশক্যাম, ৩৬০-ডিগ্রি ক্যামেরা, দুই পাশের ব্লাইন্ড ভিউ মনিটর এবং ১০.২৫ ইঞ্চির ইনফোটেনমেন্ট স্ক্রিন অ্যারিসকে এই সেগমেন্টে আলাদা করে তুলেছে।

অন্যদিকে, মারুতি সুজুকি ডিজায়ার বিক্রির দিক থেকে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। ফলে টাটা অ্যারিসের কৌশল সরাসরি সেই বিক্রির ব্যবধান মুছে ফেলার বদলে ফিচার-সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতার মাধ্যমে ক্রেতাদের আকর্ষণ করা। ৫.২৯ লক্ষ টাকা প্রাথমিক দামে লঞ্চ হওয়া অ্যারিসের ক্ষেত্রে তাই প্রশ্নটা শুধু কতগুলি গাড়ি বিক্রি হবে তা নয়। কমপ্যাক্ট সেডান সেগমেন্টে ক্রেতারা কতটা বেশি ফিচার প্রত্যাশা করবেন, সেই প্রত্যাশার জায়গাটিও বদলে দিতে পারে এই নতুন মডেল।

Essential Business Intelligence, Sharp Market Insights, Practical Personal Finance Advice, Daily Fuel, Gold and Silver Prices and Latest Stories — On Kolkata24x7 Business.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *