Manchester City Charges: ১১৫টি অভিযোগে বিদ্ধ ম্যানচেস্টার সিটি, বিতর্কের মাঝে মুখ খুললেন ক্লাবের চেয়ারম্যান! | 115 Charges, 114 Guilty! Man City Faces Premier League Expulsion, Trophy Stripping
ম্যানচেস্টার : ভয়ঙ্কর অভিযোগে বিদ্ধ ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটি। ২০০৯ থেকে ২০১৮ সাল অবধি এই বৃহৎ সময়ের আর্থিক অনিয়ম সংক্রান্ত প্রিমিয়ার লিগের ১১৫টি অভিযোগের ১১৪টি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়েছে ম্যান সিটি। তবে এখনও ক্লাবটির বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে, সেই নিয়ে বিশদে কিছু জানা যায়নি। সম্ভাব্য শাস্তির মধ্যে আছে পয়েন্ট কেটে নেওয়া, বড় অঙ্কের জরিমানা, প্রিমিয়ার লিগ থেকে বহিষ্কার বা এই সময়ের মধ্যে জেতা প্রিমিয়ার লিগ ট্রফি – সব কেড়ে নেওয়া হতে পারে। রায়ের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই আপিল করার প্রস্তুতি নিচ্ছে ম্যান সিটি।
এর মধ্যেই গতকাল, শনিবার সমর্থকদের উদ্দেশ্যে একটি খোলা চিঠি দিয়েছেন ম্যান সিটির চেয়ারম্যান খালদুন আল মুবারক। তিনি বলেছেন, “এই আইনি প্রক্রিয়া এখনও অনেক দূর যাবে ও ক্লাবের এই বিষয় সম্পর্কে অবস্থানে কোনও পরিবর্তন হবে না।” তিনি আরও জানান, আইনি প্রক্রিয়ার গোপনীয়তার কারণে এই মুহূর্তে তারা নিজেদের অবস্থানের পক্ষে কোনও তথ্য প্রকাশ করতে পারছেন না। যদিও ম্যান সিটি শুরু থেকেই যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করছে।
তিনি বলেন, “আমি এই ক্লাবের সঙ্গে ২০০৮ সাল থেকে যুক্ত। এই দায়িত্ব পেয়ে আমি গর্বিত। কিন্তু এই ঘটনার পর থেকে অনেকে আমাকে নানা প্রশ্ন করছেন। জানি, সমর্থকরা আমাদের পাশে আছেন। কিন্তু বিশ্বাস করুন, আমরা নির্দোষ। সব সত্যি প্রকাশ্যে আসবে। বিশ্বাস না হলে ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে দেওয়া আমাদের বিবৃতি পড়ুন। প্রতিটি শব্দ গুরুত্বপূর্ণ ও প্রতিটি কথাই এখনও সত্যি। কিছু মানুষ আচমকাই কিছু সিদ্ধান্তে নিজে থেকেই পৌঁছে যান ও সেটা নিয়ে কথা বলেন। যদিও, আমরা অনেক চ্যালেঞ্জ আগেও মোকাবিলা করেছি এবং সেই সমস্যাগুলো থেকে বেরিয়েও এসেছি।”
প্রধান অভিযোগগুলি কী কী?
১- সঠিক আর্থিক তথ্য ও হিসাব দিতে ব্যর্থ হওয়া অর্থাৎ, আর্থিক গরমিল।
২- খেলোয়াড় ও কোচদের অর্থ দেওয়ার বিষয়ে সঠিক তথ্য না দেওয়া।
৩- উয়েফার আর্থিক ফেয়ার প্লে নিয়মভঙ্গ করা।
৪- প্রিমিয়ার লিগের লাভ ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত নিয়ম লঙ্ঘন করা।
২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ম্যান সিটির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ আনে প্রিমিয়ার লিগ কর্তৃপক্ষ। দীর্ঘ প্রস্তুতির পর ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময়ে শুনানি শুরু হয় ও একই বছর ডিসেম্বরে শুনানি শেষ হয়। ৩ বছরেরও অপেক্ষার পর অবশেষে শুক্রবার, বহুল প্রতীক্ষিত রায় প্রকাশ্যে আসে। ১১৫টি অভিযোগের মধ্যে ১১৪টি অভিযোগই সত্য বলে প্রমাণিত হয়েছে। তবে বিষয়টি এখানেই শেষ হবে না। ম্যান সিটির আপিল ও সম্ভাব্য শাস্তি – দুই বিষয়েই আরও দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া অপেক্ষা করছে বলে জানা গিয়েছে।