পোড়া গন্ধ নিয়ে চালককে সতর্ক করেছিলেন যাত্রীরা, তবু থামেনি বাস! গ্রেটার নয়ডায় ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য - 24 Ghanta Bangla News
Home

পোড়া গন্ধ নিয়ে চালককে সতর্ক করেছিলেন যাত্রীরা, তবু থামেনি বাস! গ্রেটার নয়ডায় ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য

Spread the love

গ্রেটার নয়ডার যমুনা এক্সপ্রেসওয়েতে চলন্ত স্লিপার বাসে ভয়াবহ আগুনের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯। দিল্লি থেকে মহোবার দিকে যাচ্ছিল বাসটি। রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ প্রায় ৩০-৩৫ জন যাত্রী নিয়ে বাসটি এক্সপ্রেসওয়ের ৩৩ কিলোমিটারের কাছে পৌঁছতেই বিপত্তি। আগুন দ্রুত গোটা বাসে ছড়িয়ে পড়ায় কয়েক জন প্রাণ বাঁচাতে চলন্ত বাস থেকেই ঝাঁপ দেন। ঝলছে মৃত্যু হয়েছে ৯ জনের। তবে দুর্ঘটনার পরে সামনে এসেছে আরও কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য। আগুন লাগার আগে বাস থেকে পোড়া গন্ধ পাচ্ছিলেন যাত্রীরা এবং বিষয়টি চালক ও কন্ডাক্টরকে জানানোও হয়েছিল। কিন্তু তাঁরা গুরুত্ব দেননি বলে অভিযোগ। যাত্রীদের অভিযোগ, সময় মতো বিষয়টি দেখলে এড়ানো যেত এই দুর্ঘটনা।

আগুনের সূত্রপাত কোথা থেকে?

এই মুহূর্তে আগুনের কারণ এখনও নিশ্চিত ভাবে জানা যায়নি। তবে প্রাথমিক ভাবে অনুমান, বাসের এসিতে বিস্ফোরণের কারণেই ছড়িয়ে পড়ে আগুন। জ্বলন্ত অগ্নিকুণ্ড থেকে বেঁচে ফেরা বাসের একাধিক যাত্রীর কথায়, আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল বাসের সামনের অংশে। এক যাত্রী জানিয়েছেন, প্রথমে বাসের চালকের কেবিনের দিক থেকে পোড়া গন্ধ আসছিল। কয়েক জন যাত্রী সেই গন্ধের কথা চালক ও কন্ডাক্টরকে জানান। কিন্তু ঘটনার FIR অনুযায়ী, চালক যাত্রীদের এই কথায় আমল দেননি। পাল্টা দাবি করেছিলেন, বাসে এমন গন্ধ প্রায়ই হয়। অভিযোগ, এর পরেও বাস থামিয়ে যান্ত্রিক সমস্যা খতিয়ে দেখা হয়নি। বরং চালক ও কন্ডাক্টর কেবিনে বসে ধূমপান করছিলেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। কিছুক্ষণের মধ্যেই চালকের আসনের কাছ থেকে আগুনের লেলিহান শিখা বেরিয়ে আসে। যাত্রীদের একাংশের অনুমান, ধূমপান থেকেও আগুন লেগে থাকতে পারে। সমস্ত দিকই খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

আগুন লাগলেও, থামেনি বাস

আগুন ছড়িয়ে পড়ার পরেও যাত্রীরা চালককে বাস থামানোর জন্য চিৎকার করতে থাকেন। FIR-এ এক যাত্রীর অভিযোগ, বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও চালক ও কন্ডাক্টর প্রথমে বাস থামাতে চাননি। এমনকী যাত্রীদের ভয় দেখানোর অভিযোগও উঠেছে। FIR-এ যাত্রীদের অভিযোগ অনুযায়ী, আগুনের প্রাথমিক লক্ষণ দেখা যাওয়ার পর দ্রুত বাস থামিয়ে যাত্রীদের নামিয়ে দেওয়ার পরিবর্তে বাস চলতে থাকায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। এই অভিযোগই এখন তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

এর মধ্যেই বাসের ভিতরে ঘন ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে। পিছনের দিকে থাকা যাত্রীরা সামনে কী হচ্ছে, তা বুঝতেই পারছিলেন না। অনেকে জানলা দিয়ে বেরিয়ে প্রাণ বাঁচানোর চেষ্টা করেন। এক মহিলা যাত্রী জানিয়েছেন, তিনি ঘুমিয়ে ছিলেন। হঠাৎ অন্য যাত্রী তাঁকে আগুনের কথা জানালে কোনওমতে বাইরে আসেন তিনি। এমনকী জুতো পরার সময়ও হয়নি। শুধু ফোনটি নিয়ে কোনও রকমে বাস থেকে বেরিয়ে আসেন তিনি।

আগুন এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে যে কিছু যাত্রী বেরিয়ে আসার সুযোগই পাননি। দমকল বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। দুর্ঘটনায় ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ মৃতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন এবং আহতদের যথাযথ চিকিৎসার নির্দেশ দিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *